নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
ডিজিটাল রূপান্তরের পথে দেশের কোনো জনগোষ্ঠী যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেছেন, ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি মানুষের দক্ষতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতায় সক্ষম করে সরকারি সেবা ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে গ্রামীণফোনের ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে এবং তাদের ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে এ ধরনের উদ্যোগ সরকারের ভিশনকে আরও সমৃদ্ধ করছে। ২০২৮ সালের মধ্যে সুবিধাবঞ্চিত আটটি জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অনুপ্রাণিত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে কোনো জনগোষ্ঠী যেন পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য মানুষকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী দক্ষতা ও জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা অবকাঠামো উন্নয়নের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে গ্রামীণফোন। কর্মসূচির আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০ লাখ প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্রামীণফোন জানায়, উদ্যোগটি শুরুর পর থেকে দেশের ৩২টি জেলায় ৩৩ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশই নারী ও কিশোরী। দ্বিতীয় পর্যায়ে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০ লাখে উন্নীত করার পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ ৭০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, অর্থবহ সংযুক্তি শুধু নেটওয়ার্ক কভারেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল সাক্ষরতা ও প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার। এ উদ্যোগটি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কীভাবে ডিজিটাল বৈষম্য কমানো যায়, তার একটি ভালো উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম এবং ডিজিটাল ইনক্লুশন লিড তাজরিবা খুরশীদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, জিএসএমএর সিনিয়র মার্কেট এনগেজমেন্ট ম্যানেজার গগনদীপ মনচান্দা, টেলিনর এশিয়ার চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মনীষা ডোগরা, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান উদ্যোগটির কয়েকজন সুবিধাভোগীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
Posted ৪:৪৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Desh Arthonity | Rina Sristy
Lk Cyber It Bd