ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর তীর ও ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাশুয়া ও এর আশপাশের এলাকায় বন্যার পানির প্রবল স্রোত ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে যায় এবং অনেক এলাকা দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন জেলার হতাহত ও নিখোঁজদের তথ্য সমন্বয় করছে কর্তৃপক্ষ। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও ট্রেকার রয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনো নিখোঁজ। তাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক।
রাশুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় বন্যার সময় অবস্থানরত বা ওই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াতকারী পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে কাজ করছে ট্যুরিজম বোর্ড। ট্রাভেল এজেন্সি, ট্রেকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৩১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন ভারতীয়, চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন বুলগেরীয় ও একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। বাকি ১৮ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর তীর ও ভাটির বিভিন্ন বসতিতে স্থলপথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ভয়াবহ বন্যায় ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
হঠাৎ এই ভয়াবহ বন্যার কারণ এখনো তদন্তাধীন। হিমালয়ের পাদদেশে বুধবার সকালে প্রায় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই প্রবল পানির ঢল নামে। মুহূর্তের মধ্যে ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ও ধ্বংসাবশেষ ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি।
সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
Posted ১২:০০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
Desh Arthonity | Touch Tuhin
Lk Cyber It Bd