নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ও স্বাদ ধরে রাখতে নদী পুনঃখনন, পানির প্রবাহ বাড়ানো, জাটকা নিধন বন্ধ এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধে জোর দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে জেলেদের শুধু খাদ্য সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) স্থানীয় স্ট্রেইন থেকে উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোট পক্স ভ্যাকসিন সিড প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ও ঐতিহ্যের অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে একই প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও পদ্মা-মেঘনার ইলিশের স্বাদ আলাদা। বাংলাদেশের পলিমাটির কারণেই ইলিশের বিশেষ স্বাদ তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইলিশের বিচরণ ও উৎপাদন বাড়াতে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক ও শক্তিশালী করা জরুরি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইলিশের বিচরণ করা প্রধান নদীগুলোতে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং হয়নি। সরকার এরই মধ্যে এসব নদী খননের প্রস্তাব দিয়েছে। নদী খননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ বাড়ানো গেলে ইলিশের বিচরণ ও উৎপাদন আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, ইলিশ স্রোতের বিপরীতে চলাচল করে। এ কারণেই ইলিশের স্বাদেও বিশেষত্ব আসে। তাই ইলিশের আবাসস্থল নদীগুলোতে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের বিষয়ে মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় নির্দিষ্ট মেয়াদে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। লাখ লাখ জেলেকে এ সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে।
তবে শুধু খাদ্য সহায়তা দিয়ে জেলেদের জীবনযাত্রা টেকসই করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, যেসব জেলের একমাত্র উপার্জনের উৎস মাছ ধরা, নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এ লক্ষ্যে জেলেদের এলাকায় পশুপালন, উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এতে নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
জাটকা নিধন বন্ধে এ বছর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আগের তুলনায় জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বছর জাটকা ধরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। আগামী মৌসুমগুলোতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইলিশের উৎপাদন ও বিচরণে দূষণকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ অত্যন্ত সংবেদনশীল মাছ। নির্দিষ্ট সময়ে সমুদ্র থেকে মিঠা পানির সংস্পর্শে আসে। নদীর পানিতে দূষণ বেড়ে গেলে ইলিশ ওই এলাকা থেকে সরে যেতে থাকে। তাই ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণও জরুরি।
কারেন্ট জাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কারেন্ট জাল আমদানি অনেক দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। মুন্সীগঞ্জে কয়েকটি কারেন্ট জাল তৈরির কারখানা চালু থাকার খবর পাওয়ার পর সেগুলোও বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধেও প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বছর বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল আটক করা হয়েছে। পরে সেগুলো ধ্বংস ও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, গতবারের তুলনায় এবার ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। উৎপাদন আরও বাড়াতে নদী ও খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে নদী ও খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইলিশের স্বাদ ও উৎপাদন ধরে রাখতে দেশীয় নদীগুলোর পানিপ্রবাহ, প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মৎস্যমন্ত্রী।
Posted ৪:০২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd