নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে আবারও পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে পাহাড়সংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে রোববার রাতেও সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল থাকায় এবং টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, শনিবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজ নিজ এলাকায় তদারকি করছেন।
তিনি বলেন, আকবরশাহ এলাকার ঝিল-১, ঝিল-২ ও ঝিল-৩, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড় এবং বেলতলীঘোনা পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, সমসাময়িক গৃহ নির্মাণ এলাকা, মিয়ার পাহাড় এবং মুরাদপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করা হচ্ছে। এসব এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান বলেন, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগানসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা এবং উত্তর হালিশহর সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায়ও মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এর মধ্যে রোববার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনার পর চট্টগ্রামেও সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও ঢালের নিচে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Posted ৮:০১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd