নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট
প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেবল তাত্ত্বিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে আবদ্ধ না রেখে তা দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহার করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসতে হবে এবং সাশ্রয়ী করতে হবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই আইইউটির মঞ্চে উপস্থিত ছিলাম। ১৯৭৮ সালে সেনেগালের ডাকারে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত হয়। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গাজীপুরে ৩০ একর জমি দান করেন এবং ১৯৮১ সালের ২৭ মার্চ ইয়াসির আরাফাত ও তৎকালীন ওআইসি মহাসচিব ড. হাবিব চ্যাটিকে সঙ্গে নিয়ে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিবর্তিত অর্থনীতি ও প্রযুক্তির যুগে তরুণদের সঠিক দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করা জরুরি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেকেন্ডের মধ্যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, কিন্তু সেই তথ্য নিখুঁত, উপযুক্ত ও নিরাপদ কি না, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব মানুষেরই। এআই দ্রুত গতিতে উত্তর দিতে পারে, কিন্তু সঠিক বিচারবোধই সেটিকে নির্ভরযোগ্য করে তোলে।
গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রযুক্তি যেন দেশের মানুষ, কৃষক ও কারখানার শ্রমিকদের উপকারে আসে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাকে সাশ্রয়ী করে তোলে, সেই দিকে প্রকৌশলীদের লক্ষ্য রাখতে হবে। সততা, সামাজিক ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও ইসলামী মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করার জন্য গ্র্যাজুয়েটদের পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে, এবারের সমাবর্তনে ওআইসিভুক্ত ১৫টি সদস্য দেশের ৩৩ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৬২৬ জন স্নাতক এবং ৩৩ জন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন। লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডিগ্রিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৮২ জন ছাত্র এবং ১৭৭ জন ছাত্রী।
সমাবর্তনে শিক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ৭ জন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল (স্বর্ণপদক) দেওয়া হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানজনক ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী।
এ ছাড়া অনন্য ফলের জন্য ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’ পেয়েছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশফাক সিরাজ শুভ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মুহাম্মদ শাফায়াত জামিল, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের খালিদ হাসান আদর, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আদিবা জহিন, বিজনেস টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের ফারহান লাবীব এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তাসফিয়াহ মাহমুদ।
বিভাগভিত্তিক পাসের হারে এবার সিএসই বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১৫৫ জন গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া ইইই বিভাগ থেকে ১৪৯ জন, মেকানিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ১৪৭ জন, সিভিল অ্যান্ড ইনভাইরনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ১২৬ জন, বিজনেস টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট থেকে ৫৭ জন এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন বিভাগ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী সনদ গ্রহণ করেন।
Posted ৪:২৩ পিএম | রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd