স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হবে

হরতাল-অবরোধ বা আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে আমাদের জানুয়ারিতে নির্বাচন করতে হবে। যার কারণে নভেম্বরের মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, রাজনীতির নামে জ্বালাও-পোড়াও শুরু হয়েছে। তারপরও আপনারা দেখবেন, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা যাতে অব্যাহত থাকে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হবে।

রোববার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় গণভবনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, ও বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কারও রাজনীতির ওপর হস্তক্ষেপ করিনি। শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশে আমরা বাধা দেইনি। কিন্তু তারা যখন আবার জ্বালাও-পোড়াও শুরু করলো। বাস-ট্রেনে আগুন দিয়েছে। এসব কাজের হুকুমদাতা ও অর্থদাতাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেবো, নাকি ব্যবস্থা নেবো? অনেকে আবার তাদের গ্রেফতার নিয়ে সমালোচনা করে। যারা এভাবে মানুষের জীবন নষ্ট করবে, জাতীয় সম্পদ নষ্ট করবে, আমরা ছাড় দেবো না। ব্যবস্থা নেবো।

 

এসময় ফলাফলে কৃতকার্যদের অভিনন্দন জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, যারা হয়তো ভালো রেজাল্ট করতে পারেনি, তাদেরও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। অভিভাবকদের বলবো, যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের সহানুভূতি দেখাতে হবে। সে যে পারে নাই, সেটার কারণ বের করে তাকে আরও মনোযোগী হতে উৎসাহী করতে হবে। তাকে ধমক বা গালমন্দ করা ঠিক হবে না। এটা আমাদের বিনীত অনুরোধ থাকবে, কাউকে ধমক বা গালমন্দ করবেন না। এগুলো কোমলমতি এই ছেলেমেয়েগুলো নিতে পারে না। পরে তারা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। সমস্যা চিহ্নিত করে সেটি সমাধানে সহযোগিতা করলে ভবিষ্যতে তারা ভালো করতে পারবে।

পাসের হার নিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রীদের পাসের হার বেশি। এজন্য ধন্যবাদ তবে, ছেলেরা কেন পিছিয়ে থাকলো, এটা বের করতে হবে। কারণ লিঙ্গ সমতায় নজর দিতে হবে। ছেলেমেয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাক, আমরা চাই।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ে ফলাফল প্রকাশ পাওয়ায় আন্তরিক ধন্যবাদ। জ্বালাও-পোড়াও এর মধ্যে যে আপনারা যথা সময়ে কাজটি করতে পেরেছেন এটি বড় ব্যাপার। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সবার প্রচেষ্টায় আমরা এটি করতে পেরেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণার ওপর সবেচেয়ে গুরুত্ব দিতে চাই। বিজ্ঞান শিক্ষায়ও আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। ১২টি বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। কারিগরি শিক্ষায়ও যাতে ছেলেমেয়েরা এগিয়ে আসে, সেদিকে আমরা নজর দিচ্ছি।

তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় ফলাফলে বেশ কিছু ইতিবাচক লক্ষণ আছে। এটা আমাদের ইতিবাচক উদ্যোগের ফলেই হয়েছে বলে মনে করি। শিক্ষার প্রচারে সংসদ টেলিভিশনকে আরও ভালো ভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে ২০১৪ সালের ৫০০ স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। ২০১৮ সালে তারা এমন অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি। পরে করোনা এসে আমাদের সবাইকে ভীতসন্ত্রস্ত করে দিল। নানাভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কিন্তু ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় শিক্ষার গতি অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। সেই সময় সমস্ত বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, তখনও ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল দেওয়ার রীতিটা ঠিক রাখা হয়েছে।

ফলাফল হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সাড়ে ১৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে। বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হলো। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ফলাফলের পূর্ণাঙ্গ শিট পাবে।

 




‘টাকা পে’ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপ: প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল বাংলাদেশের পর এখন সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘টাকা পে’ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপ।

বুধবার (১ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতীয় কার্ড স্কিম ‘টাকা পে’ সেবার উদ্বোধন করতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মতো ‘টাকা পে’ নামে দেশে এই প্রথম নিজস্ব কার্ড চালু হলো।

এর আগে জাতীয় কার্ড স্কিম ‘টাকা পে’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আজেকে আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি দিন। ২০০৮ সালে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ‘টাকা পে’ উদ্বোধন সেই স্মার্ট বাংলাদেশের একটি পদক্ষেপ। আমাদের সবকিছুই স্মার্ট হবে। জনগণ, সমাজব্যবস্থা, সরকার সবকিছু স্মার্ট হবে।

