যানজট নিরসনে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাস্তবায়নে সময় লাগবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকায় যানজট নিরসনে সরকার অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা শহরের মেগা প্রজেক্টের কারণে উদ্ভূত যানজট রোধ সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই সমস্ত সমন্বয়ের জন্য। যেমন বাস স্ট্যান্ডগুলো আমরা শিফটিং করছি। গ্যাপ টাইমের মধ্যে বাসগুলো কোথায় থাকবে সেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং সেটার একটা ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। মহাখালী বাস স্ট্যান্ড নিয়ে, ফুলবাড়িয়াটা নিয়ে এবং আমরা এই বাস স্ট্যান্ডগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাব, সেই জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো অ্যাকুইজিশন হবে, ডেভেলপমেন্ট হবে, এগুলো সারফেসে আসছে। দৃশ্যমান হতে কিছু সময় লাগবে। কিন্তু আমরা পরিকল্পনাটা এখন ফাইনালাইজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী আসনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ মাঝেমধ্যে তাদের কিছু কিছু অপতৎপরতা চালায়, সেটা দৃশ্যমান। তার অংশ হিসেবে ফজরের নামাজের পরেও মাঝেমধ্যে দুই একটা মিছিল করে ভিডিও-টিডিও করে, সেটা আমরা দেখেছি অল্পসংখ্যক লোক নিয়ে।

তিনি বলেন, গুলশানে যেটা হয়েছে দিনের বেলা ১১টার সময় জুমার নামাজ আদায় করার নাম দিয়ে ওখানে কিছু লোক জড়ো হয়ে হয়ত মিছিল করেছে। এখানে আমরা পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। হয়ত আমাদের গোয়েন্দা তথ্য ছিল কিন্তু আমাদের পুলিশ বাহিনী শুক্রবারে আন্দাজ করতে সক্ষম হয়নি। ওই এলাকায় জুমার নামাজ পড়তে এসে তারা এরকম একটা কিছু করতে পারে। সেটাকে ব্যর্থতা বলার কোনো সুযোগ নেই, আমরা পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন অনুসারে চলে। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দুটা দায়িত্ব। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এর বাইরে বলা আছে, আইনে প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ববলি প্রদান, পালন করা, নির্বাচন সংক্রান্ত।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুসারে স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে। এখানে আইনের মধ্যে এমন কিছু নেই যে, সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ব্যতিরেকে করতে পারে। এটা সমন্বয়ের ব্যাপার। নির্বাচন কমিশন কালকে যেটা টেন্টেটিভ একটা পরিকল্পনা দিয়েছে, আমি ভিডিওটা দেখেছি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, টেন্টেটিভ মানে হচ্ছে একটা সম্ভাব্য সূচি তারা দিয়েছে। এটাকে মিডিয়াতে একটু অন্যভাবে হয়ত স্ক্রল নিয়ে এসেছে যে, নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে এত তারিখ, এত তারিখ, এত তারিখ নির্বাচন হবে।




তেজগাঁও থানা আকস্মিক পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ বিকালে রাজধানীর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর আওতাধীন তেজগাঁও থানা আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী থানার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবকাঠামোগত অবস্থা এবং সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবা পাওয়ার মান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে৷

এ সময় মন্ত্রী থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি থানা ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে অবস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কক্ষ, ডিউটি অফিসারের কক্ষ, তদন্ত কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষ, হাজতখানা এবং পুলিশ সদস্যদের আবাসন ব্যারাক ও ডাইনিং স্পেস (মেস) ঘুরে দেখেন।

ব্যারাক পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের আবাসন ব্যবস্থা, মেসের সার্বিক খাদ্যের মান এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের নাইট ডিউটি ও শিফটিং ডিউটির সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও কাজের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী তেজগাঁও থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন। জিডি (সাধারণ ডায়েরি) বা অভিযোগ জমা দিতে আসা ভুক্তভোগীদের সমস্যার কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং তাদের অভিযোগগুলো দ্রুততম সময়ে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তির জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-সহ সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের মূল কাজই হলো : জনগণের সুরক্ষা ও সেবা দেওয়া। থানাকে প্রতিটি মানুষের আস্থা ও ভরসাস্থল হতে হবে। নাগরিকরা যেন নির্ভয়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে থানায় আসতে পারেন এবং কোনো মাধ্যম ছাড়া নিজের সমস্যা সরাসরি জানাতে পারেন— আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




জনপ্রত্যাশা পূরণে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সমঝোতার ভিত্তিতে এমন একটি সংবিধান সংশোধনী প্রণয়ন করা হবে, যা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারকে এগিয়ে নেবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকের প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর বিবর্তনমূলক প্রক্রিয়ায় যেসব গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেগুলো ধারণ করা হবে। এজন্য সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য পাঁচজন সদস্যের নাম এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তারা নাম দিলে তা গ্রহণ করা হবে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এছাড়া সংসদের ভেতরে ও বাইরে থাকা সব বিরোধী দল এবং সদস্যদের মতামত গ্রহণে কমিটি উন্মুক্ত থাকবে। কেউ সভায় উপস্থিত হয়ে কিংবা লিখিতভাবে মতামত দিলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তাদের আমরা সবসময় স্বাগত জানাব।’

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কমিটির সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নয়, বরং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার আলোকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে সংবিধানেই প্রয়োজনীয় সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

কারা কারা আলোচনায় অংশ নেবেন জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, পেশাজীবী ও আগ্রহী অংশীজনদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যেসব বিষয়ে ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, সেগুলোও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আলোচনায় উঠে এলেও জুলাই জাতীয় সনদে স্থান না পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, লক্ষ্য একটাই- সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য, টেকসই এবং জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায় এমন সংবিধান সংশোধনী প্রণয়ন করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য জয়নুল আবেদীন, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিভ রহমান, মো. নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল।




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইওএম মিশন প্রধানের বৈঠকে মানবপাচার রোধে জোর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশে নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ড সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ করেন তারা।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আইওএম’র সঙ্গে দুই দশকের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদার, জাতীয় মানবপাচার বিরোধী প্রচেষ্টা শক্তিশালীকরণ, সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার রোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আইওএম মিশন প্রধান জানান, সংস্থাটির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (ডিডিজি) উগোচি ড্যানিয়েল আগামী ১ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন। তিনি উগোচি ড্যানিয়েলের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষ্যে আগামী ০৪ আগস্ট ইউএন হাউজ বাংলাদেশে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

মন্ত্রী নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং মানবপাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা ও পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা’ (আইবিএম) কৌশলের জাতীয় বৈধকরণ কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোয় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। একইসাথে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর বিশেষ শাখা সহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে আইওএম-এর অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করা হয়।

তাছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল ভূমিকা এবং আইওএম-এর কারিগরি সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়। আইওএম-এর পক্ষ থেকে নীতি সহায়তা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. লরা টম-বন্ডেএর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, আইওএম’র ন্যাশনাল কনসালটেন্ট (গভর্মেন্ট) ড. এস এম মোরশেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কিছু শিক্ষার্থীর আন্দোলনের পেছনে সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে কিছু মহল সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

তিনি বলেন, যারা আন্দোলন করছে তাদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থী নন। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন ইস্যুতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারকে বিব্রত করতে চায় এমন কিছু মহল তো আছেই। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন ইস্যুতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বা ব্যর্থ হয়েছে, তাদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় ওই শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় তদন্ত করবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুল হওয়া দুটি প্রশ্নের নম্বর পরীক্ষার্থীদের দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী সংসদে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে আর বেশি কিছু বলার নেই।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে সরকার কীভাবে দেখছে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো আমরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। দুই-একটি জেলা এবং ঢাকার কয়েকটি স্পটে সীমিতসংখ্যক মানুষকে এ বিষয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। মিডিয়ায় আসায় বিষয়টি বেশি আলোচনায় এসেছে।

শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে জনভোগান্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সচিবালয়ে গিয়ে দাবি আদায়, পরীক্ষা স্থগিত বা বিনা পরীক্ষায় পাসের মতো একটি অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। সেই প্রবণতার ধারাবাহিকতাই এখনো কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হতে দেব না। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিতে চাই। বাংলাদেশের শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করে জ্ঞানসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক একটি জাতি গড়ে তুলতে চাই।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অটোপাস, অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া এবং ঢালাওভাবে জিপিএ-৫ দেওয়ার সংস্কৃতির সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এসবের কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে।

সম্প্রতি আন্দোলনে পুলিশের হামলার অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো ডিসইনফরমেশন। প্রকৃত ঘটনা, ছবি ও ভিডিও সবার সামনে রয়েছে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।

আন্দোলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পেছনে যেই থাকুক, সামনে তো আমরা আছি।




আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে এবং দলটি আর কোনোদিন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবির প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন, নিপাত ও নির্মূল হয়েছে, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। সেই আওয়ামী লীগ আর কোনোদিন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের বিচার দাবি করা হয়েছে, তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। খুব শিগগিরই তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণহত্যার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং তারা জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আন্দোলনকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, “তাদের ভাষ্য অনুযায়ী দেশে জঙ্গি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জাজনক কিছু হতে পারে না। অনুশোচনা বা দোষ স্বীকারের ইতিহাস তাদের নেই। উল্টো বিদেশে বসে তারা গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”

জুলাই আন্দোলনের চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আগে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলত, তারা এখন দিল্লিতে চলে গেছে। যারা চেতনা বিক্রি করবে, তাদের পরিণতিও ভালো হবে না।”

জুলাই আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাসনে ছিলেন। তাদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক উপস্থিতি না থাকলেও আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তখন আমরা কোনো দিন ঘুমাইনি। ২৪ ঘণ্টা সমন্বয়ের মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে জুলাই যোদ্ধাদের সম্মুখে রেখে অরাজনৈতিক পরিচয়ে আন্দোলনকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।”

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।




নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২৪ মে) রবিবার সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)’ আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাগুলো আমাদের সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকার এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।”

