শুক্রবার ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

হবিগঞ্জে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কাটা-বিক্রি: বিএনপি নেতাসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট

হবিগঞ্জে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কাটা-বিক্রি: বিএনপি নেতাসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
image_pdfimage_print

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা, চুরি ও বিক্রির অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চুনারুঘাট থানায় সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে ১৯২৭ সালের বন আইনের (২০০০ সালে সংশোধিত) ২৬(১ক)-এর (খ) ও (ঘ) ধারায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৩৪।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটে তা চুরি ও কেনাবেচা করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বন বিভাগের অনুসন্ধানে এ ঘটনায় ২০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

সাতছড়ির মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মারুফ মিয়াকে। অন্য আসামিরা হলেন- মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম আবুল, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, চুনারুঘাট উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান, চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার এবং মিরাশী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ।

এ ছাড়া সাতছড়ির মামলায় আরও যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ গ্রামের মনান মিয়ার পুত্র কালা মিয়া; কাঠালবাড়ি গ্রামের আরজু মিয়ার পুত্র আব্দুল কুদ্দুস; মাবিস্তাপুর গ্রামের মোস্তফার পুত্র জসিম; গাজীপুর গ্রামের ওযায়ছ উল্লাহর পুত্র তাহির মিয়া; বদরগাজী গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর পুত্র আঃ জলিল মিয়া; করমপুর গ্রামের মৃত মকছুদ আলীর পুত্র রফিক মিয়া; করমপুর গ্রামের মৃত মকছুদ আলীর পুত্র হেলাল মিয়া; করমপুর গ্রামের মৃত মকছুদ আলীর পুত্র মকবুল মিয়া; এবং মাধবপুর উপজেলার ইটখোলা গ্রামের মৃত সানা উল্লাহর পুত্র মাসুম বিল্লাহ।

অন্যদিকে, একই দিনে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে গাছ কাটা, চুরি ও বিক্রির অভিযোগে বন কর্মকর্তা এইচ এম এরশাদ বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় ৪২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ৪২ জনের মধ্যে প্রথমে মূল হোতা হিসেবে সুমনের নাম রয়েছে। তিনি চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের পীরেরগাঁও (পীরপুর) গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। অন্য আসামিরা হলেন—রুবেল মিয়া, আব্দুর রহিমের ছেলে শাহীন, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কাছম আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫), সাহিদ মিয়া (৩০), সফিক মিয়া (২৭), তৈয়ব আলীর ছেলে রুবেল মিয়া (৩৫), মিশন মিয়া (২৫), আক্তার মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (২৮), আবু তাহেরের ছেলে পারভেজ মিয়া (২৪), অলি মিয়ার ছেলে সামিল মিয়া (২৫), ছলিম মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (২৪), তোলারজুম গ্রামের আব্দুল নুরের ছেলে আব্দুল করিম, মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে তাজুল ইসলাম আঞ্জাস (৩৫), মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে সিদ্দিক মিয়া (৩৮), মনাই মিয়ার ছেলে আরজু মিয়া (৩৫), সামসু মিয়ার ছেলে জাবির মিয়া (৩২), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে কাজল মিয়া (৩২), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে তাজুল মিয়া (৩০), জসিম আলীর ছেলে নূর আলী (২৬), আলপি মিয়ার ছেলে তৌকির মিয়া (৩২), মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে মিজানুর রহমান কয়াল (৩২), লুতু মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া (২৭), আব্দুল মালেকের ছেলে বিল্লাল মিয়া (৩৩), মৃত সুগা মিয়ার ছেলে আক্তার মিয়া (৩৫), মৃত আব্দুল জাহিরের ছেলে আব্দুল খালেক (৪০), ছাদু মিয়ার ছেলে মোশাহিদ মিয়া ওরফে কালে, মৃত আলতা মিয়ার ছেলে ফয়সাল আহমেদ তুহিন, লাল মিয়ার ছেলে মোতাব্বির, জাহাঙ্গীরের ছেলে আজাদ, আফছিরের ছেলে রুবেল, মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে একলাছ মিয়া, লাল মিয়ার ছেলে মাসুক এবং জানু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া।

সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন ও চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, ‘গাছ চুরির বিরুদ্ধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

এদিকে স্থানীয় এক বন্যপ্রাণী ও পরিবেশকর্মীরা সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি। তবে তদন্তের সময় কোনো নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

তবে মামলার আসামি করিম সরকার, শফিক মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইমজা নিউজকে তারা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে তাদের মামলায় জড়িয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

বন বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:৪৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

Desh Arthonity |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
প্রধান সম্পাদক
তুহিন ভূঁইয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আজাদুর রহমান
Contact

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

Phone: 01718-742422, 01911-539414

E-mail: desharthonity@gmail.com

Lk Cyber It Bd