নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত সংবাদকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান কর্মস্থল থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বা ছাড়পত্র ছাড়া অন্য কোনো টিভি চ্যানেলে চাকরি নেওয়া যাবে না। অ্যাটকোর এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।
অ্যাটকোর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন চ্যানেলে যোগদানের আগে বর্তমান বা সর্বশেষ কর্মস্থল থেকে এনওসি নেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্দেশনা না মানলে তা প্রতিষ্ঠানের নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টির সমালোচনা করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতারা।
রাজনীতি ডট কমের সম্পাদক শরিফুজ্জামান পিন্টু বলেন, এই নির্দেশনা প্রত্যাহার করা উচিত। তার মতে, এটি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং কার্যত তাদের চলাচলের স্বাধীনতাকে সীমিত করবে।
নতুন নির্দেশনার কড়া সমালোচনা করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন বা কাজের পরিবেশ উন্নয়নের বদলে এমন নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অযৌক্তিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, চাকরিচ্যুত বা কম বেতনে কাজ করা সাংবাদিকদের সুরক্ষায় মালিকদের সংগঠনের ভূমিকা কোথায়?
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বলেন, এই বিজ্ঞপ্তি সরাসরি শ্রম আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর মতে, একজন কর্মীর চাকরি পরিবর্তনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং পদত্যাগের পর অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে এনওসি বাধ্যতামূলক করা বেআইনি ও শোষণমূলক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী সাংবাদিকরা নিয়ম মেনে পদত্যাগ করলেই অন্য হাউসে চাকরি নিতে পারেন, আলাদা কোনো ছাড়পত্রের প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, চাকরি হারানো সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে না।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা ও ইনক্রিমেন্ট পান না, আবার চাকরি পরিবর্তনেও বাধা দেওয়া হলে তা চরম অবিচার। তার মতে, মালিকদের উচিত শ্রম আইন অনুযায়ী সব সুবিধা নিশ্চিত করা, বাধা তৈরি করা নয়।
Posted ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Desh Arthonity | Touch Tuhin
Lk Cyber It Bd