নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
বিদ্যুৎ ক্রাইসিস এবং ফুয়েল ক্রাইসিসের কারণে এই মুহূর্তে সোলার সিস্টেম জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এমন মন্তব্য করেন।
হাতেম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতে সোলার সিস্টেম ব্যবহারে নতুন বাস্তবতা তৈরি হলেও ব্যাটারি আমদানির বিধিনিষেধ এবং কাস্টমস জটিলতায় বাধার মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা।
ওই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, এতদিন নেট মিটারিং ব্যবস্থায় সোলার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে মাস শেষে বিল সমন্বয় করা হতো। কিন্তু বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানা চালু রাখতে সোলার সিস্টেমকে ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য ব্যাটারি স্টোরে
তিনি বলেন, দুই-তিন ঘণ্টার লোডশেডিং মোকাবিলায় সোলার জেনারেটর মোডে যেতে হলে ব্যাটারি প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আমদানি নীতিতে নমনীয়তা দরকার, যাতে আমরা বিদ্যুৎ ঘাটতি নিজেরাই মোকাবিলা করতে পারি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সোলার সিস্টেমের যন্ত্রাংশ আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। একটি প্রতিষ্ঠানের ৪ মেগাওয়াট সোলার প্রকল্পের জন্য আমদানি করা মাউন্টিং স্ট্রাকচার কাস্টমস ছাড় দিচ্ছে না, যদিও এ বিষয়ে পূর্বে একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা পোর্ট ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।
এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, এ ধরনের অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখব। একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন না হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন তিনি।
পোশাক খাতে সাব-কন্ট্রাক্ট ব্যবস্থার জটিলতাও তুলে ধরেন বিকেএমইএ নেতা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সাব-কন্ট্রাক্ট প্রয়োজন হলেও পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা থাকায় তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় না। এছাড়া এক ইউনিট থেকে অন্য ইউনিটে পণ্য পরিবহনের সময় ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, যেসব কার্যক্রমে জাতীয় অর্থনীতিতে বাস্তব মূল্য সংযোজন নেই, সেগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা রাখা হবে না। তবে সুবিধা পেতে হলে দেশের জন্য কীভাবে উপকার হচ্ছে তা প্রমাণ করতে হবে।
বিকেএমইএ তাদের বাজেট প্রস্তাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য উৎসে কর ০.৫ শতাংশে স্থির রাখার দাবি জানিয়েছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সাব-কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি প্রস্তাব জানিয়েছে বিকেএমই। পাশাপাশি কৃত্রিম তন্তু আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা এবং রিসাইকেলড ফাইবার উৎপাদনে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রয়েছে।
Posted ৩:০৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd