উৎসবমুখর নির্বাচন দিয়ে যেতে পেরে অনেক সন্তুষ্ট: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন দিয়ে যেতে পেরে তিনি অনেক সন্তুষ্ট।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিদায়ী সংবর্ধনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন অনেক স্থিতিশীল।

গত দেড় বছরে এ মন্ত্রণালয়ে কী ধরনের দুর্বলতা ছিল- জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার বড় সন্তুষ্টি, আমি যে পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছিলাম, একটা ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল, এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রেখে যেতে পারছি। এটা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে।’

পরবর্তী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তার জন্য শুধু আমার দোয়া। আমরা যতটুকু রেখে গেছি, উনি উত্তরোত্তর আরও ভালো করবেন। উনার জন্য শুভকামনা, উনি আরও ভালো করবেন।’

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তারা অসাধারণ কাজ করেছে। অনেক প্রশ্ন ছিল যে নির্বাচন হবে কি হবে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন হবে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায়, সবার সহযোগিতায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য হয়েছে। কোথাও কোনো বড় ধরনের সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেনি।’

তবে সিলেটের কুলাউড়ায় ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেখানে একটা ঘটনা ঘটেছিল, তবে সঙ্গে সঙ্গে তা উদ্ধার হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘পাসপোর্টে পুলিশি ছাড়পত্র উঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে, তবে পুরোটা স্বস্তি এসেছে তা আমি বলবো না।’

দেড় বছরে সবকিছু করে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশেই থাকছি। এক ছেলে, এক মেয়ে আছে। নাতি-নাতনি আছে। তাদের নিয়েই দেশে আছি।’




দুর্গাপূজা ঘিরে গুজব ছড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রবিবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান।

স্বরাষ্ট উপদেষ্টা বলেন, এ বছর সারা দেশে পূজা মন্ডপের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩৫৫ টি। গত বছরের থেকে এবছর প্রায় ১ হাজারের মণ্ডপ বেড়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব শুরু করেছে, তারা আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৯ দিন দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি জানান, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য সারাদেশে ৭০ হাজার পুলিশ কাজ করবে। এছাড়া দেশব্যাপী প্রায় ১ লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও ৪৩০ প্লাটুন বিজিবি নিয়োজিত থাকবে।

উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি পূজা মণ্ডপের কমিটির ৭ জন সদস্য পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেছে। প্রতি পূজা মণ্ডপের কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের এনটিএমসি অ্যাপ এর সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মহিলা ও শিশু অধিদপ্তর থেকে ৮০ হাজারের মতো লোক দূর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতি জেলায় ছাত্র-জনতাকে অন্তর্ভুক্ত করে মনিটরিং করা হয়েছে। ঝুকিপূর্ণ মন্দির পূজা মণ্ডপে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্প্রতি চট্রগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার একাধিক পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, কারও ভেতরে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই।

এ সময় খাগড়াছড়ির ঘটনা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সব পক্ষকে নিয়ে বসেছেন বলেও জানান তিনি।




দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, পূজা সামনে রেখে খারাপ কোনো কিছু যাতে না ঘটে, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের মিশনপাড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে পূজার প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

 

গতবারের চেয়ে এবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন ভালো উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজারের মতো পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে যাতে পূজা উদ্‌যাপন করা যায়, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৭ জন স্বেচ্ছাসেবী, ৮ জন আনসার সদস্য ছাড়াও পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। এবারের পূজায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী রাখা হচ্ছে। তাই এবার পূজায় কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না। পূজামণ্ডপের সামনে দোকান থাকলেও মেলা থাকতে পারবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের উপদেষ্টা প্রবীর কুমার সাহা, রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের মহারাজ একতানন্দসহ জেলা ও মহানগর পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

পরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নেন।




নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন দুর্গাপূজায় যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্য আমাদের যা করা প্রয়োজন তা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিন।

উপদেষ্টা বলেন, আপনারা জানেন পূজা একেবারেই নিকটে চলে এসেছে। পূজার ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের নিতে হবে। এটি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এর পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কে কোন ধর্মের আমরা সে বিচারে যাব না। এর পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। তারা (সনাতন ধর্মাবলম্বীরা) যেন ভালোভাবে পূজাটা করতে পারেন। এজন্য আপনাদের সবার সাহায্য এবং সহযোগিতা প্রয়োজন।

উপদেষ্টা বলেন, পূজায় যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্য আমাদের যা করা প্রয়োজন তা করব। সবাই যেন নির্বিঘ্নে এবং ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পূজা করতে পারে আমরা সে ব্যবস্থা করব। এর পবিত্রতা রক্ষায় আমরা সব ব্যবস্থা নেব।

তিনি বলেন, অনেক জায়গায় পূজা কমিটিতে নিজেদের মধ্যে একটি কোন্দল রয়ে গেছে। আমরা অনুরোধ করব তারা নিজেদের কোন্দল মিটিয়ে কীভাবে ভালো করে পূজা উদযাপন করা যায় সে ব্যবস্থা করবে। আমরা আশা করি এবারের পূজা নির্বিঘ্নে, উৎসবমুখর পরিবেশে ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে উদযাপন করা যাবে।




চেয়ারে বসার পর বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন গজিয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চেয়ারে বসার পর (ক্ষমতায় আসার পর) নিজের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন গজিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজিতে জড়িত হলে জানাবেন। উপদেষ্টার কেউ দুর্নীতি করলে সে খবর প্রকাশ করেন। তবে ভুল খবর না প্রকাশের অনুরোধ করেন তিনি।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি এ সময় আরও জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের খোঁজ দেওয়ার বিষয়ে পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, লুট হওয়া পিস্তলের জন্য ৫০ হাজার, শটগানের জন্য ৫০ হাজার, চায়না রাইফেলের জন্য এক লাখ, এসএমজির জন্য এক লাখ ৫০ হাজার, এলএমজির জন্য পাঁচ লাখ, প্রতি রাউন্ড গুলির জন্য ৫০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কেউ লুট হওয়া অস্ত্রের তথ্য দিলে তার তথ্য গোপন রাখা হবে। নির্বাচনের আগে যতটা সম্ভব লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করবো।

এর আগে, ১০ আগস্ট জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের খোঁজ দিলে পুরস্কার মিলবে বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোতে এখন প্রচুর নিয়োগ হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এতে নিয়োগ বাণিজ্য হলে সে খবর জানান। নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে নিয়োগ বাণিজ্যের খবর হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চেয়ারে বসার পর বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন গজিয়েছে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজিতে জড়িত হলে জানাবেন। উপদেষ্টার কেউ দুর্নীতি করলে সে খবর প্রকাশ করেন। তবে ভুল খবর না প্রকাশের অনুরোধ করেন তিনি।

গাজীপুরের পুলিশ কমিশনারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মো. নাজমুল করিম খান ঢাকায় থাকেন। গাজীপুরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তিনি এক পাশের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করছেন, একটি গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

ভারতে গ্রেফতার আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি পুলিশ কর্মকর্তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। বিজিবি-বিএসএফের মধ্যেও যথাযথ চ্যানেলে পাঠানোর নিয়ম আছে। সে ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

মব একেবারে নির্মূল না হলেও, কমে এসেছে বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নির্ভর করে জনগণ এবং রাজনৈতিক দলের ওপর। তারা নির্বাচনমুখী হলে অনেক সমস্যা কমে যাবে। জনগণ নির্বাচনমুখী হয়ে গেছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন জাতির আশা। সে আশা পূরণ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।

গত ১০ আগস্ট স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, লুট হওয়া ৭০০টিরও বেশি পুলিশের অস্ত্রের এখনো খোঁজ মেলেনি।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার পতনের পর বিভিন্ন থানা-ফাঁড়িসহ পুলিশের নানা স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। গোলাবারুদ লুট হয় ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯টি। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদের মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের রাইফেল, এসএমজি (স্মল মেশিনগান), এলএমজি (লাইট মেশিনগান), পিস্তল, শটগান, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, কাঁদানে গ্যাসের শেল, কাঁদানে গ্যাসের স্প্রে, সাউন্ড গ্রেনেড ও বিভিন্ন বোরের গুলি।




