শুক্রবার ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার ব্যবসায়ীদের চেয়ে বিদেশিদের কথায় বেশি গুরুত্ব দেয় : বিকেএমইএ সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট

সরকার ব্যবসায়ীদের চেয়ে বিদেশিদের কথায় বেশি গুরুত্ব দেয় : বিকেএমইএ সভাপতি
image_pdfimage_print

বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশের ব্যবসায়ীদের চেয়ে বিদেশিদের কথায় বেশি গুরুত্ব দেয় বলে অভিযোগ করেছেন নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সমস্যাগুলো সরকারকে জানাতে চেয়েও বারবার ব্যর্থ হয়েছি।’

আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্স ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএ সভাপতি এসব অভিযোগ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর মুনাফায় রয়েছে। প্রতিবছর এই বন্দরে ভালো মুনাফা হচ্ছে। সর্বশেষ বছরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে এই বন্দর। তার পরও সরকার বিভিন্ন পণ্য সেবার মাশুল একলাফে ৪১ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ৫-১০ শতাংশ বাড়ানো যেত, কিন্তু একলাফে ৪১ শতাংশ বাড়ানো কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশি কোনো পক্ষের কাছে বন্দর ছেড়ে দেওয়ায় পরিচালন ব্যয় যদি না কমে, তাহলে সেটি করায় আমাদের স্বার্থ কী? বিদেশি একটি পক্ষকে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, এতে খরচ তো কমার কথা। উল্টো মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। এটি তো হওয়ার কথা নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে চার মাস ধরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাক্ষাৎ পাননি বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।

তিনি বলেন, ‘কারও সঙ্গে নেগোসিয়েশন করতে হলে তার সঙ্গে বসতে হয়। তিনি যদি সময় না দেন তাহলে কিভাবে নেগোসিয়েশন করব? আমরা বারবার সময় চেয়েও সময় পাইনি।‌’

বিজিএমএই সভাপতি বলেন, ‘আমরা গত চার মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চেয়েও পাইনি। অথচ স্টারলিংকের কোম্পানি স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট এলে তার সঙ্গে উনি দেখা করেন। যে কোম্পানি ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। অথচ তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) ৪০ বিলিয়ন ডলারের খাতের প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করেন না।’

তিনি আরও বলেন, পোশাক শিল্পসহ দেশের সমগ্র উৎপাদনমুখী শিল্প বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এরকম একটি প্রেক্ষাপটে, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫’ নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ, সেই সঙ্গে উৎপাদনমুখী শিল্পখাত এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য জরুরি কিছু সাম্প্রতিক ইস্যু যেমন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন, চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বৃদ্ধি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতেই আমাদের আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।

শ্রম আইনের সংশোধন নিয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, ভারসাম্যহীন ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত টিসিসি ও ওয়ার্কিং কমিটিতে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে ধাপে ধাপে শ্রমিকের সংখ্যা নির্ধারণে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। যেখানে প্রথম ধাপে ৫০ থেকে ৫০০ শ্রমিকের কারখানায় ন্যূনতম ৫০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় একতরফাভাবে সেটি পরিবর্তন করে ২০–৩০০ শ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ধাপ করা হয়েছে পাঁচটি।

তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ মাত্র ২০ জন শ্রমিক দিয়ে একটি ইউনিয়ন গঠন করা হলে কারখানাগুলোতে এমন ব্যক্তিরা ট্রেড ইউনিয়ন করবেন, যারা ওই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। এটি অন্তঃদ্বন্দ্ব ও শিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে ও উৎপাদন ব্যাহত করবে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমবে এবং উদ্যোক্তারা নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনায় নিরুৎসাহিত হবেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:১৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

Desh Arthonity |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০  
প্রধান সম্পাদক
তুহিন ভূঁইয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আজাদুর রহমান
Contact

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

Phone: 01718-742422, 01911-539414

E-mail: desharthonity@gmail.com

Lk Cyber It Bd