নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যেই পুনঃবীমা দাবি নিষ্পত্তি করতে রাষ্ট্রায়ত্ত পুনঃবীমা প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) নেতৃবৃন্দ ও নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে অডিট রিপোর্টসহ অপ্রাসঙ্গিক নথিপত্র চেয়ে দাবি নিষ্পত্তিতে কালক্ষেপণ না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তারা এ আহ্বান জানান। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন আহমেদ পাভেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট হোসেন আখতারসহ নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় পুনঃবীমা দাবি নিষ্পত্তিতে অডিট রিপোর্টসহ অপ্রাসঙ্গিক নথিপত্র চেয়ে কালক্ষেপণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিআইএ নেতৃবৃন্দ ও মুখ্য নির্বাহীরা।
তারা বলেন, দাবি পরিশোধের সঙ্গে অডিট রিপোর্টের কোনও সম্পর্ক নেই। আপনারা দাবি পরিশোধ করবেন সার্ভেয়ারদের রিপোর্টের ভিত্তিতে। এ সময় ফায়ার ব্রিগেড রিপোর্ট নিয়েও আপত্তি তুলে তা বাদ দেয়ার দাবি জানান তারা। এছাড়া অডিট রিপোর্টের দোহাই দিয়ে যেসব বীমা দাবি নাকচ করা হয়েছে তা রিভিউ করার দাবি তোলেন অংশীজনরা।
আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যেই দাবি পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে সভায় মুখ্য নির্বাহীরা বলেন, যেখানে বিদেশি রি-ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো ৯০ দিনের মধ্যে দাবি নিষ্পত্তি করছে সেখানে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন কেন পারছে না। আপনারা যদি দায় নিতে না চান তাহলে শতভাগ পুনঃবীমা বিদেশে করার এখতিয়ার দেন।
আপনারা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দেনা পাওনা সমন্বয় করেন । আমাদের বকেয়া পুনঃবীমা দাবি পরিশোধ করেন, আমরাও যথা সময়ে সাধারণ বীমার পুনঃবীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করব। কিন্ত তিন মাসের বীমা দাবি ৯ বছর পরে নিষ্পত্তি করলে এটি সম্ভব না। সাধারণ বীমা কর্পোরেশন যথা সময়ে দাবি পরিশোধ না করলেও কোম্পানিগুলোকে আমানত থেকে নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করতে হয়।
কর্পোরেশন যথা সময়ে আমাদের দাবি পরিশোধ না করলে আমরা কীভাবে যথা সময়ে প্রিমিয়াম পরিশোধ করব।
এ সময় বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে অডিট রিপোর্টসহ অপ্রাসঙ্গিক নথিপত্র চেয়ে কর্পোরেশনের করা চেকলিস্ট রিভিউ করারও দাবি জানান বক্তারা। তারা বলেন, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন আইডিআরএ’র চেয়েও বড় কোন রেগুলেটরের কিংবা জমিদারের মতো আচরণ করছে। এখানে কোন কোন কর্মকর্তা পেশাদার আচরণ করলেও পরিচালনা পর্ষদে বিভিন্ন সময়ে অপেশাদাররা এসে মনগড়া আচরণ করেন।
সভায় পুনঃবীমা সংক্রান্ত এসব সমস্যা নিয়ে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী।
সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন আহমেদ পাভেল ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে বলেন, ” সাধারন বীমা কর্পোরেশনের সাথে নন লাইফ বীমা কোম্পানিসমূহের বিদ্যমান বেশ কিছু জটিলতা নিরসনে আজকের সভায় ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বেশি বেশি বোর্ড মিটিং করে হলেও দীর্ঘদিনের পুনঃ বীমা দাবি সমূহ নিষ্পত্তি করা হবে বলে কর্পোরেশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে।
বীমা গ্রাহকদের সুবিধার্থে ক্লেইম চেকলিস্ট সহজীকরণ করা হবে। বীমা কর্পোরেশন আইন, ২০১৯ এর কিছু ধারা সংশোধনেরও উদ্যোগ নেয়া হবে। আইন অনুযায়ী সকল বীমা কোম্পানি সরকারি সম্পত্তি বীমা করা থেকেও বিরত থাকবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।”
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে নন-লাইফ কোম্পানিগুলোর পাঠানো অনিরীক্ষিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের কাছে পুনঃবীমা দাবি বাবদ কোম্পানিগুলোর পাওনা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। বিপরীতে পুনঃবীমা প্রিমিয়াম বাবদ কোম্পানিগুলোর কাছে কর্পোরেশনের পাওনা রয়েছে এক হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা। এসব পাওনা সমন্বয় করা হলেও সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের কাছে কোম্পানিগুলোর পাওনা দাঁড়ায় অন্তত হাজার কোটি টাকা।
Posted ৮:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd