নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট
চিকিৎসায় দেশের মানুষের নির্ভরতার নাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে চিকিৎসা নেন। পাশাপাশি দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ঢামেক।
তবে দেশের মানুষের চিকিৎসার আস্থার এই প্রতিষ্ঠানটি নিজেই এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। পুরোনো ও জীর্ণ ভবন, আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় ঢামেকের অবকাঠামোগত পরিস্থিতি অনেকটা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ঢামেককে নতুন রূপে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাসমূহ প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ’ প্রকল্পটি এক হাজার ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) নয় হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) সম্প্রসারণ, উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান একাডেমিক ভবন ও হোস্টেলগুলো মেরামতের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার সুযোগ বাড়াতে একাডেমিক ভবন, হোস্টেল, লেকচার থিয়েটার, এক্সাম হল, প্রার্থনা কক্ষ ও অডিটোরিয়ামসহ আধুনিক সব সুবিধা রাখা হবে। এসব সুবিধা নিশ্চিত করে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে স্থাপত্য অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত অবকাঠামো
ঢাকা মেডিকেল কলেজকে আধুনিকায়নে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা আবাসিক কোয়ার্টার ভবন, একটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ৮০০ আসনের শিক্ষার্থী হোস্টেল, বেজমেন্টসহ ১৫ তলা একাডেমিক ভবন, ৩০০ আসনের চারটি লেকচার থিয়েটার, ৩০০ আসনের দুটি পরীক্ষা কক্ষসহ চারতলা সার্ভিস ভবন, ৮০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতার চারতলা মসজিদ, অন্যান্য অনাবাসিক ভবন ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বাউন্ডারি ওয়াল, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও কালভার্ট, সেন্ট্রি পোস্ট, ওয়াকওয়ে, ফুটপাত ও কম্পাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করা হবে।
এছাড়া ‘ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ফর স্মার্ট মেইনটেন্যান্স টেকনোলজি ফর ব্রিজেস আন্ডার রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে ডিপার্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’, ‘ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন হতে লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলা রক্ষা’, ‘চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট এবং বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ’, ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ’, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদারকরণ (তৃতীয সংশোধিত)’, ‘জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ এবং ‘ঢাকাস্থ ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
এছাড়া ‘রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
Posted ৫:৫১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd