নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বাড়াতে বিশেষ মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়, তৈরি পোশাকের কাঁচামাল আমদানি-রফতানি, লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
রবিবার (৪ অক্টোবর) উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের বৈঠকে এসব বিষয়ে বৈঠক হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম (অব.) এবং পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের সম্ভাবনা থাকলেও বিদ্যমান বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হলেও দেশটিতে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান থেকে পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল ও ডাইস আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন বিজিএমইএ সভাপতি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে জুট ইয়ার্ন ও ফার্মাসিউটিক্যালস রফতানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের পাটের সুতা ও ওষুধ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তানের বাজারে এসব পণ্যের রফতানি বাড়ানো গেলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।
বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার এসব প্রস্তাবের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয় বৈঠকে।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের রফতানিকারকদের নিয়ে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করলে দেশটির শীর্ষ আমদানিকারক, ব্র্যান্ড, ক্রেতা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বৈঠকের আয়োজন করা যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগের পাশাপাশি বিটুবি (বিজনেস-টু-বিজনেস) বৈঠক ও ম্যাচ-মেকিং সেশনের আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক কীভাবে আরও কার্যকর রাখা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ এলডিসি হিসেবে সাফটা কাঠামোর আওতায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এই সুবিধা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্যকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।
এ সময় দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর বিশেষ মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।
বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে লজিস্টিকস ও সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের সময় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বর্তমানে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে। বাণিজ্য বাড়াতে এ ক্ষেত্রে সময় ও পরিবহন-সংক্রান্ত বাধা কমানো প্রয়োজন।
টেক্সটাইল শিক্ষায় সহযোগিতার প্রস্তাব
টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এবং পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময়, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন।
দুই দেশের টেক্সটাইল প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং দক্ষতা বাড়াতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়বে।
Posted ৭:৪৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd