বন্ড ছেড়ে ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসির আরও একটি সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করবে। প্রস্তাবিত বন্ডটি ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকটি বাজার থেকে ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।

ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী টায়ার-২ মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে এই অর্থ ব্যবহার করবে ব্যাংকটি।

এই বন্ডের নাম- স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৫ম মুদারাবা সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড। এর আগে ব্যাংকটি আরও চারটি সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করেছে।

রবিবার (২৯ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তথ্য অনুসারে, আলোচিত বন্ডটি হবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৫ম সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড। এই বন্ডের মেয়াদ হবে ৭ বছর। মেয়াদ শেষে এর পূর্ণ অবসায়ন ঘটবে। বন্ডটি শেয়ারে রূপান্তর-অযোগ্য। অর্থাৎ এর কোনো অংশ শেয়ারে রূপান্তর হবে না। এই বন্ডের বিপরীতে কোনো জামানত থাকবে না। এর সুদের হার হবে ভাসমান। বন্ডটি হবে কুপনযুক্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে বন্ড ইস্যু করার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।




স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের  নাম পরিবর্তন

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকটি দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে নাম পরিবর্তনের অনুমতি চায়। সার্বিক দিক বিবেচনা করে ব্যাংকটির নাম পরিবর্তন করার অনুমতি দিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কোম্পানির নাম ‘স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড’ এর পরিবর্তে ‘স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি’ রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ডিএসই। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) কোম্পানির নতুন নাম কার্যকর হবে।

নাম পরিবর্তন ছাড়া অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।




স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ।

ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খুররম আহমেদ, পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, অশোক কুমার সাহা, ফিরোজুর রহমান, মনজুর আলম, এস এ এম হোসাইন, মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, গুলজার আহমেদ, জাহেদুল হক, ফেরদৌস আলী খান, এ কে এম আবদুল আলীম, আবুল হোসেন এবং স্বতন্ত্র পরিচালক নজমুল হক চৌধুরী, গোলাম হাফিজ আহমেদ ও এ কে এম দেলোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ তহবিল না থাকায় ৪ ব্যাংকের ব্যাখ্যা তলব

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনে ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পুঁজিবাজারের তারল্য প্রবাহ বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ উদ্যোগ নিয়েছে।

ইতোমধ্যে বিশেষ তহবিল গঠন করে বেশকিছু ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা এবং কিছু ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার কম পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চারটি ব্যাংক এখনো কোনো ধরনের বিশেষ তহবিল গঠন করেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্বেও এত দীর্ঘ সময়ে এ বিশেষ তহবিল গঠন না করার বিষয়ে ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি। ব্যাংকগুলো হলো—ডাচ-বাংলা ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।

সম্প্রতি এ বিষয়ে পৃথক পৃথক চিঠি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ব্যাংকগুলোকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এর ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনার বিষয়টি উল্লেখ করে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের লক্ষ্যে ও তারল্য বৃদ্ধিতে ২০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের প্রশংসা করে এবং এ উদ্যোগে তফসিলি ব্যাংকের অংশগ্রহণেরও প্রশংসা করে। কিন্তু, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ডাচ-বাংলা ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক এখনো বিশেষ তহবিল গঠন করেনি। তাই, এ বিষয়ে ব্যাংককে এই চিঠি প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশে বিশেষ তহবিল গঠন এবং বিনিয়োগের নীতিমালা বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রেপোর মাধ্যমে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়। তবে, ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকে গঠিত ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মেয়াদ বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে তহবিল গঠন এবং বিনিয়োগের নীতিমালা সম্পর্কে ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা নির্দেশনায় আংশিক সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, বেসরকারি উদ্যোক্তা কর্তৃক নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বিএসইসি’র অনুমোদিত ও স্পেশাল পারপাস ভেহিকল (এসপিভি) ইস্যুকৃত গ্রিন সুকুক বন্ডে বর্ণিত বিশেষ তহবিল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত পন্থায় তফসিলি ব্যাংকের বিনিয়োগের মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

এছাড়া, নির্দেশনায় পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রতিটি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করার সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ তহবিলের আওতায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা অর্থ ব্যাংকের এক্সপোজার হিসেবে গণ্য করা হবে না। ব্যাংকগুলো নিজস্ব অর্থ ছাড়াও ট্রেজারি বিল বা ট্রেজারি বন্ড রেপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তহবিল গঠন করেছে। এই সুবিধার মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তা বাড়িয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।