নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট
লোডশেডিং বন্ধ করে জনজীবন রক্ষা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বন্ধ এবং ভোলার গ্যাসসহ দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলা শাখা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তী। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য শহিদুল ইসলাম।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য ইমাম হোসেন খোকন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক, বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য শহিদুল শেখ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার আহ্বায়ক সুজন আহমেদসহ অন্যরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। বরিশালসহ সারাদেশে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষের প্রাত্যহিক জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির কারণে দেশে বারবার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, তালিকাভুক্ত ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬২টি জ্বালানি সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি গ্যাসভিত্তিক, ৩৩টি তরল জ্বালানিভিত্তিক এবং দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানির বড় একটি অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
বাসদ নেতারা বলেন, গত ২২ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ ১৭ শতাংশের বেশি কমে গেছে বলে তারা মনে করছেন। এতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দেশের সমুদ্রসীমা ও স্থলভাগে সম্ভাব্য দেশীয় গ্যাসসম্পদ থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
ভোলার গ্যাস প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, ভোলায় বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুত থাকার কথা বলা হলেও তা যথাযথভাবে উত্তোলন ও ব্যবহার করা হচ্ছে না। ভোলার গ্যাস বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতা অর্জনে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, আগের সরকার ভারতের সঙ্গে একতরফা সম্পর্কের মাধ্যমে রামপালের মতো পরিবেশবিধ্বংসী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি আমদানির দিকে এগোচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এর ফলে একদিকে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
এ সময় বিদ্যুৎ বিতরণ ও জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বেসরকারি কোম্পানিকে যুক্ত করার উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন বাসদ নেতারা। তারা বলেন, সরকারি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে লোডশেডিং বন্ধ করে জনজীবন স্বাভাবিক করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বন্ধ এবং ভোলার গ্যাসসহ দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবি জানানো হয়।
Posted ৩:১৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
Desh Arthonity | Touch Tuhin
Lk Cyber It Bd