মঙ্গলবার ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

মালয়েশিয়াকে দ্রুত শ্রমবাজার খুলে দিতে, আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

মালয়েশিয়াকে দ্রুত শ্রমবাজার খুলে দিতে, আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
image_pdfimage_print

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাদের শ্রমবাজার যত দ্রুত সম্ভব খুলে দেওয়ার এবং আরও বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’য় মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য কল্যাণকর। আমি মান্যবর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ করেছি যেন আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা হয়।’

তারেক রহমান অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলোও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং সাশ্রয়ী; যেখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কর্মীদের খরচ হ্রাস পাবে। এসব বিষয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন।

বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগসংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই দলিলগুলো বিনিময় করেন।

পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান এবং আনোয়ার ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমরা উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দ্বিপাক্ষিক পরামর্শসহ বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছি।’

তিনি জানান, আলোচনায় আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন উচ্চ-মূল্যের খাত স্থান পেয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’র আলোচনা এগিয়ে নিতে একমত হয়েছেন। বাংলাদেশে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি মালয়েশীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি শক্তিশালী ম্যান্ডেট লাভ করেছে।

তিনি বলেন, ‘জনগণের বিপুল সমর্থনে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি। আমাদের এখনকার অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।’

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মালয়েশিয়া যে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।

তারেক রহমান বলেন, তারা আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ চায় এবং ‘আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। এছাড়া বাংলাদেশ আরসিইপি-তে  যোগ দিতে আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করেন।

উভয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় আমি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।’

দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগগুলো দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। আমরা আঞ্চলিক শান্তি এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করতে উন্মুখ।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই সফর রাজনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করেছিল এবং দুই দেশের শ্রম সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। এছাড়া ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সফর বন্ধুত্বকে আরও গভীর এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে বিস্তৃত করেছিল।

তারেক রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রথম যেসব ফোনকল পেয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কল।

তিনি বলেন, ‘তিনি (ইব্রাহিম) আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে এখানে আসতে পেরে আমি ও আমার স্ত্রী অত্যন্ত আনন্দিত।’

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করে তিনি মালয়েশীয় সরকার ও জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ডা. জোবায়দা রহমান এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারি বাসভবন ‘সেরি পারদানা কমপ্লেক্স’-এ রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন। সেখানে মালয়েশীয় শিল্পীরা বাংলা ও মালয় উভয় ভাষায় গানসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘পারদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মালয়েশীয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। গার্ড অব অনার পরিদর্শন শেষে উভয় প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ মন্ত্রিসভার সদস্য ও কর্মকর্তাদের একে অপরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত রবিবার রাতে কুয়ালালামপুর পৌঁছান।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:০২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

Desh Arthonity |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  
প্রধান সম্পাদক
তুহিন ভূঁইয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আজাদুর রহমান
Contact

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

Phone: 01718-742422, 01911-539414

E-mail: desharthonity@gmail.com

Lk Cyber It Bd