নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট
অন্যান্য খাতের মতো দেশের বীমা খাতও সংস্কার করা উচিত বলে মনে করেন জনতা ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক বেলাল আহমেদ। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিমত তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নাসির আহমাদ রাসেল।
বিআইএ’র নির্বাচনে প্রার্থিতা করতে ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বেলাল আহমেদ। সিলেটের বিশিষ্ট মুসলিম পরিবারের সন্তান জনাব আহমেদের বাবা মরহুম এম.এ. বারীও ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক।
অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে দেশের প্লাস্টিক শিল্পকে এগিয়ে নিতে পরিকল্পনা, গবেষণা ও সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বেলাল আহমেদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এ দেশে প্লাস্টিকভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ। তিনি এবিওয়াই প্রাইভেট লিমিটেড নামে প্লাস্টিক ফ্যান-উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া প্যান মার্ক অ্যাকসেসরিজ প্রাইভেট লিমিটেড ও রন সন লিমিটেডেরও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি। বর্তমানে গোল্ডেন সন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেশের প্রথম প্লাস্টিক খেলনা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের এই কর্ণধার।
বিআইএ’র নেতৃত্বে আসলে কীভাবে সংগঠন এবং বীমা খাতকে এগিয়ে নেবেন ব্যাংক বীমা অর্থনীতির এমন এক প্রশ্নের জবাবে বেলাল আহমেদ বলেন, আমার প্রথম এজেন্ডা হবে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে নন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির বিষয়টি নিয়ে কাজ করা। ইতিমধ্যে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে বৈঠকে আমি বলেছি, আপনারা আমার কোম্পানি দিয়েই শুরু করেন। কর্পোরেশন বকেয়া প্রিমিয়াম বাবদ আমাদের কাছে যা পায় আমরা তা পরিশোধ করি; আর কর্পোরেশনের কাছে বীমা দাবি বাবদ কোম্পানি যা পায় তা আপনারা পরিশোধ করুন।
বেলাল আহমেদ বলেন, সাধারণ বীমার সঙ্গে আমাদের দেনা-পাওনার বিষয়টি যতক্ষণ পর্যন্ত শূন্য রেখায় না আসবে; ততক্ষণ পর্যন্ত নন লাইফ বীমা খাত আলোর মুখ দেখবে না। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে দেনা পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। এটি ছাড়া কোনো নিয়ম-নীতি কাজে আসবে না। এর সমাধান হলে আমি বীমা গ্রাহককে সুরক্ষা দিতে পারব, কোম্পানির ঘর গোছাতে পারব। আমাদের সমস্ত -দেনা পাওনা এই সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে; সুতরাং এটি প্রথম এজেন্ডা।
প্রায় চার দশকের অভিজ্ঞ এই বীমা উদ্যোক্তা বলেন, এই খাতের সব জায়গায় ঘুনে ধরলে, গলদ হলে মানুষ সুরক্ষা পাবে কোথায়? এটি মৌলিক প্রশ্ন। যে কারণে দেশের অন্যান্য খাতের মতো বীমা খাতেও সংস্কার আনতে হবে। এজেন্ডাভিত্তিক কাজ করতে হবে। শুধু কথা বললে যথার্থ ফলাফল আসবে না।
বেলাল আহমেদ তার কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে জানান, বিআইএ’র নেতৃত্বে আসলে তিনি বীমা খাতের সমস্যাগুলির একটি অগ্রাধিকার তালিকা করবেন। সে তালিকা অনুযায়ী নির্বাহী কমিটিতে আলোচনা হবে, এরপর সিদ্ধান্তের আলোকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা তুলে ধরা হবে। নিয়মিত ফলোআপ হবে। তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত তাগাদা দিয়ে যাব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন কোন কিছু ঝুলিয়ে রাখতে না পারে। সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় সমাধান না হলে সর্বোচ্চ আদালতেও যাওয়ার সুযোগ আমাদের রয়েছে।
তিনি বলেন, এখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো এজেন্ডা নেই। সবগুলোই বীমা শিল্পের মৌলিক এজেন্ডা। মোটর ইন্স্যুরেন্স, ফায়ার ইন্স্যুরেন্স আমাদের প্রধানতম খাত। অথচ সেই মোটর ইন্স্যুরেন্স বন্ধ করা হয়েছে; কেন বন্ধ করা হয়েছে আমরা জানি না। এটি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবো। আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়ব। এতে ভয়ের কিছু নেই। মোটর ইন্স্যুরেন্স বন্ধ করে দিয়ে কর্তৃপক্ষ এভাবে ঘুমাতে পারে না। রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা কার কাছে ক্লেইম করব? আমরা কী চালক-গাড়ি মালিক এরা পরস্পর সংঘাতে জড়াব?
সুতরাং এই মোটর ইন্স্যুরেন্স পাওয়া আমাদের মৌলিক অধিকার।
তিনি বলেন, বিআইএ’র মূল কাজ বীমা খাতের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে সরকার এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে বার্গেনিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করা। সুতরাং এখানে নতুন এবং পুরাতনের সমন্বয়ে একটি নেতৃত্ব আসা উচিত বলে আমি মনে করি। যা এ সংগঠনকে আরো সুসংহত করবে।
Posted ৮:০৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd