শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

পোশাক খাতের সহিংসতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধনের তথ্য রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট

পোশাক খাতের সহিংসতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধনের তথ্য রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
image_pdfimage_print

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে বোর্ড গঠনের পরও শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ও সহিংসতা অব্যাহত থাকার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছে সরকার। এ অস্থিরতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়ার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নাশকতার চেষ্টার আশঙ্কা, আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বলপ্রয়োগ, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর সংবাদপত্র ছেঁড়ার ঘটনা এবং আইজিপির বিতর্কিত বক্তব্য নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেছেন, জনগণের ওপর ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় সরকার। অপরদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষের কষ্ট হলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থ বিবেচনায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান।

মজুরি বোর্ডের পরও আন্দোলন, সহিংসতায় ভিন্ন উদ্দেশ্য দেখছে সরকার

পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পুনর্নির্ধারণ করা হতো। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অতীতের মজুরি পুনর্নির্ধারণের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এবার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় সরকার আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পোশাকশ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে। এ বাস্তবতা সরকার অস্বীকার করছে না। শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েই নির্ধারিত সময়ের আগে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে আন্দোলনের মূল দাবির বিষয়ে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে আন্দোলন প্রশমিত হওয়ার কথা। কিন্তু এরপরও যেভাবে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য দাবি রয়েছে এবং শুরুতে তারাও আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে আন্দোলনের মধ্যে কিছু ব্যক্তির সহিংস আচরণ প্রকৃত শ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না বলে সরকার মনে করছে।

২০২৬ সালে সংশোধিত শ্রম আইনে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা আগের পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর হয়েছিল। নতুন মজুরি নির্ধারণে গত ১ নভেম্বর বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন, আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা

পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক সহিংসতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এ বিষয়ে তথ্য রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি সীমান্তের ওপার থেকে অস্থিরতা সৃষ্টির কথা বলেছেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্তমানে স্বাভাবিক রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর অবস্থায় নেই। তবে দলটির নেতাকর্মীদের কাছে বিপুল অর্থসম্পদ রয়েছে। সেই অর্থ ব্যবহার করে দেশের কোথাও কোথাও নাশকতা বা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

এ ধরনের তৎপরতার সঙ্গে সাম্প্রতিক পোশাকশিল্পের সহিংসতার যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের জন্য ডিসেম্বরে বিশেষ কোনো পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর আসুক, ডিসেম্বর শেষ হোক। এরপর আমরা নিশ্চয়ই আবার এ কথা বলবো।’

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি সত্যিই ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসেন, তাহলে নিজের পূর্ববর্তী মূল্যায়ন ভুল ছিল বলে স্বীকার করবেন এবং ক্ষমাও চাইবেন।

এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই নির্বাচনে পরাজয়ের পর শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকারকে একদিনের জন্যেও শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘১৯৯১ সালে তিনি যদি ওই কথা বলতে পারেন, তাহলে এখন আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি না।’ তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনা ভবিষ্যতেও সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাতে পারেন। তবে সরকার এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে।

শেখ হাসিনা নিজে ফিরুন বা ফিরিয়ে আনা হোক, সরকারের চাওয়া একই

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার তার দেশে ফেরার পথ বন্ধ করতে চাইছে না। বরং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘উনি নিজে আসুন অথবা আমরা উনাকে ধরে নিয়ে আসি, আমাদের চাওয়া তো একই।’

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি হলে বিবেচনা করা হবে।

এ বিষয়ে আগাম সব সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে রাখা হয়নি বলেও জানান তিনি।

বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধীদের বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযোগ আনা হতো, বর্তমান সরকারের বক্তব্যকে একইভাবে দেখা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, একটি স্বৈরাচারী সরকার এবং একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণের মধ্যে পার্থক্য থাকবে। সরকারের বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে তার পরিণতিও সরকারকে বহন করতে হবে। সে কারণেই তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আন্দোলন দমনে আগের মতো বলপ্রয়োগ করতে চায় না সরকার

পোশাকশিল্পের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুলিশকে এমনভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও ভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে। শেখ হাসিনার সরকারের সময় আন্দোলন দমনে যেভাবে শক্তি প্রয়োগ করা হতো, বর্তমান সরকার সেই পদ্ধতিতে যেতে চায় না।

তিনি বলেন, পুলিশের বলপ্রয়োগের আইনি ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্নও আসতে পারে। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই আইনের বিধান, পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা এবং আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নীতি অনুসরণ করতে হবে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আন্দোলনে যারা অংশ নিচ্ছেন, তারা সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সময় এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রকৃত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির কারণে আন্দোলনের যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টি তাদের বোঝানো সম্ভব হলে আন্দোলন থেকে তারা সরে আসবেন। তখন অন্য কোনো গোষ্ঠীর পক্ষে সেই আন্দোলনকে ব্যবহার করে সহিংসতা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এলপিজির দাম বৃদ্ধি

রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এলপিজির দাম বাড়লে মানুষের ওপর কতটা চাপ পড়ে, সরকার তা বোঝে। তারপরও দেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মূল্য কম রাখতে সরকার ভর্তুকি দিতে পারে। কিন্তু আমদানিনির্ভর জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং রিজার্ভের ওপর চাপের বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে উৎপাদিত পণ্যে ভর্তুকি দেওয়া এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে ভর্তুকি দেওয়ার অর্থনৈতিক প্রভাব এক নয়। চলতি অর্থবছরের বাজেটের হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসেই প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

