নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২০ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
বিশ্বরেকর্ড গড়ে জয়ের হাতছানি ছিল পাকিস্তানের সামনে। গোটা দুই দিন আর ১০ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ছোঁটা পাকিস্তান সেপথে এগুচ্ছিলোও। তবে সেই স্বপ্নে ধাক্কা দিয়ে উল্টো ইতিহাসের হাতছানি পাচ্ছে বাংলাদেশই। প্রথম দুই সেশনে ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার পর তৃতীয় সেশনে বাংলাদেশের বোলারদের ভোগাচ্ছিলেন সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এমন সময় ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন তাইজুল ইসলাম। শেষবেলায় নতুন বল হাতে নিয়ে সালমানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের শতরানের জুটি ভাঙার পর হাসান আলীকেও সাজঘরে ফেরালেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙাই শুধু নয়, পরের ওভারে তাইজুল এনে দিলেন আরও একটি উইকেট। শেষ বিকেলের মরে আসা আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা। পাকিস্তানের সান্ত¡না বলা চলে, ম্যাচ পঞ্চম দিনে নিতে পারা।
সিলেট টেস্ট জিতে প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন আর ৩ উইকেট। অবিশ্বাস্য কিছু ঘটিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিতলে হলে সফরকারীদের প্রয়োজন আরও ১২১ রান। ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ছুটে পাকিস্তান চতুর্থ দিন শেষ করে রানে ৭ উইকেটে ৩১৬ রানে। অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজমের ৯২ এবং রিজওয়ান ও সালমানের ১৩৪ রানের দুটি জুটির সৌজন্যে লড়াইয়ে টিকে আছে। শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মাদ রিজওয়ান দিন শেষে অপরাজিত ৭৫ রানে। সাজিদ আছেন ৮ রানে। শান মাসুদ ও সালমান আগা দুজনেই আউট হন ৭১ রান করে। এদিন স্বাগতিকদের বোলিংয়ের মূল নায়ক টেস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক তাইজুল। ৩১ ওভারে তিনটি মেডেনসহ ১১৩ রানে তার শিকার ৪ উইকেট। গতিময় তরুণ পেসার নাহিদ রানা ১৪ ওভারে দুটি মেডেনসহ ৫৮ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। বাকিটি গেছে মেহেদী হাসান মিরাজের ঝুলিতে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার দ্বিতীয় ওভারেই আসে সাফল্য। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দলকে কাক্সিক্ষত ব্রেক থ্রু পাইয়ে দেন তাইজুল। তার আর্ম বল সালমানের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে আঘাত হানে স্টাম্পে। ভাঙে ২২৪ বল স্থায়ী পাকিস্তানের ১৩৪ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। সালমান ১০২ বলে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৭১ রানে আউট হন। তেতে ওঠা তাইজুল নিজের পরের ওভারেই ধরেন আরেক শিকার। তার অফ স্টাম্পের বাইরের বল হাসানের ব্যাট ছুঁয়ে যায় সিøপে। সেখানে ক্যাচ লুফে নিতে কোনো ভুল হয়নি শান্তর। ৬ বল খেলে হাসান রানের খাতা খুলতে পারেননি। দিনের বাকি ওভারগুলো কাটিয়ে দেন রিজওয়ান ও সাজিদ।
এর আগে দ্বিতীয় সেশনে ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তানের হয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়েন সালমান ও রিজওয়ান। ৭০ বলে এই জুটির রান স্পর্শ করে পঞ্চাশ। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে রিজওয়ানের পর সালমানও পৌঁছে যান ফিফটিতে। মাঝে দুজনের জুটির শতরান পূর্ণ হয় ১৬৭ বলে। এরপর যখন তারা ক্রিজে অটল দুর্গ গড়ে তুলেছেন বলে মনে হচ্ছিল, তখনই তাইজুল উইকেট শিকারে নেমে উল্লাসে মাতান বাংলাদেশকে।
জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দিয়েছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। টেস্টের দেড়শ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের কীর্তি টিকে আছে দুই দশকের বেশি সময় ধরে। এ ছাড়া যে তিনবার টেস্টে চার শর বেশি রান তাড়া হয়েছে, সেগুলোর সর্বশেষ ঘটনাটিও ১৮ বছর আগের। সাদা পোশাকের সংস্করণে পাকিস্তানের চারশর বেশি রান তাড়ায় সফলতার কোনো নজির নেই। সর্বোচ্চ ৩৭৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে দলটি জিতেছিল ২০১৫ সালে, পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। টেস্টে বাংলাদেশের মাটিতেও চারশ ছাড়ানো লক্ষ্যের পেছনে ছুটে জয়ের ঘটনা কখনও ঘটেনি। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯৫ রান করে জয়ী হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আর বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৬১ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে পাকিস্তানের। ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে ইনজামাম-উল-হকের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান সেই রান তাড়া করেছিল। পাশাপাশি এই পাকিস্তান দেশের বাইরে জিততেও ভুলে গেছে। সর্বশেষ দেশের বাইরে পাকিস্তান জিতেছে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, কলম্বোয়। এরপর হেরেছে টানা ৬ ম্যাচে।
Posted ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২০ মে ২০২৬
Desh Arthonity | Touch Tuhin
Lk Cyber It Bd