সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাড়ি ভাড়া থেকে বেঁচে যাওয়া ৪৯ কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছেন হাজিরা

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া হাজিরা বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খাতে উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন। ১০ হাজার ৩০ জন হাজির ব্যাংক হিসাবে ৪৮ কোটি ৮৮ লাখ ১ হাজার ১৪৯ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল স্থানীয় কার্যালয় শাখার মহাব্যবস্থাপককে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের হজের সরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের সৌদি আরব পর্বে দেওয়া প্যাকেজ মূল্যের বাড়ি ভিত্তিক উদ্বৃত্ত অর্থ নিবন্ধনকালে দাখিল করা বা পরবর্তীতে সংশোধিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সরকারি হজযাত্রীদের জন্য ১৬টি বাড়ির ভাড়ার ক্ষেত্রে এই অর্থ উদ্ধৃত রয়েছে। এর মধ্যে বাড়ি-১ এর ক্ষেত্রে প্রত্যেক হাজি ৫৬ হাজার ৩২ টাকা, বাড়ি-২ এর ক্ষেত্রে ৫৭ হাজার ৪৮০ টাকা, বাড়ি-৩ এর ক্ষেত্রে ৫১ হাজার ৭৪৫ টাকা, বাড়ি-৪ এর ক্ষেত্রে ৫১ হাজার ৭৪৫ টাকা, বাড়ি-৫ এর ক্ষেত্রে ৬১ হাজার ৭৬৬ টাকা, বাড়ি-৬ এর ক্ষেত্রে ৬০ হাজার ৩৪৭ টাকা, বাড়ি-৭ এর ক্ষেত্রে ৬৩ হাজার ২১৪ টাকা, বাড়ি-৮ এর ক্ষেত্রে ৩১ হাজার ৬৭৩ টাকা করে ফেরত পাবেন।

এছাড়া বাড়ি-৯ এ থাকা হাজিরা প্রত্যেকে ৬৩ হাজার ২১৪ টাকা, বাড়ি-১০ এর প্রত্যেকে ৫১ হাজার ৭৪৫ টাকা, বাড়ি-১১ এর প্রত্যেকে ৬৩ হাজার ২১৪ টাকা, বাড়ি-১২ এর প্রত্যেকে ৪৬ হাজার ১০ টাকা, বাড়ি-১৩ এর প্রত্যেকে ৪৬ হাজার ১০ টাকা, বাড়ি-১৪ এর প্রত্যেকে ৫৪ হাজার ৬১২ টাকা, বাড়ি-১৫ এর প্রত্যেকে ৪৬ হাজার ১০ টাকা এবং বাড়ি-১৬ এর প্রত্যেকে ২৫ হাজার ৯৩৮ করে ফেরত পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: হজের টাকা ফেরত পেলেন ১০১১৭ প্রাক-নিবন্ধন বাতিলকারী

চলতি বছরের ২৭ জুন (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন হজ পালন করেন।

এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. মঞ্জুরুল হক  বলেন, ‘এবার হজে সৌদি অংশে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে যে খরচটা হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি, তা থেকে উদ্বৃত্ত রয়েছে। অন্যান্য কিছু খাতেও টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে সেই টাকাটা আমরা হাজিদের ফেরত দিচ্ছি। হজ কার্যক্রম পরিচালনা করে সরকার লাভ করে না। প্যাকেজের যেটা খরচ হয়, বাকিটা হাজিদের ফেরত দেওয়া হয়। আগেও দেওয়া হয়েছে, এবারও দেওয়া হচ্ছে।’




২৫৫ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৯৫৪০৯ জন হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষে ২৫৫ ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৯৫ হাজার ৪০৯ জন হাজি। এছাড়া এবার হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১১৭ জন বাংলাদেশির মারা যাওয়ার খবর দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) মারা গেছেন দুই জন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা ও সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্প ডেস্ক।

সবশেষ হজ বুলেটিনে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাত ১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ফিরতি ফ্লাইট সংখ্যা ২৫৫টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ১২০টি, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ৯৫টি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ৪০টি।

এদিকে, এবার হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১১৭ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৯১ ও নারী ২৬ জন। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে মক্কায় ৯৫, মদিনায় ৮, জেদ্দায় ২, মিনায় ৯, আরাফায় ২, মুজদালিফায় একজন মারা গেছেন। সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, সেখানেই তাদের দাফন করা হয়েছে।

গত ২৭ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন হজ পালনে সৌদি আরব যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট গত ২ জুলাই শুরু হয় এবং শেষ হবে আগামী ২ আগস্ট।




দেশে ফিরেছেন ২৪ হাজার ১৫৮ হাজি

চলতি বছর পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত মোট ৬৪টি ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ২৪ হাজার ১৫৮ জন হাজি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ২২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ২৭টি এবং ফ্লাইনাসের ফ্লাইট ১৫টি।

শনিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৪৬তম বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন হজ পালনে সৌদি আরব যান। এসব হজযাত্রী বহন করতে মোট ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় ৩২৫টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৫৯টি ফ্লাইটে ৬১ হাজার ১৮০ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১১৩টি ফ্লাইটে ৪১ হাজার ৪৬৮ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৫৩টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ২৩৬ জন হজযাত্রী বহন করে।

পবিত্র হজ পালন শেষে বিমান, ফ্লাইনাস ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দেশে আসা হাজিদের মধ্যে জমজমের পানি বিতরণ করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

অন্যদিকে, এবার হজে গিয়ে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ইন্তেকাল করেছেন ৯০ জন হজযাত্রী/হাজি। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬৯ জন, নারী ২১ জন। মক্কায় মারা গেছেন ৭৪ জন, মদিনায় পাঁচজন, জেদ্দায় একজন, মিনায় সাতজন, আরাফায় দুইজন ও মুজদালিফায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

চলতি বছর গত ২১ মে হজের প্রথম ফ্লাইট শুরু হয়। হজে যাওয়ার শেষ ফ্লাইট ২২ জুন। অন্যদিকে, হজ পালন শেষে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ২ জুলাই। হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে ২ আগস্ট।