নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট
প্রান্তিক পর্যায়ে তাৎক্ষণিক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিং। অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি অনেক নতুন সেবাও পাওয়া যাচ্ছে এ সেবায়। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা বিতরণ ও বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোসহ (রেমিট্যান্স) বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন গ্রাহক। দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এমএফএস মাধ্যমটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, গত অক্টোবর মাসে একক মাস হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। গত জুনে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এটি ছিল একক মাসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে মোবাইলে আর্থিক লেনদেন বেড়েছে আরও বেশি। এ মাসে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা একক মাসের হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন।
এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৯ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। আগস্ট মাসে লেনদেনের অংক ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১ লাখ ২২ হাজার ৯২২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল।
দেশে মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সেবার যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালের ৩১ মার্চ। বেসরকারি খাতের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের (রকেট) মাধ্যমে প্রথম এ সেবা চালু হয়। পরে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এমএফএস সেবা চালু করে বিকাশ। পরবর্তী সময়ে আরও অনেক ব্যাংক এ সেবা এনেছে। বর্তমানে বিকাশ, রকেটের পাশাপাশি রয়েছে মাই ক্যাশ, এম ক্যাশ, উপায়, শিওর ক্যাশ ইত্যাদি। এর বাইরে ডাক বিভাগের নগদও দিচ্ছে এ সেবা।
এখন মোবাইল ব্যাংকিং শুধু টাকা পাঠানোর পাশাপাশি সব ধরনের লেনদেনে, বিশেষ করে পরিষেবা বিল পরিশোধ, স্কুলের বেতন, কেনাকাটা, সরকারি ভাতা, টিকিট ক্রয়, বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ ও অনুদান প্রদানের অন্যতম মাধ্যম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে মোবাইলে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারিতে লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। এপ্রিল ও মে মাসে লেনদেন হয় যথাক্রমে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৯ কোটি ও ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।
গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে লেনদেন ছিল ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা; নভেম্বরে হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। অক্টোবরে ১ লাখ ২০ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়। সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৭৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা, আগস্টে লেনদেন হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের শেষ চার মাসেই (মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন) মোবাইলে লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইয়ে তা কমে লাখ কোটি টাকার নিচে, ৯৮ হাজার ৩০৬ কোটি টাকায় নেমে আসে। এরপর থেকে প্রতি মাসেই লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে এ মাধ্যমে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মোবাইলে লেনদেন হয়েছিল ৩২ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। দেশে মোবাইলে আর্থিক সেবা বা এমএফএস ব্যবহার দ্রুত গতিতে বাড়ছে।
Jagonews24 Google News Channelজাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন আমাদের গুগল নিউজ চ্যানেল।
চালুর পর থেকেই বেড়েই চলেছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মোট গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৬৮। চলতি বছরের অক্টোবরে সেই গ্রাহক সাড়ে তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪ হাজার ৭১৩-তে। আগের মাস সেপ্টেম্বরে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫২৩।
Posted ২:০২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd