উচ্চ আদালতে রামিসার মামলার শুনানি এগিয়ে আনতে সুপারিশ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় দ্রুত কার্যকরে উচ্চ আদালতের শুনানি এগিয়ে আনতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত, চার্জশিট এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিবেচনা করে শুনানির সিরিয়াল এগিয়ে আনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনা হবে।

এ সময় পুলিশ বাহিনীর মনোবল বাড়াতে ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।

সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ভারতের নয়াদিল্লিতে কাল থেকে বিজিবি এবং বিএসএফ-এর ডিজি পর্যায়ের বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকে সীমান্ত হত্যা ও অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলো কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

মাদক ও জুয়াবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধীরা যাতে আইনের কোনো ফাঁকফোকরে জামিন না পায়, সেজন্য আইনি সংস্কার করা হচ্ছে।




চাঁদাবাজি নির্মূল ও ১০-১৫ বছরের বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে কাজ চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্রব্যমূল্য যাতে কৃত্রিমভাবে বাড়ানো না হয় এবং এ খাতে দীর্ঘ ১০-১৫ বছরের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া যায়- সে লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সারাদেশে চাঁদাবাজি নির্মূলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদির পাশাপাশি জনগণের স্বল্পমেয়াদি প্রত্যাশা পূরণ। বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে আরও রয়েছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য যাতে কৃত্রিমভাবে বাড়ানো না হয় এবং এ খাতে দীর্ঘ ১০-১৫ বছরের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া যায়- সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। গতানুগতিক পন্থা অবলম্বন না করে নতুন বা সৃজনশীল পন্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাই। সেজন্য সারাদেশে চাঁদাবাজি নির্মূলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রথমে বিভাগীয় বা বড় শহর থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এজন্য প্রশাসন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার প্রয়োজন।

বৈঠকে ডিসিসিআই’র সভাপতি তাসকীন আহমেদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নীতকরণ, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে ডিসিসিআই’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালেম সোলায়মান, সচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




লটারি নয়, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে এসপি-ওসি নিয়োগ দেবে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুলিশে জেলা পুশিল সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়োগে যে লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল, তা স্বচ্ছ ছিল না। লটারির প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে অনুসরণও করা হয়নি।

তিনি বলেন, পুলিশের এসপি ও ওসিদের নিয়োগ আর লটারির মাধ্যমে হবে না। যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই পদায়ন করা হবে।

 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এসপি ও ওসিদের লটারির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারেন না। বড় জেলা ও ছোট জেলার কাজের ধরন আলাদা- সেখানে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও উপযুক্ততা বিবেচনা করা জরুরি। কিন্তু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি লটারির প্রক্রিয়াটিও স্বচ্ছ ছিল না বলে মনে করি।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি নিয়োগ এভাবে হওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ যাদের দক্ষ ও উপযুক্ত মনে করবে, তাদেরই নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পদায়ন করা হবে, এমন নির্দেশনা বৈঠকে দেওয়া হয়েছে।

গত নভেম্বরের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের এসপি-ওসিদের নিয়োগ-পদায়ন লটারিতে করতে শুরু করে। সর্বপ্রথম গত ২৪ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) চূড়ান্ত করে সরকার। এরপর ডিসেম্বরের শুরুতেই লটারির মাধ্যমে ৫২৭ থানায় নতুন ওসি পদায়ন করা হয়।