নির্বাচনে ৮০ হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ৮০ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে কেরানীগঞ্জে ঢাকা-৩ সংসদীয় আসনের ৩ নং ভোটকেন্দ্র তেঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও নৌবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সর্বোপরি জনগণ। আশা করি, আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রসহ একজন বাড়তি আনসার সদস্য (গানম্যান) নিয়োজিত থাকবে।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব। পরিস্থিতি যে পর্যায়ে আছে আমাদের নির্বাচন করতে কোনও সমস্যা নেই।

উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় পুলিশ সদস্যদের কাছে বডি ক্যামেরা থাকবে। ভোট যেন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হয় সেজন্য সরকারের সব ধরনের প্রচেষ্টা করা হবে। এ সময় রাজনৈতিক দলগুলো ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে আমরা একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো অস্ত্রের সন্ধান দিতে পারবে, তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।

এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, র‌্যাব ১০ অফিস ও কেরানীগঞ্জ থানা পরিদর্শন করেন।




গোপালগঞ্জের ঘটনায় গণগ্রেপ্তার হচ্ছে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় গণগ্রেপ্তার হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি কোনো অবস্থাতেই যেন দুষ্কৃতকারী ছাড়া না পায় এবং নিরপরাধ মানুষ হয়রানি না হয়। এ ঘটনায় গণগ্রেপ্তার হচ্ছে না। যারা অন্যায় করেছে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে৷ যখন যে পরিস্থিতি তখন সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন ও তৎসংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, ঢাকায় পুলিশের সব ডিসি, র‌্যাবের কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনীতে যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের ডাকা হয়েছিল। তাদের থেকে আমরা শুনলাম এখন আইন-শৃঙ্খলার কি পরিস্থিতি এবং আগে কেমন পরিস্থিতি ছিল। তারা জানিয়েছেন, তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত হয়েছে।

আসলেই কী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। এখন আমি যদি বলি সেটা তো আপনারা বিশ্বাস করবেন না। সুতরাং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে কী হয়নি সেটা আপনার ভালো বলতে পারবেন।

উপদেষ্টা বলেন, গোপালগঞ্জের ঘটনা আমার অস্বীকার করছি না৷ রাজনীতি করতে গেলে অনেক সময় অনেক কিছুই হয়৷ এক সময় আমরাও করেছি। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতেও অনেক সময় অনেক কিছু হয়। কিন্তু ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা সেটাই হল আমাদের কথা। কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি হরতাল ডাকা হয়েছে৷ কিন্তু হরতালটা হয়েছে কিনা সেটা আপনারাই বলেন। দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য সময় হরতালে এর চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু তার থেকে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছে কিনা সেটা দেখবেন।

গোপালগঞ্জের ঘটনায় মামলার প্রসঙ্গে টেনে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সেখানে পুলিশ মামলা করবে কী করবে না সেটা নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ গোপালগঞ্জের ঘটনা আপনারা নিজ চোখে দেখেছেন তারা কী পরিস্থিতি করেছে।

গোপালগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে নির্বাচনী মাঠ সামাল দেওয়া যাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আপনি আমাকে যে প্রশ্নটি করলেন এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এই যে আপনি আপনার মত প্রকাশ করতে পারছেন। আমার অনুরোধ থাকবে মত প্রকাশের জন্য যেন কোনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করা না হয়। যেন আক্রমণাত্মক কিছু না হয়। আরেকটি বিষয় হলো গণতন্ত্রে সত্য কথাটা সবসময় প্রকাশ পায়।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সামনের নির্বাচন সম্ভব কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে নির্বাচন করা যাবে না কেন? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত৷ সামনে আরও সময় রয়ে গেছে৷ আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। নির্বাচন করতে কোনো অসুবিধা হবে না।




এবার ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এবারের ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল।

তিনি বলেন, আপনারাও (সাংবাদিকরা) লিখেছেন এবার ঈদুল আজহা উদযাপনের সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো ছিল। ঈদে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে বাড়ি ফিরেছে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে। এখন ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে সবাই নিরাপদে ফিরছে এবং যার যার কর্মস্থলে যোগদান করছেন।

রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যু নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। ইন্ডিয়ার হাইকমিশনার আমাদের অফিসে এসেছিলেন। তার সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। ভারতে যদি কোনো বাংলাদেশি থেকে থাকে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের পাঠালে গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারকে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের ডেট (তারিখ) তো ফিক্সড করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন যখনই ডেট ফিক্সড করবে বা যখনই নির্বাচন হোক, তার জন্য প্রস্তুত আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ মানবিক পুলিশ দেখতে চায়। তারা আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সক্রিয় রয়েছে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শনিবার উত্তরায় টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে কোরবানির বর্জ্য: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

এবার কোরবানি শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সকল বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রবিবার আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট ও কাঁচা চামড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

 

উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা জানেন, প্রতিবারই অনেক চামড়া নষ্ট হয়। আমরা চাই, বিক্রেতারা চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাক। চামড়ার ন্যায্যমূল্য গরিবের হক। চামড়াগুলো বিভিন্ন গরিব মানুষকে, এতিমখানায়, মাদ্রাসায় দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা এটার ন্যায্যমূল্য পান না। এবার তারা যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, সেটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর আমরা চেষ্টা করছিলাম হাসিলটা কমানো যায় কিনা। তাদের সঙ্গে আমরা বসে আলোচনা করে বলেছি, ৫ শতাংশ হাসিল অনেক বেশি। এটা কমানো যায় কিনা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও হাসিল কমাতে পারিনি। আগামীবার হয়তো আমরা থাকবো না, কিন্তু আমরা কাজ করে যাচ্ছি আগামীবার থেকে হাসিল যাতে ৩ শতাংশের বেশি না হয়। এবার দুই দিকে ২০টি হাটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব হাটে যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক থাকে সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমরা পশুর হাটে চিকিৎসক এর ব্যবস্থা করেছি। কোনো অসুস্থ গরু যেন বিক্রি হতে না পারে। এছাড়া অনেকেই গরুর হাটে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে; তাদের জন্যও চিকিৎসক থাকবে। প্রতিটি হাটের দায়িত্বশীলরা এটার বন্দোবস্ত করবে। প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক আনসার সদস্য থাকবে।’

উপদেষ্টা বলেন, প্রায় তিনদিন কোরবানি চলবে। প্রথম দিনের প্রায় ৯০ শতাংশ গরু কোরবানি করা হয়ে যায়। এরপর ২ দিন কিছু কিছু করে কোরবানি হয়। ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যেন অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসকরা আমাদের কথা দিয়েছেন ১২ ঘণ্টার মধ্যে সকল বর্জ্য অপসারণ করা হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। এজন্য আমি প্রশাসকদের ধন্যবাদ জানাই।’




যেটা যে সময় দরকার পড়ে, সেই সময় সেটা করা হয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর খসড়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, যে রকম যেটা যে সময় দরকার পড়ে, সেই সময় সেটা করা হয়।

রোববার (২৫ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর হাট ও কাঁচা চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন উপদেষ্টা।

গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সচিবালয়ে বিক্ষোভ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সভা শেষে সাংবাদিকরা জানতে চান– সরকারি কর্মচারী অধ্যাদেশ নিয়ে সচিবালয়ে কর্মচারীরা বিক্ষোভ করছেন। তারা আপনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কী ভাবছেন? জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘যে আইনটা হচ্ছে এটা এরকম কি না ২০১৮ সালে সংশোধন হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার একটা সংশোধন করে ইলেকশনটা যাতে ম্যানিপুলেট করতে পারে, ওইরকম কিছু কিছু সংশোধন করেছিল। ওই সংশোধনটা শুধু বাদ দেওয়া হয়েছে। আগে আইনটি যে রকম ছিল ওটাই করা হয়েছে। তারপরও যদি তাদের কোনোরকম ইয়ে.. থাকে, তারা আলোচনা করতে পারে, ক্যাবিনেট ডিভিশন কিংবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। আলোচনা করে সমস্যাটা সমাধান করে নেবে।’

