নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
সরকার জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারলে মূল্যস্ফীতির প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন বৈঠক শেষে দেশে ফিরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অনেক দেশ আগেই মূল্য সমন্বয় করেছে। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় দাম না বাড়িয়ে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেছে। তবে সরকারের তহবিলের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। এ পদক্ষেপকে তিনি প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই মূল্যস্ফীতি বাড়বে—এমন সরল সমীকরণ সব সময় প্রযোজ্য নয়। এটি সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আইএমএফের চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক ছাড়াও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব আলোচনা কোনো দাতব্য কার্যক্রম নয়; বরং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেন। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত গ্রহণ করা হবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই এমন কোনো শর্ত গ্রহণ করা হবে না, যা দেশের জনগণ, অর্থনীতি বা ব্যবসায়ীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে। আমাদের একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।
আইএমএফ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় এ কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল এবং এতে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সব শর্ত মেনে নিতে বাধ্য নয়। যেসব শর্ত দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলো গ্রহণ করা হবে না।
তিনি জানান, কর্মসূচিটির মেয়াদ আরো ছয়-সাত মাস রয়েছে। এরপর ভবিষ্যতে নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া হবে কিনা, সে সিদ্ধান্তও সরকার নিজেই নেবে।
শর্ত সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনা শেষ হওয়ার আগে এসব বিষয় জনসমক্ষে আনা সম্ভব নয়।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ, যা জনগণের কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বহুপক্কীয় সংস্থাগুলোও সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেয় এবং এ ধরনের কর্মসূচিকে সমর্থন করে।
তিনি আরো জানান, আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদল সামনে বাংলাদেশ সফর করবে এবং আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এসব সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।
সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনেক দিকেই সামঞ্জস্য রয়েছে। অতীতে অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম সরকার নিজস্ব উপায়ে সম্পন্ন করছে, যাতে সুশাসন নিশ্চিত হয় এবং জনগণ উপকৃত হয়।
অতিরিক্ত বৈদেশিক সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আগ্রহী বলেই আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে কী পরিমাণ সহায়তা পাওয়া যাবে, তা আলোচনা শেষ হওয়ার পরই নির্ধারিত হবে।
তিনি আরো বলেন, আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। আলোচনা যেখানে গিয়ে দাঁড়াবে, সেখান থেকেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব, এটা সম্পূর্ণ আমাদের সিদ্ধান্ত।
Posted ৫:২১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd