হোমল্যান্ড লাইফে ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে হাইকোর্টের নির্দেশ

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির গ্রাহকদের ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আগামী ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেন সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রোববার (২৮ জুলাই) এ আদেশ দেন।

মামলাটি শুনানির জন্য রোববার আদালতে উত্থাপিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে দেয়া আদেশের আলোকে দুদকের নেয়া পদক্ষেপের বাস্তবায়ন প্রতিবেদন (কমপ্লায়েজ) দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্সের গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শত কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আনা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে দেয়া আদেশের আলোকে অভিযোগ অনুসন্ধানে মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং) বরাবর প্রেরণে কমিশনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সে আলোকে দুদকের নিয়োগকরা অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. ইয়াছির আরাফাত অনুসন্ধান শুরু করেন। এ সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন আজ দাখিল করা হয়েছে।

রিটের পক্ষে এডভোকেট আক্তার রসুল মুরাদ সাংবাদিকদের জানান, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১০৪ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৮ টাকা লুটের অভিযোগ তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির ১৪ গ্রাহক একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। এই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছর ২৯ মার্চ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর চেয়ারম্যান ও দুদক চেয়ারম্যানের প্রতি বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত বিষয়ে নেয়া কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন (কমপ্লায়েজ) দাখিলেও নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে তদন্তের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুলও জারি করেছেন আদালত। একইসাথে দুদক বরাবর হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের একটি আবেদন পজিটিভলি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন আদালত।

এডভোকেট আক্তার রসুল মুরাদ বলেন, আজ দুদকের পক্ষে কমপ্লায়েজ দাখিল করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র, স্বাক্ষীদের বক্তব্য নেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।

এই আইনজীবী আরো জানান, উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকদের টাকা লুটের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন, যদি তদন্ত শেষ না হয় তার কারণসহ অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলে আগামী ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির ১৪ গ্রাহকের পক্ষে রহিমা আক্তার রিটটি দায়ের করেন। রিটে অর্থ সচিব, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, হোমল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানটির ১৪ পরিচালককে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়।

গত বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পরিচালকদের প্রতারণার খপ্পরে হোমল্যান্ড লাইফ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাত নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এই সব প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সঙ্গে ছিলেন এডাভোকেট আক্তার রসুল মুরাদ, আব্দুল্লাহিল মারুফ ফাহিম ও দিদারুল আলম। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১০৪ কোটি টাকা লুটের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডন প্রবাসী সিলেটের পরিচালকদের একটি গ্রুপে প্রতারণার খপ্পরে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সিলেটেই করত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক। এই গ্রুপটি কোম্পানির তহবিল থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বোর্ড সভার কার্যবিবরণী জালিয়াতি, জমি ক্রয়ের ভুয়া নথি তৈরি, কমিশন ও অন্যান্য খাতে খরচের ভাউচার তৈরি করে এসব টাকা আত্মসাৎ করা হয়। নথিপত্রে দেখা গেছে-এই প্রতিষ্ঠানের নামে অস্তিত্ববিহীন জমি কেনা হয়েছে। আবার সেই জমিতে মাটি ভরাট ও কাটা তারের বেড়া তৈরির নামে আরও অর্থ লোপাট করা হয়েছে।




হোমল্যান্ড লাইফের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন ভাইস-চেয়ারম্যান হোসনে আরা নাজ

বীমা খাতের হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ১৪১তম পর্ষদ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মো. জামাল উদ্দিন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

একই সভায় হোসনে আরা নাজকে ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছেন।

সভায় কোম্পানির পরিচালকবৃন্দসহ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. ফরিদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।-বিজ্ঞপ্তি




আইডিআরএ’র পরিচালকসহ দুই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত না করে কালক্ষেপণ করায়
তদন্ত কমিটির প্রধানসহ দুই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী।

গত ২৩ মার্চ তদন্ত কমিটির প্রধান আইডিআরএ’র পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সদস্য আইডিআরএ’র কর্মকর্তা মুহাম্মদ শামছুল আলমকে এই কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৪ মার্চ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেন তদন্ত কমিটির ওই দুই সদস্য। চিঠিতে অভিযোগসমূহের সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য হিসাব বিজ্ঞানের যে বিশেষায়িত জ্ঞান প্রয়োজন তা কমিটির নেই বলে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে কোনো নিরীক্ষা ফার্ম দিয়ে বিশেষ নিরীক্ষা করালে অনিয়ম ও দুর্নীতি উদঘাটনের বিষয়টি ফলপ্রসূ হবে বলে মতামত দেন তারা।

আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বরাবর লেখা তদন্ত কমিটির ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘জাতীয় বীমা দিবস-২০২৩ এর কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় যথাসময়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় বীমা দিবস অতিক্রান্ত হওয়ার পর উল্লিখিত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, অভিযোগপত্রে কোম্পানির শুরু থেকে বিভিন্ন খাতের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত ১৫ টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগসমূহ দীর্ঘ মেয়াদের, জটিল এবং বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিষয় সংশ্লিষ্ট। বিষয়গুলো তদন্ত করে সঠিক তথ্য উদঘাটন করার জন্য দক্ষ চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ও ফিল্ড ফোর্স প্রয়োজন। ২০১০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে কোম্পানির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব সমন্বয় সাধন করা এবং আর্থিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযোগসমূহের সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য হিসাব বিজ্ঞানের যে বিশেষায়িত জ্ঞান প্রয়োজন তা অত্র কমিটির নেই। তাছাড়া, অভিযোগপত্রের ১২ নং ক্রমিকে কোম্পানিকে স্বতন্ত্র অডিট করানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোন অডিট ফার্ম দিয়ে বিশেষ অডিট করানো হলে অনিয়ম ও দুর্নীতি উদঘাটনের বিষয়টি ফলপ্রসূ হবে। পাশাপাশি অন্য কোন অনিয়ম সংঘটিত হয়ে থাকলে তাও উদঘাটনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এমতাবস্থায়, আপনার সদয় বিবেচনার জন্য আলোচ্য কোম্পানির বর্ণিত অভিযোগের উপরেল্লিখিত বিষয়সমূহ উপস্থাপন করা হলো।’

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি কমিটি গঠন করে আইডিআরএ। ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ওই কমিটিকে অভিযোগের প্রতিটি বিষয় তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। দীর্ঘ দুই মাসেও তদন্ত সম্পন্ন করতে না পেরে গত ১৪ মার্চ ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেয় কমিটি।




বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডলসহ ৩ কর্মকর্তাকে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে অপসারণে আইডিআরএ’র কাছে ১২ পরিচালকের আবেদন

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডলসহ হিসাব কর্মকর্তা ও আইন কর্মকর্তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তাদেরকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন কোম্পানিটির ভাইস-চেয়ারম্যান, উদ্যোক্তা ও স্বতন্ত্রসহ মোট ১২ পরিচালক। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানের কাছে করা এক যৌথ আবেদনে কোম্পানিটির ‘গ্রাহক, কর্মকর্তা/কর্মচারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে’ওই কর্মকর্তাদের অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানান তারা।

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া ওই আবেদনে কোম্পানিটির পরিচালকরা অভিযোগ করে বলেছেন, মুখ্য নির্বাহীসহ ওই তিন কর্মকর্তা কোম্পানির আয় ব্যয় সম্পর্কে তাদেরকে কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। অপরদিকে, তথ্য গোপন করে হোমল্যান্ড লাইফের অর্থ আত্মসাত করছেন বলে তারা সন্দেহ করছেন। এমনকি নিয়মিত দুর্নীতির প্রমাণও মুছে ফেলছেন। ওই কর্মকর্তারা বহাল থাকায় এবং তাদের অসহযোগিতার কারণে কোনো তদন্ত বা নিরীক্ষাও করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদনে উল্লেখ করেন হোমল্যান্ড পরিচালকরা। এই আবেদন ছাড়াও হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করছে আইডিআরএ।

আবেদনকারী পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন, হোমল্যান্ড লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান জামাল মিয়া, পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, পরিচালক কামাল মিয়া, আব্দুর রব, ফয়জুল হক, জামাল উদ্দিন, আব্দুল হাই , আব্দুল আহাদ, শামীম আহমদ, এমাদুল ইসলাম, শওকতুর রহমান, ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী। আবেদনের অনুলিপি অর্থমন্ত্রী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবরও পাঠানো হয়েছে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে করা ওই আবেদনে হোমল্যান্ড পরিচালকরা মুখ্য নির্বাহীসহ হোমল্যান্ডের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, “ (১)অফিস নির্বাহী কর্মকর্তা (মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, আইন কর্মকর্তা ও হিসাব কর্মকর্তা) সকল ধরনের গ্রাহক লেনদেনে সম্পৃক্ত। আমরা এ কাজে সরাসরি যুক্ত নই। আমাদেরকে এ বিষয় না জানালে আমরা বোর্ডে উপস্থাপন করে জানানোর চাপ দেই। এই আক্রোশে তারা আমাদের নামে মাগুরার আদালতে মিথ্যা মামলা করিয়ে আমাদের অসম্মানিত করেছে। (২) দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে আদালতে যোগাযোগ করে জানতে পারি আমাদের নামে সমন এসেছিল। আমাদের সন্দেহ হয় যে, তারা ওই সমন আমাদের না দেখানোয় এবং সমনের বিষয় গোপন করেছিল বলেই আদালত ওয়ারেন্ট দিলে আমাদের (পরিচালকদের) কারাগারে যেতে হয়েছিল।

