বৃহস্পতিবার ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

রাজধানীতে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা লুট: মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৪৮ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট

রাজধানীতে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা লুট: মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৪৮ লাখ টাকা
image_pdfimage_print

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকার ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৪৮ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০ টায় রাজধানীর ডিএল ফিলিং স্টেশনের এক কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে লাল রঙের ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সশস্ত্র ডাকাত দল পথরোধ করে এই অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর র‍্যাবের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারিতে এই সংঘবদ্ধ ডাকাতির নেপথ্যের সব তথ্য বেরিয়ে আসে। ডাকাত দলের সদস্য কাওসার গাড়িতে তেল তোলার কাজে ডিএল ফিলিং স্টেশনে যাওয়া-আসার সুবাদে সেখানকার এক কর্মীর মাধ্যমে একটি বড় অংকের টাকা ব্যাংকের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে পারে। ।

ডাকাতির পরিকল্পনার বিষয়ে উইং কমান্ডার বলেন, পূর্বে কুমিল্লায় একটি স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় জেলে থাকাকালীন সময়ে ১৮টি মামলার আসামি ডাকাত হাকিমের সঙ্গে কাওসারের পরিচয় হয়। হাকিম জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে তারা ডাকাতির পুরো পরিকল্পনা তৈরি করে। ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ গত ২ আগস্ট মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, কাওসার ও ডাকাতি বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা একসঙ্গে ডিএল ফিলিং স্টেশনে যায় এবং পুরো এলাকাটি নিখুঁতভাবে রেকি করে।

মাঠপর্যায়ে এই ডাকাতি বাস্তবায়নের জন্য হাকিম ও কাওসার ছাড়াও আরও ৭ জন জড়িত ছিল। যাদের মধ্যে ৬ জন তিনটি মোটরসাইকেলে করে সরাসরি ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে এবং ফিলিং স্টেশনের কাছে ১ জন তথ্যদাতা হিসেবে উপস্থিত থাকে।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, মুস্তাফিজ নামের ওই তথ্যদাতা ঘটনার সময় ফিলিং স্টেশনের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। টাকা নিয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে গাড়ি রওনা দিয়ে দিয়েছে এই তথ্যটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সে বাকি ডাকাত দলকে জানায়। পরে রাজধানীর বিমানবন্দর থানাধীন ক্রাউন প্লাজার সামনে গাড়িটি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ডাকাত দল তিনটি মোটরসাইকেলে করে গাড়ি আটকায় এবং গাড়িতে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ডাকাত দল এক কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতি করে। ডাকাতি সফল হওয়ার পর তারা নিজেদের মধ্যেই টাকাগুলো ভাগ করে নেয়।

তিনি বলেন, ডাকাতির মূল সর্দার জলিল মোল্লা ৫৩ লাখ টাকা তার কাছে রাখে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ডাকাতির সময় সে মোটরসাইকেলে ছিল এবং তার হাতে একটি পিস্তল ছিল। তার আরেকজন সহযোগী ছিল সাগর বোরাক। সে ১৪ লাখ টাকা নেয়, ডাকাতির সময় তার হাতেও পিস্তল ছিল। ইতোমধ্যে ডিবি তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডাকাতির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে উইং কমান্ডার বলেন, মুস্তাফিজের কাছে ১৪ লাখ টাকা ছিল। ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অপর সহযোগীদের মধ্যে শওকত হোসেন দিপু, সোহেল, আলী ও অজ্ঞাতপরিচয় একজন সহযোগীসহ প্রত্যেকে ১০ লাখ টাকা করে পায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ঘটনার সময় আলীর হাতে চাপাতি ছিল। অজ্ঞাতপরিচয় ওই সহযোগীকে শওকত হোসেন দিপু ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, হাকিম এবং কাওসারের টাকার ভাগ জলিলের কাছে ছিল। পরে জলিল সেই টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ সংক্রান্ত তথ্যগুলো জলিলের কাছ থেকে পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য পরিপূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ডাকাতির তদন্ত চলাকালীন পূর্বের দুটি মামলার নথি যাচাইয়ের ভিত্তিতে হাকিমকে গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তার বাসা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, পুলিশের ব্যবহৃত দুটি হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়ারলেস সেট উদ্ধার করে র‍্যাব। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট সকালে উত্তরা থেকে কাওসারকে এবং ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জলিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার চারবাগ মধ্যপাড়া এলাকা থেকে জলিলের কাছে থাকা ৫৩ লাখ টাকার মধ্য থেকে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জলিল স্বীকার করে, প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে সংগঠিত ১৭ লাখ টাকার একটি ডলার ডাকাতির ঘটনাতেও সে এবং তার চক্র জড়িত ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৯ আগস্ট তুরাগ থানার কামারপাড়া ফলের আড়তে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত চক্রের ১২ সদস্যকে চাঁদা আদায়ের সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে র‍্যাব জানতে পারে, চক্রটি প্রতিদিন ফল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করত। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ভ্যান, রিকশা ও কাভার্ডভ্যান আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। অভিযানের সময় চাঁদা হিসেবে আদায় করা ১১ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, গত এক মাসে র‍্যাব দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৪টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এসব ঘটনায় ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে ৬৫টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩৯টি বিদেশি অস্ত্র রয়েছে।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, মানবাধিকার রক্ষা, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ চিহ্নিত ও প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব ভবিষ্যতেও আরও দৃঢ়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:১০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

Desh Arthonity |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
প্রধান সম্পাদক
তুহিন ভূঁইয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আজাদুর রহমান
Contact

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

Phone: 01718-742422, 01911-539414

E-mail: desharthonity@gmail.com

Lk Cyber It Bd