নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০২ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ন্যাশনাল টি কোম্পানি সরকার ও জনগনের যৌথ মালিকানাধীন সর্ববৃহৎ চা কোম্পানি। দুর্নীতি এবং অনিয়মের কারনে কোম্পানিটি এখন ধ্বংসের মুখে। সিলেট বিভাগে এই কোম্পানির ১২টি চা বাগান রয়েছে। শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেশ কয়েক মাসের মজুরি-বেতন বাকী। চলতি মুলধনের অভাবে বাগান ২০২৪ সালে প্রায় দুইমাস বন্ধ ছিলো। গত দুই অর্থ বছরে প্রায় ২শ কোটি টাকা লোকসান করা ন্যাশনাল টি কোম্পানি দুর্নীতিতে ভরা। মূলত কোম্পানিটির সার কেলেংকারীর মুল হোতা কাজী এমদাদুল হকের নানা অপকর্মে চরম বিপাকে পরেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানির ভবিষ্যৎ।
জানা যায় ২০২৩ সালে কোম্পানির ১২টি চা বাগানের জন্য ৩২৩ টন সার কেনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চা বাগানে ব্যবহারের জন্য ইউরিয়া ও এমওপি সার নিয়মানুযায়ী সরকারি সার কারখানা থেকে কেনার কথা থাকলেও সেখান থেকে না কিনে কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক কাজী এমদাদুল হক ও অপর দুইজন কর্মকর্তা অবৈধভাবে সার ক্রয়বাবদ সমুদয় টাকা ডিলারদের একাউন্টে জমা করেন এবং ৩ থেকে ৫ বছরের পুরোনো নষ্ট সারের ডেলিভারি গ্রহন করে বাগানগুলোতে সার প্রেরণ করার চেষ্টা করেন। কিন্ত বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে, বাকী সার আর গ্রহন করা হয়নি। বাগানে পৌঁছানো নিম্নমানের কিছু সার তড়িঘড়ি করে ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়। নিম্নমানের নষ্ট সারগুলো চা বাগানে ব্যবহার করার ফলে চা গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং উৎপাদন কমে যায়। বাকী সারের হদিস পাওয়া যায়নি। এ ব্যপারে সেসময় দৈনিক মানব জমিনে একটি রিপোর্টও প্রকাশিত হয়।
সার কেলেংকারী নিয়ে ব্যপক আলোড়ন সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ন্যাশনাল টি কোম্পানি বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে এবং সার ক্রয়ের দুর্নীতি প্রমানিত হয়। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ দায়ী ৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন এবং ফৌজদারি মামলা দায়েয়ের কথা বলা হয়।
উল্লেখ্য যে, এনটিসি’র ২০২৪ সালের ২৭ জুন তারিখের পরিচালনা পর্ষদের ৬৭৫তম বোর্ড সভার কার্যবিবরণী থেকে দেখা যায় যে, ন্যাশনাল টি কোম্পানির ২০২৪ সালের ৩২৩ টন (২য় কিস্তি) সার সংক্রান্ত দুর্নীতি বিষয়ক তদন্তে সুনির্দিষ্টভাবে ৩ জন কর্মকর্তাকে দায়ী করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফৌজদারি মামলা দায়ের করার সুপারিশ করে এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করার জন্য ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সৈয়দ মাহমুদ হাসানকে দায়িত্ব প্রদান করে। কিন্তু তিনি বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত বরখেলাপ করে উদ্দেশ্যমুলকভাবে কোম্পানির প্রতিকুলে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। তিনি সার কেলেংকারীর অভিযুক্ত মুল হোতা মহা-ব্যবস্থাপক কাজী এমদাদুল হক এবং আরেকজন কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র লাক্কাতুরা চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক জিলকার চৌধুরীকে চাকরিচ্যুত করেন। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহমুদ হাসান সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও আত্মসাতের জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ফৌজদারি মামলাও দায়ের করার কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। উক্ত ৬৭৫তম বোর্ড মিটিংয়ে কোম্পানির স্বার্থ সংরক্ষণ করে করা সিদ্ধান্তগুলো অমান্য করে, চাকুরীরত অবস্থায় সৈয়দ মাহমুদ হাসান এবং সাবেক জিএম মো: কেরামত আলী পিএফ এবং গ্রাচুইটির প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা কোম্পানির ফান্ড থেকে তড়িঘড়ি করে উত্তোলন করেন এবং নিজেদের চাকুরী চুক্তিভিত্তিক হিসাবে পরিবর্তিত করেন।
সার কেলেংকারীতে অভিযুক্ত কোম্পানির সাবেক জিএম কাজী এমদাদুল হক বিগত সরকারের আমলে ব্যাপক দলীয় প্রভাব বিস্তার করেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমানিত হবার পরেও তার বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষমতা অনেকের ছিল না সে সময়। সার ক্রয়কালীন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মুসা অনেক চেষ্টা করলেও কাজী এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে ব্যর্থ হন এবং হতাশ হয়ে পদত্যাগ করেন।
Posted ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০২ জুলাই ২০২৫
Desh Arthonity | Touch Tuhin
Lk Cyber It Bd