শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

কাজের অগ্রগতি না হলে প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট

কাজের অগ্রগতি না হলে প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
image_pdfimage_print

প্রকল্প পাসের পর বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এসময় ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কারওয়ান বাজার ঢাকা ওয়াসা ভবন সম্মেলন কক্ষে ঢাকা ওয়াসার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে এক পর্যালোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা অঞ্চলের পাইপলাইন সংযোগ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া পূর্বাচল এলাকায় পানি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দ্রুত ডিপিপি প্রণয়নের নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান আইনে ওয়াসাগুলোতে বোর্ড রাখার বিধান থাকলেও সরকার যেকোনো সময় তা গঠন বা ভেঙে দিতে পারে। মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ওয়াসা বোর্ডগুলো জনসেবামূলক এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের কাজে বাধা বা অনাবশ্যক হস্তক্ষেপ তৈরি করছে, যা কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার আইন সংশোধন করে সারা বাংলাদেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।

ওয়াসার কাজের ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে পানির দৈনিক চাহিদা ও সরবরাহ উভয়ই ৩১৪ কোটি লিটার। শহরে জনসংখ্যা ও বাসাবাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। কিন্তু গত সাত মাসে ওয়াসার কার্যক্রমে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন বা প্রকল্পের গতি দেখা যায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। পানির কোনো সংকট তৈরি হলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তায়, তাই ঢাকা নগরবাসীর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

পানির উৎসের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে সরবরাহকৃত পানির ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ এবং ২৬ শতাংশ উপরিভাগের পানি। ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের হার কমিয়ে ২০-২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সারফেস ওয়াটারভিত্তিক প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়।

ওয়াসার অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সার্ভিস ঠিক রেখে নিজস্ব রাজস্ব আয় আরও বাড়াতে হবে, যাতে বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়। সেই সঙ্গে মিটার রিডিং ও বিলিংয়ে অটোমেশন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি ২০৫০ সালের চাহিদাকে লক্ষ্য রেখে প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়নে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামোর অর্গানগ্রাম তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এসময় প্রতিমন্ত্রী শহরের অবৈধ ও চোরা পানির লাইন চিহ্নিত করে তা দমনের নির্দেশ দেন এবং এসব অপকর্মে প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা জড়িত থাকলে তাদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলেন। সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত করা যাবে না মর্মে সিবিএ ও কর্মচারী সংগঠনগুলোকে সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে ব্রাশ বা শেভ করার সময় অহেতুক ট্যাপ খোলা না রেখে সচেতনভাবে পানি ব্যবহার এবং পানির অপচয় রোধে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে নির্দেশনা দেন।

এসময় তিনি জানান, আগামী দুই মাস পর তিনি পুনরায় ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনায় আসবেন এবং এর মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চান যাতে নগরবাসীকে পানির বিষয়ে একটি স্বস্তির জায়গায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ঢাকা ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন ও সিবিএর নেতারা অংশ নেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:৫৮ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

Desh Arthonity |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক
তুহিন ভূঁইয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আজাদুর রহমান
Contact

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

Phone: 01718-742422, 01911-539414

E-mail: desharthonity@gmail.com

Lk Cyber It Bd