নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে রূপগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ শতাধিক প্লট আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, তাদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দ এবং বিদেশযাত্রা বন্ধের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা নিজেদের, পরিবারের সদস্যদের ও আত্মীয়স্বজনের নামে পূর্বাচল প্রকল্পের সরকারি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এতে প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারীরা বঞ্চিত হয়েছেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের প্রাথমিক তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, তার এপিএস এমদাদুল হক দাদুল, আনছার আলী, সালাউদ্দিন চেয়ারম্যান, ফেরদৌসী আলম নীলা, ইমন হাসান খোকন ও আরমান মোল্লার নাম রয়েছে।
আবেদনে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া প্লট বাতিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও পাসপোর্ট জব্দের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিদেশযাত্রা বন্ধের ব্যবস্থাও চাওয়া হয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে রূপগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের শত শত প্লট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের নামে বরাদ্দ নিয়েছেন। এ বিষয়ে দুদকে আবেদন করা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভরসা হলো দুর্নীতি দমন কমিশন। আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলো বাতিল করা হোক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ, বিদেশযাত্রা বন্ধ ও পাসপোর্ট জব্দ করার জন্যও আবেদন জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে যেসব প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলো উদ্ধার করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও এখনো প্লট না পাওয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর) আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, রূপগঞ্জে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ শতাধিক প্লট নিজেদের ও অন্যদের নামে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে আসার পর তার নির্দেশনা ও পরামর্শে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে দুর্নীতি ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, তাদের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
Posted ৭:০৪ পিএম | শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd