ই-অরেঞ্জ কেলেঙ্কারির হোতা সোহেল রানার অবস্থান জানতে চান হাইকোর্ট

ই-অরেঞ্জ কেলেঙ্কারির হোতা ঢাকার বনানী থানার বরখাস্ত পরিদর্শক সোহেল রানা বর্তমানে কোথায় আছেন জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। সোহেল রানার সবশেষ অবস্থান ও তাকে ফেরানোর পদক্ষেপ জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সোহেল রানার বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ রাষ্ট্রপক্ষে আর ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম লিটন রিটের পক্ষে শুনানি করেন।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি সোহেল রানাকে ফিরিয়ে আনার ব্যপারে পদক্ষেপ জানাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এই আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল সোহেল রানাকে ভারতের কারাগার আটক ছিলেন। জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

প্রতারিত গ্রাহকরা ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা করার পর সোহেল রানা বিনা অনুমতিতে কর্মক্ষেত্র ছেড়ে যান। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের কোচবিহারে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হন। অনুপ্রবেশের দায়ে তিন বছর কারাদণ্ড হয় তার। এরপর ভারতের কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি।

পরে অসুস্থতার কথা বলে কলকাতার হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে আবেদন করে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর জামিন পান। আদালতে ভারতীয় নাগরিক কোচবিহার মেখলিগঞ্জ থানার ইসমাইল হোসেনের ছেলে নূর আলম এবং একই থানার চৌরঙ্গীবাজারের রফিকুল রহমান তার জামিনদার ছিলেন। তবে সোহেল রানা জামিনে বের হয়ে পালান। এরপর ফেব্রুয়ারিতে জামিনদার নূর আলমকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। বাতিল হয় সোহেল রানার জামিন।

এদিকে সোহেল রানা ও তার বোন ই-অরেঞ্জের মূল মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুদুরের বিরুদ্ধে ২৭টি মামলার তথ্য পেয়েছে ঢাকা টাইমস। একটি মানিলন্ডারিং, দুটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে এবং বাকিগুলো প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের মামলা।

এর মধ্যে গুলশান থানার পাঁচটি মামলায় সোহেল রানা ও তার বোন-বোনের স্বামীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে অভিুযক্তরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির আরেক পরিচালক বীথি আকতার, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) আমানউল্লাহ চৌধুরী, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ এবং সাবেক সিও নাজমুল রাসেল। এদের মধ্যে সোহেল রানা, বীথি আকতার ও কাওসার পলাতক। নাজমুল রাসেল গত ফেব্রুয়ারিতে জামিনে কারামুক্ত হন। বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।




সরকারের উচ্চমূল্যের হজ প্যাকেজ কেন জনস্বার্থবিরোধী নয় জবাব চেয়েছেন হাইকোর্ট

চলতি মৌসুমে সরকারের ইচ্চামাফিক উচ্চমূল্যের হজ প্যাকেজ কেন জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তার জবাব চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রোববার (২ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট গাজী মো. মহসীন। অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রিটকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী মো. মহসীন।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ উজ জামান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। বিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে, ধর্ম সচিব, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সহ সংশ্লিষ্টদের।

অ্যাডভোকেট গাজী মো. মহসীন বলেন,গত ১২ মার্চ হজের প্যাকেজ মূল্য কমিয়ে পুনরায় প্যাকেজ ঘোষণা করতে রিট দায়ের করা হয়। রিটে বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্স ছাড়াও যেকোনো এয়ারলাইন্সে টিকিট কেটে হজে যাওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। গত ৬ মার্চ হজের প্যাকেজ মূল্য সংশোধন করে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আল কোরআন স্টাডি সেন্টারের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আশরাফ উজ জামান ধর্ম মন্ত্রণালয়কে এ নোটিশ পাঠান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, সৌদি আরব, ইরান, তুরস্কের সরকারকে নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে হজের প্যাকেজ পুনর্র্নিধারণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়। সাত দিন পার হলেও হজের প্যাকেজ কমানোর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এ রিট দায়ের করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী আশরাফ উজ জামান।
গত ৬ মার্চ আইনজীবী আশরাফ উজ জামান বলেছিলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-সৌদি-বাংলাদেশ রুটে প্লেন ভাড়া ৭৬ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতি বছর দুই দেশের সরকার হজযাত্রীদের সৌদি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট কিনতে বাধ্য করে। এ কারণে টিকিট কিনতে হজ যাত্রীদের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়।

এসব কারণসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে চার লাখ টাকার মধ্যে হজ প্যাকেজ-২০২৩ সংশোধন, পরিবর্তন এবং পুনঃনির্ধারণ করতে নোটিশে অনুরোধ করা হয়।সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। অন্যদিকে, কোরবানি ছাড়াই এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা। আগের বছর এটি ছিল ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে দেড় লাখ টাকা বেড়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে গত ৯ জানুয়ারি সৌদি সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী এ বছর হজ যাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ পালন করতে পারবেন। এ বছর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরবে গমনকারী শতভাগ হজযাত্রীর প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ‘মক্কা রোড চুক্তি’ অনুযায়ী বিমানবন্দরেই অনুষ্ঠিত হবে।