এলএনজি আমদানির ব্যয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সর্বশেষ প্রতি ইউনিট এলএনজি প্রায় ৩০ ডলারে কিনতে হয়েছে। অথচ ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের দাম ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ ডলারের মধ্যে ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে সরকারকে আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এতে আমদানিব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমাগত কমছে। অতিরিক্ত ভর্তুকির জন্য সরকারকে ঋণ নিতে হলে তার প্রভাবও শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে কিংবা নতুন অর্থের জোগান বাড়িয়ে ব্যয় নির্বাহ করলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে তা শেষ পর্যন্ত জনগণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আগের সরকারের আমলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সমালোচনা করলেও এখন সরকারের দায়িত্বে থেকে মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরছেন কেন, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তাঁর অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, কোনও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত যৌক্তিক কি না, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সময়ের অর্থনৈতিক সামর্থ্য, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকির ওপর। তিনি বলেন, অতীতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন অনিশ্চিত অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার কবে স্থিতিশীল হবে, সেটিও নিশ্চিত নয়। ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

আগের সময়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কেন অযৌক্তিক ছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে একই ধরনের সিদ্ধান্ত কেন যৌক্তিক হতে পারে, তা নিয়ে ভবিষ্যতে বিস্তারিত লেখার কথাও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে তাদের নাগরিকদের কয়েক দিনের খাবার ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ঘরে মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারেরও প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শুধু যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংঘাত নয়, সম্ভাব্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগ নিয়েও সরকার কাজ করছে। আগামী বছর শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঝুঁকি বিবেচনায় খাদ্য মজুত বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও জনগণকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবকিছু জানানো হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের ফেসবুক লাইভে দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার কপি ছেঁড়ার ঘটনা নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন ওঠে।

একজন সরকারি পদধারী ব্যক্তি প্রকাশ্যে একটি নিবন্ধিত সংবাদপত্রের কপি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানাতে পারেন কি না এবং এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাশেদ খান নিজেই তার আচরণের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি একাধিকবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টিতে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তিনি নিজেও এ সংক্রান্ত আলোচনা অনুসরণের চেষ্টা করেছেন।

সরকার রাশেদ খাঁনের আচরণকে সমর্থন করছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি পদে থেকেই নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে অন্য কোনও অবস্থান জানায়নি। তবে এটিকে সরকারের সরাসরি সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা না করার কথাও জানান তিনি। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার প্রয়োজন মনে করলে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বক্তব্য দেবে।

আইজিপির বিতর্কিত বক্তব্য: আপাতত নতুন কোনও পদক্ষেপ দেখছে না সরকার

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে আগের ব্রিফিংয়ে দেওয়া নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আইজিপি তার মূল বক্তব্য দেওয়ার পর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং বিতর্কিত বক্তব্যে অটল থাকেননি। বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইজিপির বিষয়ে তার আগের বক্তব্যের একটি অংশ ভুলভাবে শিরোনাম করা হয়েছে। তিনি এমন কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা বলেননি। যাতে মনে হয় প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আইজিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলেন, আইজিপি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার পর আগের অবস্থানে অটল থাকেননি। এ কারণে তার প্রতি অতিরিক্ত কঠোর হওয়া ঠিক হবে না। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। আইজিপির মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের মন্তব্য না করাই ভালো বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে।

তবে আইজিপি ইতোমধ্যে বিতর্কিত বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ায় আপাতত এ বিষয়ে নতুন কোনও পদক্ষেপের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

মিরপুরে পুলিশের বলপ্রয়োগ

রাজধানীর মিরপুরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সময় পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। এক সাংবাদিক অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সময় পুলিশ সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা দিয়েছে। এমনকি একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়ার পরও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দৃশ্য তিনি নিজেও দেখেছেন। কয়েকটি ক্ষেত্রে পুলিশের বলপ্রয়োগ তার কাছে মাত্রাতিরিক্ত মনে হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনা বর্তমান সরকারের সামগ্রিক নীতির প্রতিফলন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে দায়িত্ব পালন করেছে। ফলে কোথাও কোথাও পুরোনো আচরণ ও চর্চার ধারাবাহিকতা থেকে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে। অন্যদিকে পুলিশ যখন কোনও পরিস্থিতিতে অস্ত্র তাক করে, তখন তার সামনে থাকে নিজের দেশের নাগরিক।

তাই পুলিশের অস্ত্র ব্যবহার এবং বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশের বলপ্রয়োগের সীমা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে সময় তিনি পুলিশের জন্য কী ধরনের হুমকি তৈরি করেছিলেন, যার কারণে তাকে গুলি করতে হয়েছিল? এ প্রশ্নের জবাব থাকা প্রয়োজন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম শক্তি প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকতে পারে। কিন্তু সেই অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার নীতি মেনে চলতে হবে।

মিরপুরের ঘটনায় পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনও ভুল বা বাড়াবাড়ি হয়ে থাকলে তার যথাযথ তদন্ত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও তথ্য যাচাই করারও আহ্বান জানান তিনি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:২৮ পিএম | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

Desh Arthonity |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক
তুহিন ভূঁইয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আজাদুর রহমান
Contact

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

Phone: 01718-742422, 01911-539414

E-mail: desharthonity@gmail.com

Lk Cyber It Bd