রবিবার ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

এপ্রিলে ১৬৮ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠালো প্রবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৩ মে ২০২৩ | প্রিন্ট

এপ্রিলে ১৬৮ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠালো প্রবাসীরা
image_pdfimage_print

ঈদের আগে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠান প্রবাসী বাংলা‌দে‌শিরা। কিন্তু এবার দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ঈদুল ফিতরের মাসে তুলনামূলক কম এসেছে রেমিট্যান্স। সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৬৮ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ রেমিট্যান্স হিসাবে এসেছে। এই অঙ্ক চলতি বছরের মার্চ ও আগের বছরের এপ্রিল এ দুই সময়ের তুলনায়ই কম।

মঙ্গলবার (২ মে) প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ১৬৮ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা) এ অর্থের পরিমাণ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এ অঙ্ক আগের মাসের চেয়ে ৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার কম। মার্চে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২ কোটি ২৫ লাখ ডলার। একই সঙ্গে আগের বছরের একই মাসের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কমেছে ৩২ কোটি ২৭ লাখ ডলার। আগের বছর ঈদুল ফিতরের সময় অর্থাৎ ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০১ কোটি ৮ লাখ ডলার।

ঈদের সময় হঠাৎ রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, সাধারণত ঈদের সময় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। এবারও মাসের প্রথম দিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশি ছিল। কিন্তু শেষ দিকে কমেছে। কেন রেমিট্যান্স কমল বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বলা হয়েছে। রেমিট্যান্স সার্বিকভাবে কমেছে নাকি বিশেষ কোনো দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে এটা দেখা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারব।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৩৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার এবং বিদেশী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বরাবরের মতো ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। আলোচিত সময়ে ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৪২ কোটি ২৩ লাখ ডলার। এরপর অগ্রণী ব্যাংকে ৯ কোটি ৮৩ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকে ৭ কোটি ৮১ লাখ, ডাচ্–বাংলা ব্যাংকে ৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলার ও সোনালী ব্যাংক ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার প্রবাসী আয়।

আলোচিত সময়ে সরকারি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংক, বিদেশি হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে কোন রেমিট্যান্স আসেনি।

২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৭৭১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৭৩০ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে প্রায় ৪১ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বেশি এসেছে।

২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে ডলার সংকট ও রেমিট্যান্স প্রবাহ কম থাকায় কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ। সবশেষ গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের রিজার্ভ ৩ হাজার ১০৬ কোটি ( ৩১ দশমিক ০৬ বিলিয়ন) ডলারে নেমে আসে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যদি রিজার্ভ হিসাব করা হয়, তাহলে রিজার্ভ আরও ৭ বিলিয়নের মতো কমে যাবে। সেই হিসাবে এখন প্রকৃত রিজার্ভ আছে ২৪ বিলিয়ন ডলার।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৩ মে ২০২৩

Desh Arthonity |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১  
প্রধান সম্পাদক
তুহিন ভূঁইয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আজাদুর রহমান
Contact

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

Phone: 01718-742422, 01911-539414

E-mail: desharthonity@gmail.com

Lk Cyber It Bd