বৃহস্পতিবার ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

কলকাতার হোটেলে আগুন, মরদেহের অপেক্ষায় সাতক্ষীরার দুই পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট

কলকাতার হোটেলে আগুন, মরদেহের অপেক্ষায় সাতক্ষীরার দুই পরিবার
image_pdfimage_print

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের দুজন নিহত হন। মরদেহের অপেক্ষায় দুই পরিবার।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বরেয়া গ্রামে নিহত আলিমুজ্জামান সাজুর (৪৫) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। কয়েক দিন আগেও যে বাড়িতে ছিল স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, সেখানে এখন শুধুই শোক আর অপেক্ষা।

আলিমুজ্জামান সাজু মৃত ইউনুচ সরদারের ছেলে। পেশায় তিনি ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। চিকিৎসার জন্য প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে যান। কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, পাঁচ-ছয়দিন আগে আমার ভাই চিকিৎসার জন্য ভারতে যায়। হঠাৎ টেলিভিশনে দেখি কলকাতার একটি হোটেলে আগুন লেগেছে। পরে জানতে পারি, ওই হোটেলেই আমার ভাই অবস্থান করছিল। একজন আত্মীয়কে সেখানে পাঠানো হয়। পরে ছবির সঙ্গে মরদেহের মিল পাওয়ার পর নিশ্চিত হই, আমার ছোট ভাই আর নেই।

তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে আকুল আবেদন, আমার ভাইয়ের মরদেহটা যেন দ্রুত দেশে এনে আমাদের কাছে দেওয়া হয়। আমরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে চাই।

অন্যদিকে, একই অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন কালিগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার (৩৬)। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে তালা ঝুলছে। চারপাশে নীরবতা। পরিবারের সদস্যরা ভারতে অবস্থান করায় বাড়িটি যেন আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে।

রেবতীর স্বামী ভবেশ সরকার। তাদের ছেলে অনিক সরকার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে এবং মেয়ে ত্রিশা সরকার ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন। তারা বর্তমানে উত্তরাখণ্ডে অবস্থান করছেন।

রেবতীর স্বজন তপন সরকার বলেন, রেবতী আমার বৌদি। গতকাল রাতে বৌদির ছেলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে একটি হোটেলে আগুন লেগে বৌদি মারা গেছেন। দাদা বাংলাদেশে ছিলেন, তবে এখন তার সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, দাদা-বৌদির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, তারাও ভারতে আছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি কীভাবে এই শোক সামলাবে, সেটাই এখন বড় চিন্তার বিষয়।

চিকিৎসার জন্য প্রিয়জনদের ছেড়ে ভারতে গিয়েছিলেন সাজু ও রেবতী। পরিবারের আশা ছিল, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরবেন তারা। কিন্তু সেই অপেক্ষা এখন পরিণত হয়েছে মরদেহ ফেরার অপেক্ষায়।

স্বজনদের কান্না আর আহাজারির মধ্যে এখন একটাই দাবি, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে কলকাতা থেকে তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দিক। শেষবারের মতো মুখটি দেখে, নিজ হাতে মাটি দিয়ে আপনজনকে বিদায় দিতে চান তারা।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে মরদেহ দুটি দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:৪৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

Desh Arthonity |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
প্রধান সম্পাদক
তুহিন ভূঁইয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আজাদুর রহমান
Contact

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

Phone: 01718-742422, 01911-539414

E-mail: desharthonity@gmail.com

Lk Cyber It Bd