নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
সূত্র বলছে, এ ঘাটতি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থবছরের শেষ দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি বাড়লেও সব মিলিয়ে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার বড় ঘাটতির মুখে পড়তে পারে সরকার।
একদিকে রাজস্ব আদায়ে গতি মন্থরতা, অন্যদিকে বড় লক্ষ্যমাত্রা—সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র বলছে, এ ঘাটতি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থবছরের শেষ দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি বাড়লেও সব মিলিয়ে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার বড় ঘাটতির মুখে পড়তে পারে সরকার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “সর্বশেষ এপ্রিল মাসে রাজস্ব আদায় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। অথচ আগের বছরগুলোতে মাসভিত্তিক গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ।”
অর্থবছরের শুরুর মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি ভালো থাকলেও শেষ দিকে এসে তা কমে যায়। এর প্রভাব পড়েছে গত ১০ মাসের সার্বিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতেও।
এনবিআরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “গত সরকারের সময়ে সক্ষমতার তুলনায় বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং অর্থনীতিতে গতিমন্থরতার কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়েছে।”
তিনি বলেন, সরকারের রাজস্বের বড় অংশ আসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন থেকে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে এ খাত থেকে ভ্যাটসহ অন্যান্য রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। এতে রাজস্ব আদায়ের গতিও কমেছে।
তবে তার মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শেষ দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি আসতে পারে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যে বিশাল ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা কিছুটা কমতে পারে।
তিনি বলেন, “তারপরও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে।”
ভ্যাট আদায়ে পতন
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ এপ্রিল মাসে আমদানি শুল্ক ও আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১৮ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ থাকলেও ভ্যাট আদায় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ কমেছে।
এনবিআরের আদায়কৃত ভ্যাটের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে এডিপি বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি খাতের উৎসে কর আদায় কমে যাওয়ায় ভ্যাট আদায়ও কমেছে।
এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়ন শাখার সদস্য সৈয়দ মুশফিকুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “এডিপি বাস্তবায়ন কমে গেছে, যার কারণে ভ্যাট আদায়ও কমছে।”
তিনি বলেন, “মাঠপর্যায় থেকে আমরা যে তথ্য পাচ্ছি, তাতে দেখা যাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভ্যাট আসছে না। তবে অন্য কোন কোন খাত থেকে আদায় কমছে, পুরো চিত্র পাওয়া গেলে তা বোঝা যাবে।”
আগামী বছরও বড় লক্ষ্যমাত্রা
সরকার আগামী অর্থবছরে এনবিআর ও নন-এনবিআর মিলিয়ে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।
সিপিডির এক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের প্রাক্কলন করা হচ্ছে, সে বিবেচনায় আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াবে প্রায় ৪২ শতাংশ।
তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, “এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব হবে না।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০০৭-০৮ অর্থবছরে, যা ছিল ২৭ শতাংশ। কিন্তু আগামী অর্থবছরে সেই হারে প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিতে পারে।”
Posted ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
Desh Arthonity | Touch Tuhin
Lk Cyber It Bd