বুধবার ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

এবার জিয়াউল আহসানের মিরপুরের বহুতল ভবনে দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট

এবার জিয়াউল আহসানের মিরপুরের বহুতল ভবনে দুদকের অভিযান
image_pdfimage_print

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক ও মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের মিরপুর ডিওএইচএস-এর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাদা স্বর্ণের অলঙ্কারসহ শত কোটি টাকার সম্পদের নথিপত্র মিলেছিল।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম জিয়াউল আহসানের বাড়িতে ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে আজ ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে দুদক। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

দুদক জানায়, আজ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ একটি টিম মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এর মিরপুর ডিওএইচএস’র ৩১ নম্বর রোডের ৫৪১ নম্বর বাড়ির লেভেল ৩ এর ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরির কার্যক্রম চালাচ্ছে।

গত ২০ জুলাই জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আবাসিক প্রকল্পের জয়িতা নামের ভবনে ৮ম ও ৯ম তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট তল্লাশি চালায়। যেখানে স্বর্ণ ও হোয়াইট গোল্ড, দামি আবাবপত্র, চেক বই, মানি রিসিট ও পোশাকসহ অন্তত শত কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

গত ২৭ জানুয়ারি সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ক্রোক করা (অ্যাটাচড) স্থাবর সম্পত্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন জেলা প্রশাসক এবং গণপূর্ত বিভাগকে ‘রিসিভার’ (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেয় আদালত। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম জিয়াউল আহসানের ক্রোক করা সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার নিয়োগের প্রার্থনা জানিয়েছিলেন।

২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রায় ৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৩৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক।

ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জিয়াউল আহসানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্পেস ইনোভেশন লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানের একটি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এআই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও এআই ল্যান্ডস্কেপ লিমিডেট নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জিয়াউল আহসানের ঢাকায় একটি আটতলাসহ পাঁচটি বাড়ি, একটি বাগানবাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাট ও ৩ হাজার ৩৩ দশমিক ৫১ শতাংশ জমি রয়েছে। এ ছাড়া তার দুটি জিপ গাড়ি, শেয়ারবাজারে পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ, এক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও সীমা লঙ্ঘন করে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার ব্যাংক হিসাবে জমা করার তথ্য রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে ১৬৪ দশমিক ৯১ শতাংশের প্লট, ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তারা এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অন্যদিকে জিয়াউল আহসান ও নুসরাত জাহানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সাজগোজ লিমিটেডের তিনজন পরিচালক তাদের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৬ ব্যাংকের ৮২টি হিসাবে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা জমা ও ৩৯০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। নুসরাত জাহানের ব্যাংক হিসাব থেকে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ব্যাংক হিসাবে ৯১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৫ টাকা ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যাংক হিসাবে ৩৭ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৫ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

২০১৭ সালে জিয়াউল আহসান অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে দুদক। ওই দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার সময় জিয়াউল আহসান ও তার পরিবার দুই লাখ মার্কিন ডলার মালয়েশিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পরিশোধ করেন। এছাড়া জিয়াউল আহসান অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে।

দুদক অনুসন্ধানকালে আরও জানতে পারে, জিয়াউল আহসান দুবাইয়ের ফাস্ট আবুধাবি ব্যাংক নামের একটি ব্যাংকের হিসাবে ২০ কোটি টাকা ও আরেকটি ব্যাংক হিসাবে ৭৫ কোটি টাকা পাচার করেছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংক হিসাবে ৭৫ কোটি টাকা ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংক হিসাবে বিপুল টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদক তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করে জিয়াউলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়াসহ অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৯ আগস্ট গুম-খুনের ‘মাস্টারমাইন্ড’, ফোনকলে আড়িপাতা, মানুষের ব্যক্তিগত আলাপ রেকর্ড ও ফাঁস করা সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত জিয়াউল আহসান, তার স্ত্রী-সন্তান এবং তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়া জিয়াউল সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কমান্ডো ও প্যারাট্রুপার ছিলেন। ২০০৯ সালে মেজর থাকাকালে তিনি র‌্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক হন। সেই বছরই তিনি পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হন এবং র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পান। র‌্যাবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই জিয়াউল আহসান হয়ে উঠেছিলেন গণমাধ্যমে পরিচিত নাম।

কর্নেল পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক করে তাকে র‌্যাবেই রেখে দেওয়া হয়। আর ২০১৬ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে জিয়াউল আহসানকে পাঠানো হয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালকের দায়িত্বে। ২০১৭ সালে এনটিএমসির পরিচালক করা হয় জিয়াউল আহসানকে। ২০২২ সালে সংস্থাটিতে মহাপরিচালক পদ সৃষ্টির পর তাকেই সংস্থাটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছিল।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:৩৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

Desh Arthonity |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১  
প্রধান সম্পাদক
তুহিন ভূঁইয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আজাদুর রহমান
Contact

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

Phone: 01718-742422, 01911-539414

E-mail: desharthonity@gmail.com

Lk Cyber It Bd