এস.এম. কামাল | সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট
বৃক্ষরোপণকে টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সহায়ক টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণকে একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। শুধু চারা রোপণের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, রোপণের পর প্রতিটি চারার পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং টিকে থাকার হার নিশ্চিত করাও জরুরি।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালে সারাদেশে মোট ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্বভাবে উৎপাদিত চারা দিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ এবং নিজস্ব অর্থায়নে সংগৃহীত চারা দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ চারা রোপণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা নিজ নিজ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর বাইরে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এনজিও ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণ করেছে। এসব চারার স্থানিক তথ্য পাওয়া গেলে তা মূল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে সভায় জানানো হয়। আগামী ডিসেম্বর মাসে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপণের মাধ্যমে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলেও সভায় জানানো হয়।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে স্থানীয় আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ ও প্রতিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নদী, খাল, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও রেলপথের পাশের উপযোগী জমিতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। পাশাপাশি রোপিত চারার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ কিংবা অন্য কোনো কারণে কোনো চারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত তা প্রতিস্থাপন করতে হবে। বৃক্ষরোপণের পরবর্তী চার বছর কীভাবে এসব চারার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে পরিকল্পনা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগমসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ ও বন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মো. জামাইল বশীর জেবি, প্রকৌশলী শাহ আদনান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
Posted ৫:৫৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Desh Arthonity | Touch Tuhin
Lk Cyber It Bd