নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রচার ও বিকাশে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ৭ দিনব্যাপী ‘এসএমই বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকালে মেলার উদ্বোধন করেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মেলা চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সামিম আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এসএমই খাত। এ খাতের বিকাশে সরকারের সহায়তা আরও বাড়ানো হবে। তিনি জানান, এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির তহবিল বর্তমান ৩০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মেলায় ১৫০টিরও বেশি স্টলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে হস্ত ও কারুশিল্প, পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ পণ্য, প্রস্তুত খাবার ও স্ট্রিট ফুড, কৃত্রিম গয়না, চামড়াজাত পণ্য এবং বিভিন্ন লাইফস্টাইল পণ্য।
আয়োজকরা জানান, বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পরিবার ও দর্শনার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করাই এ মেলার লক্ষ্য। এটি শুধু কেনাকাটার আয়োজন নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উৎসব।
মেলায় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) উপলক্ষে সকাল ৮টা থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে। প্রতিদিন থাকছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন। উদ্বোধনী দিন ১২ এপ্রিল মনিপুরি নৃত্য ও গম্ভীরা গান পরিবেশিত হয়। ১৩ এপ্রিল শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা এবং কুদ্দুস বয়াতির গান থাকছে। পহেলা বৈশাখে থাকছে সোহান আলী, ওশান মিউজিক ক্রু, নৃত্যছায়া ও বাউল সংগীতের পরিবেশনা।
এছাড়া মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, ফেস পেইন্টিং, টিয়া পাখির মাধ্যমে ভাগ্য গণনা, বানর খেলা, কিডস জোন, বেলুন শুটিং, রণপা, লোকজ নৃত্য, লাইভ টি-শার্ট পেইন্টিং এবং ঢাক-ঢোলের পরিবেশনা। টোকাই গ্রুপের লাইভ স্ট্রিট পারফরম্যান্সও মেলার একটি বিশেষ আকর্ষণ।
খাদ্যপ্রেমীদের জন্য রাখা হয়েছে ‘টেস্ট অব বাংলাদেশ’ কর্নার, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছে দেশের আটটি জেলার খাবারের স্টল।
মেলায় প্রবেশের জন্য সাধারণ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। এছাড়া ৭ দিনের জন্য এক্সপ্রেস টিকিট রাখা হয়েছে ২০০ টাকা, যার সঙ্গে পার্কিং সুবিধা রয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতভুক্ত। শিল্প খাতে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এ খাতে, যেখানে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি মানুষ কর্মরত।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২১ লাখ উদ্যোক্তা উপকৃত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী।
Posted ৮:১০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd