বৃহস্পতিবার ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু, মরদেহ আনার খরচ দিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট

একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু, মরদেহ আনার খরচ দিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
image_pdfimage_print

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারের শেষ সম্বলটুকুও হারাতে হয়। এমনকি তিনজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসার মতো অর্থও ছিল না স্বজনদের হাতে।

এমন অসহায় অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে তিনি নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার জন্য পরিবারটিকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেন।নিহতরা হলেন- লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাদকয়া গ্রামের মাইদুল ইসলাম (৩৮), তার স্ত্রী বিউটি খাতুন (৩২) ও তাদের একমাত্র ছেলে মারুফ ইসলাম (৮)।

স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) একই হাসপাতালে মারা যায় তার আট বছর বয়সী ছেলে মারুফ ইসলাম। আর সোমবার (১০ আগস্ট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্ত্রী বিউটি খাতুন।

জানা গেছে, মাইদুল ইসলাম জীবিকার

তাগিদে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তার স্ত্রী বিউটি খাতুন ছিলেন গৃহিণী। তাদের একমাত্র সন্তান মারুফ ইসলাম স্থানীয় চাপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বন্দর থানার চাপাতলী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় সিগারেট ধরাতে গিয়ে গ্যাস লাইট জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরে থাকা মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও ছেলে মারুফ গুরুতর দগ্ধ হন।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাতে স্বজনরা জানান, বিস্ফোরণে মাইদুল ইসলামের শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ, বিউটি খাতুনের ৯০ শতাংশ এবং মারুফ ইসলামের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

মাইদুলের ভাই রুহুল আমিন বলেন, ‘চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে আমাদের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এলাকার মানুষও চাঁদা তুলে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার মতো টাকাও আমাদের কাছে ছিল না।’

পরিবারটির করুণ অবস্থার খবর জানতে পেরে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল তাদের পাশে দাঁড়ান। তিনজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার জন্য তিনি পরিবারটিকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, ‘পরিবারটির দুর্দশার কথা জেনে প্রতিমন্ত্রী মানবিক সহায়তা করেছেন। তার এই সহযোগিতা পরিবারের জন্য এই কঠিন সময়ে অনেক বড় সহায়তা।’

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:২৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

Desh Arthonity |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
প্রধান সম্পাদক
তুহিন ভূঁইয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আজাদুর রহমান
Contact

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

Phone: 01718-742422, 01911-539414

E-mail: desharthonity@gmail.com

Lk Cyber It Bd