নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিসুদ ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে অর্থনীতির গতি ফেরাতে শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে। শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এসময় ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতিসুদ (পলিসি রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।
গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭ শতাংশে ওঠা মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে তা এখরো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অবস্থান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারের কাঠামোগত সমস্যা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতিও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
মুদ্রানীতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি ও সারের সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।
ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নিরীক্ষা, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আইএফআরএস-৯ ভিত্তিক এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস (ইসিএল) কাঠামো বাস্তবায়ন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (আরবিএস) জোরদার এবং নতুন ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ ও ডিপোজিট প্রোটেকশন আইন-২০২৬ বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরা হয়।
এছাড়া খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তিতে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (ডামা) প্রণয়ন এবং অর্থঋণ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে আন্তঃপরিচালনযোগ্য ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এর মাধ্যমে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহজ ও নির্বিঘ্ন ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ এবং নতুন প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বাড়বে। তবে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, আর্থিক খাতের চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে।
Posted ৪:১২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd