নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে ব্যর্থ তালিকাভুক্ত ১৩১ কোম্পানি

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৩১টি কোম্পানি কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড, ২০১৮ অনুযায়ী তাদের পরিচালনা পর্ষদে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিতে কোম্পানি সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

রোববার (৩ মে) অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোম্পানি সচিবদের আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কর্পোরেট গভর্নেন্স পরিপালন ও কোম্পানির পর্ষদে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে এই নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

বৈঠকে বলা হয়, কমিশনের কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড, ২০১৮ এর শর্ত নং ১(২) (এ) সংশোধনপূর্বক তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে একজন নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করে ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল গেজেট প্রকাশিত হয় এবং এক বছরের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে একজন নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। কিন্তু ওই সময়েই অনেকগুলো কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে নারী স্বতন্ত্র পরিচালন নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এমতাবস্থায় বৈঠকে কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক সংগঠনের সদস্য, কর্পোরেট লিডার, সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী (অবসরপ্রাপ্ত/চাকরিরত), প্রফেশনাল ডিগ্রিধারী, হাইকোর্ট ডিভিশনে নিয়োজিত আইনজীবী পেশায় নিয়োজিত আছেন, এমন নারীদের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ সম্পন্ন করে কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড, ২০১৮ পরিপালনের অনুরোধ করা হয় এবং আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি বৈঠকে, আগামী ৩০ জুন ২০২৬ এর পরে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে কমিশন ব্যর্থ কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে মর্মে সভায় বিশেষভাবে অবহিত করা হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে তাদের এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদের নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের তথ্য চায় কমিশন। ডিএসইর দাখিল করা হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ১৬৩টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি এরইমধ্যে পরিচালনা পর্ষদে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে। আর ১৩১টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড, ২০১৮ অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে।




আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে প্যানেল

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যোগ‌্য স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের জন‌্য প‌্যা‌নেল প্রস্তুত কর‌ছে কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক। এখন থে‌কে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগু‌লো তা‌দের স্বতন্ত্র পরিচালক নাম ও প্রয়োজনীয় তথ‌্য বাংলা‌দেশ ব‌্যাং‌কের প‌্যা‌নেলে দে‌বে। এটা যাচাই-বাছাই ক‌রে যোগ‌্য হ‌লে অনাপত্তি নি‌য়ে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালকের মেয়াদ পূর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মেয়াদ শেষ হওয়ার ন্যূনতম ৩০ কর্মদিবস আগে বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে।

রোববার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর পর্ষদে ন্যূনতম দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিধান রয়েছে। কিন্তু স্বতন্ত্র পরিচালক ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ার ধারক থেকে স্বাধীন হলেও ফাইন্যান্স কোম্পানি ঋণ খেলাপি হ‌লে স্বতন্ত্র পরিচালকেরাও ঋণখেলাপি হয়ে যান। ফলে অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ইমেজের দক্ষ ব্যক্তিরা ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক হিসেবে নিযুক্তির বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

স্বতন্ত্র পরিচালকদের মূল দায়িত্ব হলো আমানতকারী ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণে নিরপেক্ষ মতামত প্রদান করার কথা। তা সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীন-নিরপেক্ষ মতামতের কোনো প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদে প্রতিষ্ঠান ও আমানতকারীদের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ হওয়া সত্ত্বেও ওই সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বতন্ত্র পরিচালকদের কোনোভাবে বিপক্ষে মতামত দিতে পারছে না।

সেজন্য দক্ষতার ভিত্তিতে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ্য ব্যক্তির নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ফাইন্যান্স কোম্পানিগু‌লো বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগে পাঠা‌বে। নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে যাচাই বাছাই শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে প্যানেলভুক্ত করবে।

এতে আরও বলা হয়, ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোতে নিযুক্ত স্বতন্ত্র পরিচালকরা কোনোরূপ অনিয়ম পরিলক্ষিত, স্বাধীন মতামত প্রদান বাধাগ্রস্ত বা পর্ষদ সভার কার্যবিবরণীতে মতামতের প্রতিফলন না হলে অবিলম্বে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে লিখিতভাবে জানাতে বলা হ‌য়ে‌ছে।

প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার সিদ্ধান্তের কপি সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাবে। আর ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে ওই ঋণের বিপরীতে স্বতন্ত্র পরিচালকদের ফাইন্যান্স কোম্পানির পক্ষে কোনো গ্যারান্টিপত্রে স্বাক্ষর করবেন না।




আরএসআরএম-এ ৪ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস (আরএসআরএম) লিমিটেডে চার স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সোমবার (১৬ অক্টোবর) বিএসইসির পক্ষ থেকে কোম্পানিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামভিত্তিক ইস্পাত প্রস্তুতকারক কোম্পানিটি ২০২১ সাল থেকে লোকসানে রয়েছে।

নিয়োগ পাওয়া চার পরিচালক হলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক ড. মুশফিকুর রহমান, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আশিষ তালুকদার। এর মধ্যে বিএসইসি কোম্পানির চেয়ারম্যান পদে একেএম শামীম চৌধুরীকে সুপারিশ করেছে।

উল্লেখ্য, আরএসআরএম ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রুপটির ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৮০০ জন কর্মী উৎপাদনে নিয়োজিত ছিল। সেই সময়ে কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার ছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি।

এর মধ্যে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে গ্রুপের দুটি ইস্পাত কারখানা দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া এবং কার্যকরী মূলধন ঘাটতির কারণে রড উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এর মালিক রতনপুর গ্রুপ। চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে নেওয়া মোট আড়াই হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপির অভিযোগে ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় রতনপুর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাকসুদুর রহমান, চেয়ারম্যান শামসুন নাহার রহমান, এমডির ভাই ইউনুস ভাইয়া, দুই ছেলে মিজানুর রহমান ও মারজানুর রহমান এবং মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিনকে আসামি করা হয়।

এসব সমস্যার মধ্যেও কোম্পানিটি কয়েক বছর ধরে লভ্যাংশ সুপারিশ করতে না পারায় শেয়ারহোল্ডাররা তাদের প্রত্যাশিত রিটার্ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়াও দুটি প্ল্যান্টের পুনরায় খোলার বিষয়টি আজ পর্যন্ত অনিশ্চিত রয়েছে।

তাই, কোম্পানিটিকে ব্যবসায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপে বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে গত আগস্টে কোম্পানিটির সার্বিক ব্যবসার অবস্থা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। দেশের বৃহৎ পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারে সর্বশেষ মূল্য ছিল ১৭ টাকা ১ পয়সা।




আলহাজ্ব টেক্সটাইলে তিন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলসের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদে নতুন তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালককে মনোনয়ন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) এ কে এম সাইফুল বাহার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ড. অধ্যাপক সাদিয়া নুর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মফিজউদ্দিন আহমেদ।

এদিকে ধারাবাহিক আর্থিক অবস্থার অবনতির কারণে আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলসের ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে আসে। দীর্ঘ দুই বছর এক ক্যাটাগরিতে থেকেও কোম্পানির কোনো উন্নতি হয়নি। তৎকালীন কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালকরা মাত্র ১২.৭৮ শতাংশ শেয়ার ধারনের মাধ্যমে বিএসইসির সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারনের নির্দেশনা ভঙ্গ করেছিল। ফলে ওই সময়ে কোম্পানিতে ৮৭.২২ শতাংশ শেয়ারধারণ করেও সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা গত দুইটি হিসাব বছর ধরে কোনো লভ্যাংশ পায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে কমিশন আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলসের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে।

একইসঙ্গে কোম্পানির সার্বিক বিষয় তদারকির জন্য তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করে দেয় কমিশন।

প্রসঙ্গত, আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৩ সালে। বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২২ ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সে হিসেবে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪৯টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ২৫.৬৩ শতাংশ, সরকারের হাতে ০.০১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৯.৯৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৫৪.৪০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন

বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ফারুক মঈনউদ্দীন। শনিবার ব্র্যাক ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ফারুক মঈনউদ্দীন ২০২১ সালের ডিসেম্বরে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকের পর্ষদে যোগ দেন এবং বোর্ড এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ফারুক মঈনউদ্দীন একজন ক্যারিয়ার ব্যাংকার হিসেবে ৩৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন ম্যানেজমেন্টের সদস্য হিসেবে বহুমুখী দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ট্রাস্ট ব্যাংকে যোগদানের আগে ফারুক মঈনউদ্দীন সিটি ব্যাংকে একাধারে অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর, চিফ রিস্ক অফিসার এবং মানি-লন্ডারিং বিরোধী প্রধান পরিপালন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও এবি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে পাঁচ বছর এবি ব্যাংকের মুম্বাই অফিসে কান্ট্রি ম্যানেজার পদে নিযুক্ত ছিলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএসএস করার পর ১৯৮৪ সালে এবি ব্যাংক লিমিটেডে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ফারুক মঈনউদ্দীন। ১৯৮৭ সালে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক স্বর্ণপদক এবং বিসিসিআই (তৎকালীন) স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যান্টি মানি-লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার্স অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য।

ব্যক্তিগত জীবনে ফারুক মঈনউদ্দীন একজন প্রখ্যাত লেখক ও সাহিত্যিক। ব্যাংকিং, অর্থনীতি, ছোটগল্প, অনুবাদ এবং ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে তাঁর রচিত ও প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুই ডজনেরও বেশি। অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি সংবাদপত্রেও নিয়মিত নিবন্ধ লেখেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অনুবাদকর্মে অনন্য অবদানের জন্য ২০১১ সালে আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার এবং ভ্রমণকাহিনীর জন্য ২০১৯ সালে সিটি-আনন্দ আলো পুরস্কার লাভ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি হিসেবেও কর্মরত।




এশিয়া ইন্স্যুরেন্সে দুই স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ

পুঁজিবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

বুধবার (৫ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে সাবেক সচিব সৈয়দ সাজেদুল করিম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনকে নিয়োগ নেওয়া হয়েছে। এই দুই স্বাধীন পরিচালকের নিয়োগ চলতি বছরের ১১ মে থেকে কার্যকর করা হয়েছে।