নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২৪ মে) রবিবার সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)’ আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাগুলো আমাদের সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকার এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।”

রামিসা হত্যা মামলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘রামিসার ঘটনায় মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই দাখিল করা হবে। আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সংলাপে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে তার প্রত্যর্পণের জন্য আগেই বারবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান ‘এক্সট্রাডিশন ট্রিটি’ বা প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী ভারত সরকার তাকে ফেরত পাঠাবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা চাই তিনি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হোন।”

 




সংসদের প্রথম অধিবেশন ইতিহাসের সবচেয়ে সফল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত প্রথম অধিবেশন দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিবেশন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৪ মে) সচিবালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। গতকাল বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রথম অধিবেশন আসলে ব্যর্থ হয়েছে। সংস্কারের প্রস্তাবনা বা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে তারা আবার রাজপথে যাবেন এবং বলেছেন ‘৭২-এর সংবিধান আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার পথ আপনারা প্রশস্ত করছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো তো সবই পুরোনো অভিযোগ। আজ নতুন তো নয়। এখন একজন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তার মতামত উনি দিতেই পারেন। আমরা তো আমাদের বক্তব্য দিয়েছি।’

 

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে সফল অধিবেশন ছিল এই অধিবেশন। দীর্ঘ ১৭ বছর পরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এই পার্লামেন্ট। এই পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন ছিল সবচাইতে লাইভলি, ভাইব্রেন্ট। এই পার্লামেন্টের কন্ট্রিবিউশন ছিল ইতিহাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি। সবচাইতে বেশি আইন প্রণয়ন হয়েছে এই পার্লামেন্টে। সবচাইতে বেশি বিতর্ক না হলেও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিতর্ক হয়েছে এই পার্লামেন্টে। এখানে পজিশন ছিল, অপজিশন ছিল। সবার বক্তব্য ছিল, কিন্তু ভ্রাতৃত্বপূর্ণ একটা সম্পর্ক ছিল, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।’

‘সুতরাং সবকিছু মিলিয়ে আমরা কোনো কোনো সময় বিরোধীদল এবং সরকারি দল মিলে একসঙ্গে কমিটি করেছি, সেটা জাতি দেখেছে এবং জাতীয় ইস্যুগুলোতে আমরা একসঙ্গে কথা বলেছি ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকতেই পারে বিরোধীদল এবং সরকারি দলের মধ্যে। সেই মতবিরোধগুলো তারা প্রকাশ করেছে। আমরা আমাদের মত দিয়েছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই বিতর্কটা তো হবেই। দ্বিমত এবং ভিন্নমত প্রকাশ করার জন্যই তো এই গণতন্ত্র। সুতরাং তার বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। আমার বক্তব্য আমি দিলাম।’




বিরোধীদলের ওয়াকআউট সংসদ সংস্কৃতির অংশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিরোধীদল চাইলে ওয়াকআউট করতে পারে, সংসদের সংস্কৃতিতে এমন সুযোগ রয়েছে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব ও সংবিধান পরিষদ গঠন বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় ওয়াকআউটের কথা জানান। এ সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা ওয়াকআউট করতে চাইলে তা সংসদের প্রচলিত সংস্কৃতির অংশ এবং তাদের সে অধিকার রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, আলোচিত বিষয়ে সরকারের বক্তব্যও সংক্ষেপে রেকর্ডে থাকা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট মুলতবি প্রস্তাবটি ডেপুটি স্পিকার গ্রহণ করেছিলেন এবং তখনই তিনি ৬৮ বিধির আওতায় আপত্তি তুলেছিলেন। কারণ, যে বিষয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, তা মুলতবি প্রস্তাবে আলোচনার বিধান নেই।

 

তিনি বলেন, স্পিকারের বিবেচনায় বিষয়টি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে আলোচনায় আনা হয়েছে এবং এ নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। তবে সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী, এ ধরনের আলোচনার পর ভোটাভুটির কোনো বিধান নেই।

মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন হবে কি হবে না— এ বিষয়ে ভোটাভুটির বিধান রয়েছে। তবে সে সময় ভোটাভুটি হলে প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গৃহীতই হতো না। তিনি উল্লেখ করেন, স্পিকার চাইলে কোনো মুলতবি প্রস্তাব বিবেচনা করবেন কি করবেন না—এটি তার এখতিয়ার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী বিরোধীদল কখনও কখনও সরকারি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করে, যা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নজির অনুসরণে করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রস্তাব গৃহীত না হলেও সেটি উত্থাপনের সুযোগটিই বিরোধীদলের একটি অধিকার।

 

তিনি দাবি করেন, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, একই বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী কোনো বেসরকারি সদস্যও একই ধরনের প্রস্তাব উত্থাপনের দাবি করতে পারেন, যা স্পিকারের বিবেচনার বিষয়।




বাংলাদেশে আরও বেশি হারে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়াতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে এই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার এবং অনেক বড় প্রকল্পে তারা বিনিয়োগ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়াতে তিনি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।

 

জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে এখানে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা যেহেতু একে অপরের পরিপূরক, তাই বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য “ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার ফ্রড” জোটে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ জানান এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে “প্ল্যান অফ অ্যাকশন অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং কোঅপারেশন” সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় সেটি পুনরায় পর্যালোচনার (রিভিউ) জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরে তাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।