এ সময় জাতীয় কার্ড স্কিম ‘টাকা পে’র কারিগরি দিক দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের ব্যাংকিং সেক্টর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অবদান স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশে যেসব ব্যাংক ছিলো তার প্রায় সবগুলোর মালিকই ছিলো পাকিস্তানিরা। স্বাধীনতার পর তারা পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলো। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু চারটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজস্ব ব্যাংকিং খাত গড়ে তোলা, নিজস্ব মুদ্রার প্রচলন করেন। সেভাবেই আমাদের যাত্রাটি শুরু।

তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করার পর অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতায় আসে তারা দেশের জন্য কিছুই করেনি। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ওই সময়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হই, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করি এবং আমরা বেসরকারি ব্যাংক অনুমোদন দেই।

সরকারের ক্যাশলেস সোসাইটি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন যেসব কার্ড ব্যবহার করি সেগুলো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রাও পে করতে হয়। এখন আর সেটা করা লাগবে না। আমাদের বিদেশি নির্ভরতাও হ্রাস পাবে। নিজস্ব নেটওয়ার্ক আমরা ব্যবহার করব, যাতে তথ্য কেউ না নিতে পারে। প্রতিটি মানুষের তথ্য যাতে সুরক্ষিত থাকে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ক্যাশলেস সোসাইটি করতে চাই। আজ যে ন্যাশনাল স্কিম টাকা পে অর্থাৎ ক্যাশলেস সোসাইটি করার যে পদক্ষেপ, এটা বাংলাদেশের জন্য একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের ডিজিটাল সিস্টেমে স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে কাজ করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের সময় ‌‘আমার ঘর আমার স্কুল’ সেভাবে শিক্ষাব্যবস্থা করা, আমি নিজেই কত ভিডিও কনফারেন্স করেছি, যাতে আমরা কোনো ক্ষেত্রেই থেমে না যাই। যদি ডিজিটাল ব্যবস্থা না হতো আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল থাকত না।

মোবাইলে বৃত্তির টাকা পাঠানোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে যে সত্যিকারের প্রাপ্য সেই পাচ্ছে, মাঝে কেউ নিতে পারছে না। শিক্ষক থেকে শুরু করে ছাত্রীদের বেতন ভাতা, পেনশন, সব কিছু সহজে দেওয়া যাচ্ছে। সবাই ডিজিটাল সিস্টেমে নিয়ে নিতে পারেন। অনলাইনে নিতে পারছেন, মোবাইল ফোনে নিতে পারছেন।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পর যারা ক্ষমতায় আসে, তারা জাতির পিতা যেখানে দেশটাকে রেখে গিয়েছিল সেই অবস্থানে ধরে রাখতে পারেনি। মাথাপিছু আয়, প্রবৃদ্ধি কমে গিয়েছিল। দেশ সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অন্যের কাছে হাত পেতে চলা– এটাই যেন আমাদের নিয়তি ছিল। যাই হোক, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে আমাদের প্রচেষ্টাই ছিল আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াব, নিজেদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আমরা গড়ে তুলব। সেইসঙ্গে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করব।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ মাত্র পাঁচ বছর আমরা সময় পেয়েছিলাম। সে সময় আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করি এবং আমরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকেও সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিই। কিন্তু ২০০১ থেকে ২০০৮ আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। তখন আবার দেশ পিছিয়ে যায়।

সরকারপ্রধান বলেন, আজকের বাংলাদেশ কারও করুণা ভিক্ষা করে না। আমরা এখন বিশ্ব দরবারে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারি, যেটা আমাদের লক্ষ্য ছিল। এখন যেখানেই আমরা যাই, বাংলাদেশ নাম শুনলে দেখবেন আলাদা একটা মর্যাদা অর্জন করতে পেরেছি গত ১৪-১৫ বছরে। আমাদের লক্ষ্য এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা।




স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বস্ত্রশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) প্রেসিডেন্ট মো. আবদুস সবুর বলেছেন, আগামীর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে প্রকৌশলীদের সুকৌশলী হতে হবে। আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার করে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হলো বস্ত্র শিল্প। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বস্ত্রশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আইইবির বস্ত্র কৌশল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সবুর বলেন, শেখ হাসিনার কাছেই আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজনীতি অনেক নিরাপদ। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই সরকারকে আবারো ক্ষমতায় আনা দরকার।

তিনি আরও বলেন, বস্ত্রশিল্প নিয়ে সরকার অনেক সচেতন। এই শিল্পকে বিকশিত করতে আরও গবেষণা করতে প্রকৌশলীরা এগিয়ে আসবেন। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ অর্জিত হয় তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। সময়ের পরিক্রমায় প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয়।

