নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বর্তমানে এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের সম্মানিত গ্রাহক, কর্মী ও স্টাফদের শ্রম ও অবদানে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি আজ অপপ্রচার, বিভ্রান্তি, প্রশাসনিক চক্রান্ত এবং মিডিয়া বিভ্রান্তির শিকার। অথচ, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ আজও বাংলাদেশে ইসলামী জীবন বীমার পথিকৃৎ হিসেবে আলো ছড়ায়।
এই সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সিইও মোঃ শহিদুল ইসলাম এক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। দেশের প্রতিটি থানা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে তিনি সঠিক তথ্য তুলে ধরেছেন এবং সরাসরি সাক্ষাৎ করে বাস্তব চিত্র উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র ও মিডিয়া অপপ্রচার:
গত এক বছর ধরে কিছু হলুদ সাংবাদিক এবং অব্যাহতিপ্রাপ্ত ইনহাউজ স্টাফরা এক ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে তাঁরা সাধারণ বীমা গ্রাহকদের মধ্যে ভয়ভীতি ও অনাস্থা সৃষ্টি করছে। মিডিয়ার অপব্যাখ্যা এবং অতিরঞ্জিত প্রতিবেদনগুলোর কারণে বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া, বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক পক্ষ ফারইষ্ট ইসলামী লাইফকে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। ফলস্বরূপ, কোম্পানির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং বীমা কর্মীদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অব্যাহত কর্মবিচ্যুতি ও কর্মী অসন্তোষ:
একটি বড় সংকট তৈরি হয়েছে ইনহাউজ স্টাফদের চাকুরি হারানো নিয়ে। বহু অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মী হঠাৎ অব্যহতি পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষোভকে পুঁজি করে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কোম্পানির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ম্যানেজমেন্ট ইতোমধ্যেই পুনর্গঠন এবং কর্মী পুনর্বহাল ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সঠিক চিত্র তুলে ধরার প্রয়াস: খোলা চিঠির মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন:
এই পরিপ্রেক্ষিতে, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও মোঃ শহিদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে একখানা খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন দেশের সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও বিভাগীয় কমিশনারদের নিকট। উক্ত চিঠিতে তিনি ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের প্রকৃত অবস্থা, চলমান মামলা-মোকাদ্দমার বিবরণ, গ্রাহকদের অধিকার ও কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
চিঠিটি শুধু প্রেরণ নয়; তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে রিসিভ করানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে কোম্পানিটি এই সংকট থেকে বের হয়ে আসতে প্রস্তুত এবং সচেষ্ট।
প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ:
শুধু চিঠির মাধ্যমে নয়, তিনি নিজেই সরাসরি প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে তিনি কোম্পানির পক্ষে থেকে প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ ও মামলা সংক্রান্ত ডকুমেন্টস নিয়ে বসবেন। লক্ষ্য, সকল বিভ্রান্তি দূর করে বাস্তবতা তুলে ধরা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনের ভুল ধারণা দূর করা গেলে কোম্পানির বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার অনেকটাই স্তিমিত হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
একটি সাহসী নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি:
সিইও (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম নিজের কর্মজীবনের বাকি ১২ বছর ফারইষ্ট ইসলামী লাইফকে একটি সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, যদি পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে সহযোগিতা করে, তবে আগামী ৩ বছরের মধ্যেই কোম্পানিটি তার পুরনো ঐতিহ্য ও আস্থা ফিরে পাবে।
তিনি বলেন— “আমার জন্য এটি শুধু একটি দায়িত্ব নয়, এটি একটি স্বপ্ন। আমি চাই এই কোম্পানি দেশের বীমা খাতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করুক। আমার অভিজ্ঞতা, নীতি ও স্বচ্ছতায় বিশ্বাস থাকলে ফারইষ্ট আবার গর্বিত ঐতিহ্যে ফিরবেই—ইনশাআল্লাহ।”
পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা ও অঙ্গীকার:
পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যেই কোম্পানির সংকট কাটিয়ে উঠতে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ মনে করে, একটি বীমা কোম্পানির মূল শক্তি হলো তার গ্রাহক ও কর্মীবাহিনী। এই ত্রিমাত্রিক সম্পর্ক—গ্রাহক, কর্মী এবং কোম্পানি—যতই দৃঢ় হবে, কোম্পানির অবস্থান ততই শক্তিশালী হবে।
এ কারণেই সিইও এর এই প্রত্যয়গ্রহণ নিছক দায়িত্ব পালনের চেয়েও বড় কিছু—এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার, যা জীবন বীমা খাতকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।
বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র ও সংকটের মাঝেও ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ এক নতুন সূচনার পথে। যে সাহস, বিচক্ষণতা ও পরিকল্পনার আলোকে সিইও মোঃ শহিদুল ইসলাম কোম্পানিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। যদি এই প্রয়াসে সকল পক্ষ আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসে, তবে আগামী দিনের ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ হবে আরো শক্তিশালী, বিশ্বস্ত ও ইরষণীয়।
দেশের জীবন বীমা খাতের ইতিহাসে ফারইষ্টের এই সংগ্রাম, সচেতনতা এবং সাহসিকতা এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে—ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, বীমা ব্যক্তিত্ব মো. শহিদুল ইসলাম বীমা সেক্টরে একজন সৎ দক্ষ ও বীমাবিদ হিসাবে অধিক পরিচিত। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ এই পদে যোগদান করার পূর্বে তিনি বেসরকারি খাতের আরও কয়েকটি বীমা কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের শীর্ষ পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এর আগে চাটার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি সর্বশেষ ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। । ২০২৩ সালের ২রা এপ্রিল অনুষ্ঠিত ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২৫৫তম পর্ষদ সভায় কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী পদে তার নিয়োগ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ও অনুমোদিত হয়েছিল । পর্ষদ সভার রেজুলেশনসহ তার নিয়োগ প্রস্তাব আইডিআরএ’র অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। একটি মহল থেকে তার শিক্ষা সনদ সম্পর্কে একটি ভুল তথ্য দেয়ায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ডেল্টা লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে তার নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করে নাই। মো. শহিদুল ইসলাম ইড্রার এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান। আদালত দীর্ঘ শুনানির পর তার শিক্ষা সনদ বৈধ ঘোষণা করে তার পক্ষে রায়। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তার শিক্ষা সনদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটে। কিন্তু এর আগেই মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কোম্পানি একজনকে নিয়োগ দেয়ায় এবং ইড্রা অনুমোদন করায় তিনি আর ডেল্টা লাইফে যোগদান করার সুযোগ পাননি। অবশেষে তিনি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে যোগদান করলেন।
Posted ৯:৩৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
Desh Arthonity | Touch Tuhin
Lk Cyber It Bd