(৩)যেদিন পুলিশ আমাদের গ্রেপ্তার করে সেদিন পুলিশ আমাদের মৌখিকভাবে বলেছে যে, কখন পুলিশ আসলে আমাদের গ্রেপ্তার করা যাবে সে বিষয়ে এই নির্বাহীগন গোপনে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছিল। (৪) মামলা বিষয়ক সকল তথ্য তারা গোপন করায় পরিচালকবৃন্দের নিকট অবিশ্বাস গভীর হয়েছে। এর ফলে কোম্পানির পরিচালকবৃন্দ পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হবেন মর্মে আশংকা করছি। ৫। ভবিষ্যতে এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ব্যক্তি নিরাপত্তায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।”
আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে হোমল্যান্ড লাইফের ১২ পরিচালকের করা ওই আবেদনে আরো বলা হয়, “কোম্পানীর বেশিরভাগ পরিচালক সন্দেহ করেন যে, এই নির্বাহীগণ তথ্য গোপন করে কোম্পানির বহু লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করিতেছে। তারা বহাল থাকায় কোন তদন্ত বা নীরিক্ষা দ্বারা তাদের ধরা সম্ভব হচ্ছেনা। তারা নিয়মিত দুর্নীতির প্রমাণ মুছে ফেলছে। তাদের অসহযোগিতার কারণে এই কোম্পানিতে কোন নিরপেক্ষ তদন্ত করাও সম্ভব নয়। তারা প্রায়ই দুর্নীতির প্রমাণ গায়েব করিতেছে এবং আমরা আয়-ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে কোন কিছুই তারা জানায় না। তারা কয়েক পরিচালকের আশকারায় বেশি রকম দুঃসাহসী হয়ে আরো বড় রকমের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তারা গ্রাহকের টাকা গ্রহণ করে এবং দাবি পরিশোধ করে। কিন্তু কার কাছ থেকে কত টাকা নেয় এবং কাকে কত টাকা দাবি পরিশোধ করতে হবে সে সকল সিদ্ধান্ত তারাই নেয় এবং এমনকি দাবি পরিশোধে পরিচালকদের বা বোর্ডের কোন অনুমতিও নেয় না। প্রকৃতপক্ষে তারা দাবি পরিশোধ না করার অপরাধে দায়ি হওয়া সত্ত্বেও তারা আসামী হয় না; অথচ নিরীহ পরিচালকেরা মামলাভুক্ত হচ্ছেন। তারা কারসাজি করে কোম্পানীর নিরপরাধ পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য নীরিহ গ্রাহকদের উৎসাহিত করে পরিচালকদের শায়েস্তা করার পথ নিয়েছে। এমন অমানুষ নির্বাহীগণের এই কোম্পানীতে থাকার প্রয়োজনীয়তা নাই।”

হোমল্যান্ড পরিচালকদের আবেদনে বলা হয়, “গ্রাহক-লেনদেনে সম্পৃক্ত নির্বাহী কর্মকর্তাদের মামলায় জড়িত না হওয়া বা তাদের জবাবদিহিতা ব্যতীত সরাসরি কোম্পানির পরিচালকদের বিরুদ্ধ মামলায় জড়িতকরণ বিষয় এবং তাদের দ্বারা মামলাকারির কাছে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তথ্য-বিনিময়ের কারণে আমাদের মনে নিরাপত্তাহীনতার চূড়ান্ত আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই কোম্পানীতে থাকিলে আরো অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। উপরোক্ত ১০ টি কারণে এই মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, আইন কর্মকর্তা ও হিসাব কর্মকতার বিরুদ্ধে যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে সে কারণে তাদের এই কোম্পানীতে থাকা গ্রাহক ও পরিচালকদের জন্য আর ভাল হবে না। মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার শেল্টারের কারণে দুর্নীতিবাজ আইন কর্মকর্তা ও হিসাব কর্মকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে না।মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হলে কোম্পানীর দুর্নীতির শিকড় আইন কর্মকর্তা ও হিসাব কর্মকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনার দ্বারা আদেশ হইলে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচালক বোর্ড সভায় তাদের অপসারণে রেজুলেশন নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। এমতাবস্থায়, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকের স্বার্থে বর্ণিত দুর্নীতিবাজ ও নিরীহ পরিচালকবৃন্দকে মামলাভুক্ত করার ক্লিকবাজিতে জড়িত মর্মে সন্দেহযুক্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণের জন্য বিনীত আবেদন করছি।”

মুখ্য নির্বাহীসহ তিন কর্মকর্তাকে অপসারণের আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মো. হান্নান মিয়া বলেন, ‘শুনেছি এসব বিষয় নিয়ে আইডিআরএ তদন্ত কমিটি করেছে। হোমল্যান্ড পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকেও তিন পরিচালকের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন কি না কমিটি সে বিষয়ে তদন্ত করবে। তবে সহযোগিতার অভাবে তারা এখনো তদন্ত করতে পারছেন না।’ পরিচালকদের ঐক্য না থাকায় নেপথ্যের কারিগররা এসব কলকাঠি নাড়ছে। তাদেরকে আপনারাও চিনেন আমরাও চিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডলের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

হোমল্যান্ডের ১২ পরিচালকের আবেদনের বিষয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানান, কোম্পানিটির বিষয়ে আইডিআরএ তদন্ত কমিটি করেছে। তদন্ত চলছে।