স্বাগত বক্তব্যে আইইবির সাধারণ সম্পাদক এস.এম. মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, বস্ত্র খাতের নতুন এ বাজার ধরতে এখনই কটনের পাশাপাশি নন-কটনের তৈরি পণ্য রপ্তানিতে জোর দিতে হবে। এজন্য সরকারের নীতি-সুবিধাসহ এসব রপ্তানি পণ্যের প্রণোদনার প্রয়োজন। তাহলে খুব সহজেই এ বাজারে প্রবেশ করা যাবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বিনিয়োগও বাড়বে।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম হাজারী,অমিত কুমার চক্রবর্তী, মো. রনক আহসান, ঢাকা সেন্টারের সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মাসুম কামাল প্রমুখ।




নতুন ইন্টারনেট প্যাকেজের সিদ্ধান্ত স্মার্ট বাংলাদেশের প্রতিবন্ধক

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল ইন্টারনেটের প্যাকেজের ক্ষেত্রে নতুন যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে, তা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে বলে মনে করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন নামক একটি সংগঠন।

বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী, বেকার, শিক্ষার্থী এমনকি নিম্ন আয়ের মানুষজন মোবাইল ইন্টারনেটের বড় গ্রাহক। এ সকল গ্রাহকদের চাহিদাও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেজ যা স্বল্প মূল্যে গ্রাহকরা কিনতে পারে, এই শ্রেণীর গ্রাহকের সংখ্যা বাংলাদেশের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ।

তিনি বলেন, বিটিআরসি যদি এমন সিদ্ধান্ত নিত; যে তিন দিনের জন্য বর্তমান যে প্যাকেজ বা ক্ষুদ্র প্যাকেজের যে মূল্য ঠিক সমপরিমাণ মূল্য দিয়েই সাত দিন বা ১৫ দিনের প্যাকেজ গ্রাহক কিনতে পারবে সেক্ষেত্রে বিটিআরসিকে আমরা সাধুবাদ জানাতাম।

স্বল্প আয়ের এমনকি শিক্ষার্থী বেকার তরুণ ও শ্রমজীবীদের পক্ষে ২০০ বা ৩০০ টাকা দিয়ে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করা অসম্ভব। আজকে প্রধানমন্ত্রী এবং তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করেছেন তা কেবলমাত্র এ সকল গ্রাহকদের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। আগামীতে সরকার যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে যাচ্ছে, সেখানে দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে সরকার ইন্টারনেট এর ব্যবহারের মাধ্যমে আনতে চায়। বিটিআরসি উল্টো পথে হাঁটছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারের সংখ্যা মাত্রা অতিরিক্ত পরিমাণ কমে যেতে পারে।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রাহকের চাহিদা ও পছন্দের উপর কমিশন হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে হয়তো মোবাইল অপারেটর রা লাভবান হবে। কারণ ইন্টারনেটের খরচ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এতে কোনও সন্দেহ নেই। বিটিআরসি যদি প্যাকেজের সংখ্যা কমাতে চায় তাহলে ৪০টি কেন? ব্রডব্যান্ডের ন্যায় এক দেশ এক রেট নয় কেন? চারটি অপারেটরের প্যাকেজের মূল্য এক নয় কেন? অব্যবহৃত ডাটা গ্রাহক ফেরত পায় না কেন? প্রকৃতপক্ষে কমিশন এ সকল গ্রাহকদের বিশেষ করে সাধারণ শ্রেণী গ্রাহকদের কথা আমলে নেয়নি। গ্রাহকের চাহিদা এবং পছন্দের কথা এবং সামর্থ্য বিবেচনা করে কমিশন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে বলে আমরা মনে করি।




স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে সরকার: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চলমান। সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত আরও মজবুত করার স্বার্থে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার জোরালো করতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) সিঙ্গাপুর জাতীয় সংসদের ডিজিটাল লাইব্রেরি সিস্টেমের ওপর এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের কাছে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও তথ্য-উপাত্ত সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। সংসদের বিতর্কে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণসহ অন্যান্য প্রয়োজনে সংসদ লাইব্রেরির মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হচ্ছে। বাজেট অধিবেশন চলাকালীন এই ধরনের সহযোগিতা জোরদারের জন্য প্রতি বছরই বাজেট হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হয়। এ লক্ষ্যে বাজেট অ্যানালাইসিস ও মনিটরিং ইউনিট কাজ করছে।’

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ সব সমস্যা মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের জোরালো ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। সেই সুযোগ বারাতে হলে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের প্রক্রিয়াকে সহজলভ্য করতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে কার্যক্রম চলমান।’