রামিসা হত্যা মামলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘রামিসার ঘটনায় মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই দাখিল করা হবে। আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সংলাপে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে তার প্রত্যর্পণের জন্য আগেই বারবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান ‘এক্সট্রাডিশন ট্রিটি’ বা প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী ভারত সরকার তাকে ফেরত পাঠাবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা চাই তিনি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হোন।”

 




সংসদের প্রথম অধিবেশন ইতিহাসের সবচেয়ে সফল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত প্রথম অধিবেশন দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিবেশন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৪ মে) সচিবালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। গতকাল বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রথম অধিবেশন আসলে ব্যর্থ হয়েছে। সংস্কারের প্রস্তাবনা বা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে তারা আবার রাজপথে যাবেন এবং বলেছেন ‘৭২-এর সংবিধান আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার পথ আপনারা প্রশস্ত করছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো তো সবই পুরোনো অভিযোগ। আজ নতুন তো নয়। এখন একজন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তার মতামত উনি দিতেই পারেন। আমরা তো আমাদের বক্তব্য দিয়েছি।’

 

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে সফল অধিবেশন ছিল এই অধিবেশন। দীর্ঘ ১৭ বছর পরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এই পার্লামেন্ট। এই পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন ছিল সবচাইতে লাইভলি, ভাইব্রেন্ট। এই পার্লামেন্টের কন্ট্রিবিউশন ছিল ইতিহাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি। সবচাইতে বেশি আইন প্রণয়ন হয়েছে এই পার্লামেন্টে। সবচাইতে বেশি বিতর্ক না হলেও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিতর্ক হয়েছে এই পার্লামেন্টে। এখানে পজিশন ছিল, অপজিশন ছিল। সবার বক্তব্য ছিল, কিন্তু ভ্রাতৃত্বপূর্ণ একটা সম্পর্ক ছিল, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।’

‘সুতরাং সবকিছু মিলিয়ে আমরা কোনো কোনো সময় বিরোধীদল এবং সরকারি দল মিলে একসঙ্গে কমিটি করেছি, সেটা জাতি দেখেছে এবং জাতীয় ইস্যুগুলোতে আমরা একসঙ্গে কথা বলেছি ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকতেই পারে বিরোধীদল এবং সরকারি দলের মধ্যে। সেই মতবিরোধগুলো তারা প্রকাশ করেছে। আমরা আমাদের মত দিয়েছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই বিতর্কটা তো হবেই। দ্বিমত এবং ভিন্নমত প্রকাশ করার জন্যই তো এই গণতন্ত্র। সুতরাং তার বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। আমার বক্তব্য আমি দিলাম।’




বিরোধীদলের ওয়াকআউট সংসদ সংস্কৃতির অংশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিরোধীদল চাইলে ওয়াকআউট করতে পারে, সংসদের সংস্কৃতিতে এমন সুযোগ রয়েছে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব ও সংবিধান পরিষদ গঠন বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় ওয়াকআউটের কথা জানান। এ সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা ওয়াকআউট করতে চাইলে তা সংসদের প্রচলিত সংস্কৃতির অংশ এবং তাদের সে অধিকার রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, আলোচিত বিষয়ে সরকারের বক্তব্যও সংক্ষেপে রেকর্ডে থাকা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট মুলতবি প্রস্তাবটি ডেপুটি স্পিকার গ্রহণ করেছিলেন এবং তখনই তিনি ৬৮ বিধির আওতায় আপত্তি তুলেছিলেন। কারণ, যে বিষয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, তা মুলতবি প্রস্তাবে আলোচনার বিধান নেই।

 

তিনি বলেন, স্পিকারের বিবেচনায় বিষয়টি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে আলোচনায় আনা হয়েছে এবং এ নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। তবে সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী, এ ধরনের আলোচনার পর ভোটাভুটির কোনো বিধান নেই।

মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন হবে কি হবে না— এ বিষয়ে ভোটাভুটির বিধান রয়েছে। তবে সে সময় ভোটাভুটি হলে প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গৃহীতই হতো না। তিনি উল্লেখ করেন, স্পিকার চাইলে কোনো মুলতবি প্রস্তাব বিবেচনা করবেন কি করবেন না—এটি তার এখতিয়ার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী বিরোধীদল কখনও কখনও সরকারি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করে, যা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নজির অনুসরণে করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রস্তাব গৃহীত না হলেও সেটি উত্থাপনের সুযোগটিই বিরোধীদলের একটি অধিকার।

 

তিনি দাবি করেন, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, একই বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী কোনো বেসরকারি সদস্যও একই ধরনের প্রস্তাব উত্থাপনের দাবি করতে পারেন, যা স্পিকারের বিবেচনার বিষয়।




বাংলাদেশে আরও বেশি হারে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়াতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে এই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার এবং অনেক বড় প্রকল্পে তারা বিনিয়োগ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়াতে তিনি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।

 

জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে এখানে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা যেহেতু একে অপরের পরিপূরক, তাই বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য “ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার ফ্রড” জোটে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ জানান এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে “প্ল্যান অফ অ্যাকশন অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং কোঅপারেশন” সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় সেটি পুনরায় পর্যালোচনার (রিভিউ) জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরে তাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।