স্বর্ণের দাম আরও কমলো

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এতে নতুন করে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এর আগে রবিবার রাতে ঘোষণা দিয়ে সোমবার থেকে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে রাতের সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সকালে আবারও দাম কমানোর ঘোষণা আসে।

নতুন দরে ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ২৯৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

এর আগে ঘোষিত দরে সোমবার সকাল ১০টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।




বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আবারও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। গত বছর মূল্যবান এই ধাতুর দাম রেকর্ড ৬৪ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা চলতি বছরও অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডলারের দরপতনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮৯ দশমিক ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে সর্বকালের সর্বোচ্চ হিসেবে স্বর্ণের দর উঠেছিল ৫ হাজার ১১০ দশমিক ৫০ ডলারে। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ভবিষ্যৎ মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮৬ দশমিক ৩০ ডলার।

এদিকে, রুপার দামেও বড় উত্থান দেখা গেছে। গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো রুপার দাম আউন্সপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ায়। চলতি সপ্তাহে তা আরও বেড়ে ১০৮ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। ভেনেজুয়েলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ, ইরানকে ঘিরে হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার ফলে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণ ও রুপাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বাড়তি চাহিদা, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি শিথিল হওয়া এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দাম বাড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, গত ডিসেম্বরে টানা ১৪ মাস ধরে চীনের স্বর্ণ ক্রয় এবং এক্সচেঞ্জ–ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ প্রবাহ স্বর্ণের দামে বড় ভূমিকা রেখেছে। এসব কারণে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি।

ডলারের সাম্প্রতিক দুর্বলতার পেছনে জাপানের মুদ্রা ইয়েনকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন জল্পনাও কাজ করছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ট্রেডারদের সঙ্গে ইয়েনের বিনিময় হার নিয়ে যোগাযোগ করেছে—এমন প্রতিবেদনের পর এশিয়ার বাজারে ইয়েনের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে ডলারের বিপরীতে ইয়েন এক শতাংশের বেশি শক্তিশালী হয়ে ১৫৩ দশমিক ৮৯-এ দাঁড়িয়েছে।




ভরিতে ৩৪৫৩ টাকা কমল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এক লাফে ভরিতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা কমেছে। সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে শুক্রবার থেকে এই মানের স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৮ টাকায় বিক্রি হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর আর এক দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়। সে সময় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয় ১ হাজার ৩৬৫ টাকা। ফলে দুদফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হলো ৪ হাজার ৮১৮ টাকা।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৩০১ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৮২২ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৪১৫ টাকা কমিয়ে ৯৩ হাজার ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে এক ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪২ হাজার ১৬১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত ৩১ অক্টোবর এক ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম।

এদিকে অনেক দিন পর স্বর্ণের দামের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৬২৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১২৮ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৯৩ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ১৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৭০ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৬১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর স্বর্ণের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে চাহিদা বাড়ায় ঊর্ধ্বমুখী ধাতুটির বাজারদর। গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। খবর রয়টার্স।

 

৭ অক্টোবর আকস্মিক হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী একটি যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ কেনায় ঝুঁকছেন। স্পর্ট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪৯ ডলার ৯০ সেন্টে। এক সপ্তাহের মধ্যে এটিই ধাতুটির সর্বোচ্চ দাম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে গেছে। দাম উঠেছে ১ হাজার ৮৬৪ ডলার ৫০ সেন্টে।

সিটি ইনডেক্সের সিনিয়র বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, ‘‌ভূরাজনৈতিক জটিলতার মধ্যে স্বর্ণ তার “‍সেফ হ্যাভেন’’‌ স্ট্যাটাস ফিরে পেয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার আগেও ধাতুটির বাজার নিম্নমুখী ছিল। আমাদের মনে হচ্ছে, দাম ১ হাজার ৮৮০ ডলারে ওঠার সম্ভাবনা আছে। আর যদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে সুদহার কমে আসে, তাহলে যেকোনো সময় স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯০০ ডলারে উঠে রেকর্ড ভাঙতে পারে।’‌

যুদ্ধ কিংবা অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় ব্যাংক সুদহার দ্রুত ওঠানামা করার ঝুঁকি থাকে। অন্যান্য ব্যবসায়ও অনিশ্চয়তা ভর করে। এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণে নিরাপদ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ওয়ে ওঠে মানুষ। স্বর্ণের দাম ব্যাপক হারে পরিবর্তনশীল না হওয়ায় সংকটকালে বিশ্বজুড়ে মূল্যবান এ ধাতুটিকে বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে মনে করা হয়।

এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নতুন রূপ ধারণ করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ, ট্রেজারি বন্ড, ডলার, জাপানিজ ইয়েনের চাহিদা বেড়ে যাবে।

তবে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির লাগাম কিছুটা টেনে ধরছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য। মূল্যস্ফীতি হার এখনো প্রত্যাশিত ২-এর ঘরে নামেনি। এমন তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, শিগগিরই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উচ্চ সুদহার কমাবে না। বাজারে এমন দৃষ্টিভঙ্গি চাউর থাকায় ডলারের বিনিময় হার বেড়েই চলেছে। উচ্চ সুদহারের কারণে বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ায় স্বর্ণের চাহিদা মন্থর।

গত সপ্তাহের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান হার আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে, যা শক্তিশালী শ্রমবাজারকে নির্দেশ করছে। এ সপ্তাহে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে তা চলতি বছর আরো এক দফা সুদহার বাড়ানোর পথ প্রস্তুত করতে পারে। সুদহার আরো বাড়লে ডলার বাদে ভিন্ন মুদ্রার গ্রাহকদের স্বর্ণ ক্রয় খরচ বেড়ে যাবে, যা ধাতুটির চাহিদা কমিয়ে দেবে।

এদিকে স্পট মার্কেটে অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আউন্সপ্রতি দাম উঠেছে ২১ ডলার ৭৫ সেন্টে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮২ ডলার ১২ সেন্টে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে গেছে। দর নেমেছে ১ হাজার ১৫৪ ডলার ৪৯ সেন্টে।