স্পিকার বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার জোরালো করতে সিঙ্গাপুরের কারিগরি সহযোগিতা গ্রহণ করছে সরকার।’

ডিজিটাল লাইব্রেরি সিস্টেম ব্রিফিং শেষে স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) এক্সিকিউটিভ কমিটির সাউথ-ইস্ট এশিয়া রিজিওনের রিপ্রেজেনটেটিভ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী সিঙ্গাপুরের মাউন্টব্যাটেন নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য লিম বায়ো চুয়ান। সাক্ষাৎকালে সিপিএ’র বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

এ সময় ছিলেন বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ, সিঙ্গাপুর পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটের কর্মকর্তা।




‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী গড়ে তুলছি’

২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সবক্ষেত্রে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (২০ আগস্ট) সকালে নবনির্মিত ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন’ ও ‘তথ্য কমিশন ভবন’ এবং ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশ এগোয়নি, মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো সরকার জনগণের কথা ভাবেনি।

তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে, অবৈধভাবে সামরিক শাসন জারি করে যারা সরকারে এসেছিল, তারা কখনোই গণমানুষের কথা ভাবেনি। সেটা জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া যে-ই হোক। ক্ষমতা ভোগ করা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অত্যাচার করা, এসবই তারা জানত। বর্তমানে দুর্যোগ ও অগ্নিসন্ত্রাস মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কলকাতা থেকে এই উপমহাদেশে সিনেমার যাত্রা শুরু। আমাদের সিনেমা শিল্পের যাত্রা জাতির পিতার হাত ধরে। তিনি শিল্পমন্ত্রী থাকা অবস্থায় এফডিসি নির্মাণ করেন। সিনেমায় জনসাধারণের জন্য বার্তা থাকতে হবে। মাঝে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখা যেত না। এখন তার পরিবর্তন হয়েছে। এখন আধুনিক প্রযুক্তিতে সিনেমা দেখানো হয়। হল মালিকদের সিনেপ্লেক্স তৈরির সুযোগ করে দিয়েছি আমরা। এখন ভালো সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে, বিদেশে আমাদের সিনেমা প্রশংসা পাচ্ছে। চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সুবিধার ব্যবস্থা আমরাই করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আমরা গঠন করেছি। যন্ত্রশিল্পী থেকে শুরু করে সব শিল্পীকে সহায়তা করেছি। মানসম্মত সিনেমা নির্মাণের সব ব্যবস্থা করেছি। এফডিসি কমপ্লেক্স করছি।’

এ সময় তিনি বলেন, আমি মনে করি, শিশুদের জন্য সিনেমা করতে হবে। যারা সিনেমা নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত, তাদের শিশুদের জন্য সিনেমা নির্মাণ করার অনুরোধ করছি।




স্মার্ট বাংলাদেশ রূপান্তরে মিডিয়ার দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ আবশ্যক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তাই উন্নয়নের অভিযাত্রী অদম্য বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের অগ্রযাত্রায় মিডিয়াসহ সবার দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ একান্ত আবশ্যক।

শুক্রবার (১৯ মে) রাজধানী ঢাকাস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরাতে (আইসিসিবি) গ্রিন মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড আয়োজিত গ্রিন টেলিভিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে স্পিকার এসব কথা বলেন।

রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং গ্রিন টিভির পৃষ্ঠপোষক আলহাজ্ব রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। বিশেষ বক্তব্য দেন গ্রিন টিভির পরিচালক আমীন হেলালী। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, গ্রিন টেলিভিশনের লোগোতে লাল সবুজের অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, চেতনা ও সঠিক ইতিহাস প্রচারের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে গ্রিন টেলিভিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বমানের অনুষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বের নিকট তুলে ধরতে এ টেলিভিশন অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্পিকার বলেন, সব কার্যক্রম পরিচালনায় পরিবেশকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোভিড পরবর্তী ‘বিল্ড বেটার, বিল্ড গ্রিনার’ স্লোগানকে প্রাধান্য দিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়গুলোতে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে টেলিভিশনটিকে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ সম্পূর্ণরূপে কার্যকর। ডিজিটাল বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নত প্রযুক্তিগত জ্ঞান আবশ্যক। তরুণরা সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হয়ে তাদের মেধা ও যোগ্যতার সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমর্থ হবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এসময় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গ্রিন টিভির লোগো উন্মোচন করেন এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কেক কেটে গ্রিন টেলিভিশনের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যরা, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, টেলিভিশন ও মিডিয়া জগতের শিল্পী ও কলাকুশলীরা, আমন্ত্রিত অতিথিরা, বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।