কেন এসময়ে এই অধ্যাদেশ করা জরুরি– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটার ব্যাখ্যা তো আমি দিতে পারব না, কেন এটা দিতেছে। যে রকম যেটা যে সময় দরকার পড়ে, সেই সময় সেটা দেয় (করা হয়)।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘২০১৮ সালে (আইনটা) পরিবর্তন হয়েছে। এখন আবার একটু সংশোধন হয়েছে। এটা তো ওইরকম কিছু না।’




ঢাকায় ইইউভুক্ত দেশের জন্য ভিসা সেন্টার খোলার অনুরোধ

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত যেসব দেশের ভিসা ঢাকা থেকে ইস্যু করা হয় না, ইইউ রাষ্ট্রদূতকে সেসব দেশের জন্য ঢাকায় একটি ভিসা সেন্টার খোলার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সাক্ষাৎ করতে গেলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ অনুরোধ জানান।

বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, অভিবাসন, মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ, বাংলাদেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

উপদেষ্টা বলেন, ইইউভুক্ত দেশসমূহে বাংলাদেশ অন্যতম জনশক্তি রপ্তানিকারক দেশ। তাছাড়া ব্যাবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, চিকিৎসাসহ নানা কাজে প্রচুর বাংলাদেশি লোকজন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যা বিবেচনায় পৃথিবীর শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে অন্যতম। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে গিয়ে ইইউভুক্ত দেশের জন্য ভিসা সংগ্রহ সময়সাপেক্ষ, কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। তাই ইইউভুক্ত দেশসমূহের জন্য ঢাকায় একটি

ভিসা সেন্টার খোলা অত্যাবশ্যক। রাষ্ট্রদূত, এ বিষয়ে ইইউভুক্ত দেশসমূহের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান।
ইইউ রাষ্ট্রদূতকে উপদেষ্টা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের উন্নয়নে অন্যতম বৃহৎ অংশীদার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইইউ বাংলাদেশের ব্যাবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে ইইউ সমর্থন করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ চাইলে ইইউ প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সামর্থ্য, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা দিয়ে এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে পারে। বাংলাদেশে এ বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতি রয়েছে বিধায় উপদেষ্টা সংশ্লিষ্টদের জন্য ইইউভুক্ত দেশে এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের অনুরোধ করেন। এ সময় উপদেষ্টা বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের আন্তরিকতা ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হলে এটি ফলপ্রসূ হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তবে ধীরে ধীরে এটির উন্নতি ঘটছে। এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, ইইউ বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। রাষ্ট্রদূত, সংঘবদ্ধ মবসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক অপরাধ পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমছে। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, যত বেশি সঠিক তথ্য জনগণকে সরবরাহ করা হবে, তত বেশি অপতথ্যের বিস্তার দূরীভূত হবে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশ বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি আমাদের মিডিয়াকে সবসময় সঠিক তথ্য পরিবেশনের জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছি।

রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, অফিসিয়ালি বাংলাদেশে ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর চেয়েও বেশি শরণার্থী কক্সবাজারে বসবাস করছে, যা ঐ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ। সেখানে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে আমাদের বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থাও রোহিঙ্গাদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে।

মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে ইইউ বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিবছর প্রচুর বাংলাদেশি ইউরোপে অভিবাসনের উদ্দেশ্যে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়। দালাল ও মানবপাচার চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেকের প্রাণহানি ঘটে।

তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ, লিবিয়া ও ইইউ এর মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় ডায়ালগ আয়োজন ও পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। উপদেষ্টা এ বিষয়ে ইইউকে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেন। বাংলাদেশ এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করবে।




শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি ফোর্স নেয়ার অনুরোধ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ থেকে পুলিশ ও সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যসহ আরও বেশি হারে ফোর্স নেয়ার জন্য জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। উপদেষ্টার সঙ্গে গতকাল জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল Jean-Pierre Lacroix এর সাক্ষাতে তিনি এ অনুরোধ জানান।

বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান, বর্তমান অবস্থান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, মিশনের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য অফিসার ও ফোর্সদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সামর্থ্য বৃদ্ধি, নারী পুলিশ অফিসারদের সমন্বয়ে ফিমেল প্লাটুন প্রেরণ, মিশনে বিজিবি ও আনসার সদস্য প্রেরণের সম্ভাব্যতা, দক্ষিণ সুদান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে ফরমড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) প্রেরণ, রোহিঙ্গা সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একসময় শীর্ষ দেশ ছিলো। কালের পরিক্রমায় বর্তমানে আমাদের অবস্থান তৃতীয়। নেপাল ও রুয়ান্ডা বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আবারও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রথম স্থান পুনরুদ্ধার করতে চাই। আমরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় বিভিন্ন দেশে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের প্রেরণ করতে চাই। তাছাড়া মিশনে প্রশিক্ষিত আনসার সদস্যদের প্রেরণেরও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের সহযোগিতা আমাদের একান্ত প্রয়োজন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, পুলিশসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণের ক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেখানে শীর্ষ পদগুলোতে যাতে বাংলাদেশী অফিসাররা আরও অধিক হারে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা চেষ্টা করছি। তিনি এসময় সারাবিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রেরণের জন্য আমাদের একটি ফিমেল প্লাটুন প্রস্তুত রয়েছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অভ পিস অপারেশন (ডিপিও)-এর সহযোগিতা প্রয়োজন যাতে তারা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুত শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত হতে পারে। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাফল্যের সহিত ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অভ কঙ্গো থেকে দক্ষিণ সুদানে দু’টি ঋড়ৎসবফ চড়ষরপব টহরঃ (ঋচট) মোতায়েন করে। বাংলাদেশের প্রশংসনীয় পারফরম্যান্স সত্বেও বর্তমানে সেখানে কোনো ঋচট নেই। তিনি আরও বলেন, যদিও জাতিসংঘ ২০১৪ সাল থেকে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে একটি মিশন বজায় রেখেছে, সেখানেও বাংলাদেশের কোনো ঋচট প্রতিনিধিত্ব নেই। উপদেষ্টা এ দু’টি দেশে বাংলাদেশ থেকে ঋচট নেয়ার জন্য আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে অনুরোধ করেন।

উপদেষ্টা আরও বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনের পাশাপাশি বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ শুরু থেকে সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের পর রোহিঙ্গা সমস্যা দূরীকরণে আমাদের জনগণের মধ্যে আশা জেগেছে। উপদেষ্টা এসময় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের আরো সময়োপযোগী ও কার্যকরী উদ্যোগ কামনা করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও আইসিটি) খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মুঃ জসীম উদ্দিন খান সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




৫ বছর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে আমি কিছু বলিনি : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পাঁচ বছর সরকারকে ক্ষমতায় রাখার বিষয়ে আমি তো কিছুই বলিনি, এটা জনগণ বলেছে। প্রধান উপদেষ্টা তো বলেই দিয়েছেন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। আমার তো এটা নিয়ে বলার প্রশ্নই আসে না।

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলা ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, রাঘব-বোয়ালদের আটক না করে ছোটদের আটক করা হচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারবো না। এজন্য যে আমরা কিন্তু রাঘব-বোয়ালদের কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। কিন্তু রাঘব-বোয়ালদের তো আমার জালে আসতে হবে। জালে আসার আগ পর্যন্ত তো তাকে আমি ধরতে পারছি না। আমাদের জালে যে আসতেছে ওইটাকে কিন্তু ধরতেছি। তবে কেউ যদি জালে আসার পর যদি আমি ছেড়ে দিছি, তাহলে আমাকে বলতে পারেন।’

