নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট
দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এ নীতিমালার মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে সারা দেশে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হলো।
কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রায় ২ কোটি নারী পরিবারপ্রধানকে সরাসরি জিটুপি (Government to Person) পদ্ধতিতে মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে লক্ষ্যভুক্ত দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। কর্মসূচিটির মূল দর্শন—‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’।
এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারকে একটি একক ও ডিজিটাল পরিচিতির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, ‘ওয়ান-আইডি’ হবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল ভিত্তি। এটি শুধু একটি পরিচিতি নম্বর হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো হিসেবেও কাজ করবে।
যেসব পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না
নীতিমালায় ফ্যামিলি কার্ডের নগদ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ নির্ধারণ করা হয়েছে। নিচের যেকোনো একটি শর্ত প্রযোজ্য হলে ব্যক্তি বা পরিবার এ সুবিধার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবে—
সরকার নির্ধারিত পিএমটি (Proxy Means Test) স্কোরের সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া পরিবার।
পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীরাও এ সুবিধার বাইরে থাকবেন।
মনোনীত নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অনুরূপ অবসর সুবিধা গ্রহণ করলে। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
পরিবারের কোনো সদস্যের নামে ৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের জাতীয় সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলে।
পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে। এর মধ্যে সিএনজি বা পেট্রলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও মাইক্রোবাস রয়েছে।
পরিবারের কোনো সদস্যের বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হালনাগাদ লাইসেন্সধারী ব্যবসা থাকলে।
পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে।
বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে। এছাড়া কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি সুবিধার বাইরে থাকবে।
একই সঙ্গে একাধিক সরকারি সুবিধা নয়
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের মনোনীত নারী পরিবারপ্রধান একই সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সমজাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে আর্থিক, খাদ্য বা অন্য কোনো সুবিধা নিতে পারবেন না।
কোনো নারীপ্রধান আগে থেকেই টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির সুবিধা পেয়ে থাকলে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে আগের সুবিধা বাতিল বা স্থগিত করা হবে।
একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা সমজাতীয় সরকারি নগদ সহায়তার ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ, ফ্যামিলি কার্ড চালু হওয়ার পর মনোনীত নারীপ্রধান একই সময়ে এসব কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারবেন না।
তবে মনোনীত নারীপ্রধান ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
Posted ৮:১১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
Desh Arthonity | Touch Tuhin
Lk Cyber It Bd