আপনি কিশোরগঞ্জে গিয়ে সরকারের পাঁচ বছর থাকা নিয়ে একটা কথা বলেছিলেন। সেটি নিয়ে রাজনীতিতে আলোচনা হচ্ছে। আপনি যদি ব্যাখ্যাটা দিতেন- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো বলিনি, এটা জনগণ বলেছে, আমি তো কিছুই বলিনি। প্রধান উপদেষ্টা তো বলেই দিয়েছেন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। আমার তো এটা নিয়ে বলার প্রশ্নই আসে না।’

চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি না ঘটা উচিত ছিল। যেহেতু ঘটে গেছে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে আমরা সে চেষ্টা করবো।’

তিনি বলেন, ‘সতর্ক থাকার পরও অনেক সময় এ রকম ঘটনা ঘটে যায়। আমাদের যদি কোনো চেষ্টা ত্রুটি থাকে সে বিষয়ে আপনারা বলেন।’

থানায় গিয়ে এ জনগণ এখনো কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। এতে অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ অভিযোগ নেয় না, এটা অনেক পুরোনো অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে আমরা দুটি জিনিস অনলাইনে করব- জেনারেল ডায়েরি (জিডি) ও এফআইআর। আমরা অনলাইনে জিডি দুটি জেলাতে চালু করতে যাচ্ছি, পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে আপনারা বিবৃতি পাবেন। অচিরেই এফআইআর-টাও আমরা অনলাইনে করব। এরপরে এ বিষয়গুলোর স্থায়ী একটা সমাধান হবে বলে আশা করি।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা সবকিছু কিন্তু জনগণের জন্য করি। কিছু বিষয় আছে আমরা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারি না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, কিন্তু সব ক্ষেত্রে যে সফল হচ্ছি, তা নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের ভুল হচ্ছে, সেটাও সংশোধন করছি।’

পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম এবং নতুন লোগো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

কোর কমিটির বৈঠকের বিষয়ক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ শান্তিপূর্ণ ও অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। সবার সার্বিক সহযোগিতায় এবারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভালো।

সবাই নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ও উৎসব উদযাপন করতে পেরেছে, এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।




স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে মুখোমুখি অবস্থানে আন্দোলনকারী-পুলিশ

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিমুখে পদযাত্রায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন আন্দোলনকারীরা। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। পরে বিকেল ৩টা ৫ মিনিট নাগাদ রাজধানীর শিক্ষা ভবন মোড়ে এলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীরা শিক্ষা ভবন মোড়ে আসার আগেই পুলিশ ব্যারিকেড দিলেও আন্দোলনকারীরা সেটি সরিয়ে ফেলেন। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে তাদের আটকে দেন। এসময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

জননিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অবিলম্বে ধর্ষণ ও নিপীড়নের সব ঘটনার বিচার এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে এ পদযাত্রা করেন আন্দোলনকারীরা।

পদযাত্রা শুরুর আগে শহীদ মিনারে ধর্ষণ ও নিপীড়ন বিরোধী সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়। এসময় বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল ‘পুরুষের ক্ষমতা, ভেঙে হোক সমতা’, ‘নারী থেকে নারীতে ছুঁয়ে যাক প্রতিবাদ’।

এর আগে শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা আজকের কর্মসূচির মূল ব্যানার ও বিভিন্ন পোস্টার-প্ল্যাকার্ড লেখেন। এসব পোস্টার-প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘পাহাড় থেকে সমতল, সকল ধর্ষণের বিচার চাই’, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ধর্ষণের রাজনীতি’, ‘আমরা জন্ম থেকে শহীদ, তনু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার কই’ ইত্যাদি।

 




চলতি বছরই ই-পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

এছাড়া ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশিরা ভিসা না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন উপদেষ্টা।

সরকার সব পাসপোর্ট ইলেকট্রনিক পাসপোর্টে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছরই ই-পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন করা হবে। আমার দায়িত্বকালেই এ কাজ শেষ করে যেতে চাই।

তবে রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করার সুযোগ না পান সেটা নিয়েও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।