স্কয়ার ফার্মার লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি গত ৩০ জুন, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত বছরের জন্য কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে। এর পুরোটাই নগদ।

আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুসারে, আলোচিত বছরে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ার প্রতি আয় (EPS) হয়েছে ২৩ টাকা ৬১ পয়সা। আগের বছর কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস ছিল ২১ টাকা ৪১ পয়সা।

গত ৩০ জুন, ২০২৪ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৪২ টাকা ০৫ পয়সা।

আগামী ১৮ ডিসেম্বর ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ ২১ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ।




ঔষধজাত দ্রব্য রপ্তানিতে ব্রোঞ্জ পদক পেলো স্কয়ার ফার্মা

দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় ২০২১-২২ অর্থবছরের রপ্তানি পদক পেয়েছে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান। যার মাঝে ঔষধজাত দ্রব্য রপ্তানিতে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি।

রবিবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কোম্পানিটির প্রতিনিধির হাতে জাতীয় রপ্তানি পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়াও একই ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক পেয়েছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং রৌপ্যপদক পেয়েছে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস।

এ সময় অনুশ অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।




সহযোগী কোম্পানি খুলবে লিগ্যাসি ফুটওয়্যার ও স্কয়ার ফার্মা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুইটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পৃথক পৃথক সহযোগী কোম্পানি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানি দুইটি হলো-লিগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেড ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি। এ দুইট কোম্পানির মধ্যে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি দেশের বাইরে সহযোগী কোম্পানি খুলবে।

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে সোমবার (২০ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সহযোগী কোম্পানি খোলার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লিগ্যাসি ফুটওয়্যার: ট্যানারি খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি লিগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেড একটি সহযোগী কোম্পানি খুলবে। এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হবে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। লিগ্যাসি ফুটওয়্যার কোম্পানির ৯৮ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে। তবে সহযোগী কোম্পানির নাম কী হবে তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। লিগ্যাসির সহযোগী কোম্পানিটি মূলত স্থানীয় বাজারের জন্য স্যু ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন করবে। কোম্পানির দাবি, চামড়া খাতে ম্যানেজমেন্টের দীর্ঘদিনের যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা ব্যবহার করে নতুন সাবসিডিয়ারি লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের মুনাফা বাড়াতে সাহায্য করবে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস: ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি ফিলিপাইনে নতুন একটি সহযোগী কোম্পানি খুলবে। কোম্পানির নাম হবে-স্যামসন ফার্মা ইনক., ফিলিপিন্স। এ কোম্পানিতে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ১০ লাখ ডলার (বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ১১ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করবে। কোম্পানির প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ২৫ লাখ ডলার বা প্রায় ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা এতে ঋণ-মূলধন অনুপাত হবে ৬০:৪০। অর্থাৎ বিনিয়োগের ৬০ ভাগ বা ১৫ লাখ ডলার ঋণের মাধ্যমে যোগান দেওয়া হবে। স্যামসন ফার্মা ইনক., ফিলিপিন্স মূলত ওষুধ বিতরণ ও বাজারজাতকরণের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ২০২৪ সালের এপ্রিল নাগাদ সহযোগী কোম্পানিটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।




বিদেশীদের শেয়ার ধারণ বেড়েছে তিন কোম্পানির

মাস তিনেক ধরেই দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন ও সূচকে নিম্নমুখিতা দেখা যাচ্ছে। মৌল ভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ারদর ফ্লোর প্রাইসে থাকায় সেগুলো বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশীদের শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে মিশ্র পরিস্থিতি দেখা গেছে। বিদেশীদের শেয়ার ধারণে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজে বিদেশীদের শেয়ার ধারণ বেড়েছে। অন্যদিকে কমেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও রেনাটা লিমিটেডের। বাকি পাঁচ কোম্পানিতে বিদেশীদের শেয়ার ধারণ অপরিবর্তিত ছিল।

পুঁজিবাজারে বিদেশীদের শেয়ার ধারণে শীর্ষ ১০ কোম্পানির পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ বছরের জুলাই শেষে এর আগের মাসের তুলনায় তিনটি কোম্পানিতে বিদেশীদের শেয়ার বেড়েছে, কমেছে দুটির আর অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটির। আগস্টের শেয়ার ধারণের তথ্য এখনো স্টক এক্সচেঞ্জ প্রকাশ করেনি।

 

এ বছরের জুলাই শেষে ব্র্যাক ব্যাংকে বিদেশীদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। যেখানে গত জুনে এর পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক শূন্য ২। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে গত জুলাইয়ে বিদেশীদের শেয়ার ধারণ ছিল ২৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা গত জুনে ছিল ২৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের জুলাই ও জুনে বিদেশীদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ একই ছিল ২৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংকে জুলাই শেষে বিদেশীদের ধারণকৃত শেয়ার ছিল ৩৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। যা গত জুনে ছিল ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। মূলত ব্যাংকটির পর্ষদ থেকে সৌদি আরবের আরাবাস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিস্ট এজেন্সি তার পরিচালক পদ প্রত্যাহার করে নেয়ার কারণে ব্যাংকটিতে বিদেশী শেয়ার ধারণের পরিমাণ বেড়েছে। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংকটির ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজে জুলাইয়ে বিদেশীদের ধারণকৃত শেয়ার ছিল ২৪ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা গত জুনে ছিল ২৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। রেনাটা লিমিটেডে বিদেশী শেয়ার ধারণ জুলাই শেষে ছিল ২২ দশমিক ৬৯ শতাংশ, যা গত জুনে ছিল ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ। ডিবিএইচ ফাইন্যান্সের জুলাই শেষে বিদেশীদের শেয়ার ধারণ ছিল ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা গত জুনেও একই ছিল।

বিএসআরএম লিমিটেডে গত জুলাই ও জুনে বিদেশীদের ধারণকৃত শেয়ার ছিল ১৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে জুলাই শেষে বিদেশীদের ধারণ করা শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা গত জুনে ছিল ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজে বিদেশীদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ গত জুলাই ও জুনে একই ছিল ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শীর্ষ কোম্পানিগুলোতে বিদেশীদের শেয়ার ধারণের ওঠানামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে বিদেশীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি। মূলত ডলার সংকটের কারণে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারেনি। এটি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশীদের নিরুৎসাহিত করছে। অন্যদিকে দেশে ডলারের দর এখনো স্থিতিশীল পর্যায়ে না আসার কারণে বিদেশীরা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন।




ইউরো ফার্মার সঙ্গে উৎপাদন চুক্তি স্কয়ার ফার্মার

বাজারে নিজেদের বিদ্যমান কয়েকটি পণ্যের বর্ধিত চাহিদা মেটানো এবং নতুন পণ্য বাজারে আনার লক্ষ্যে এবার ইউরো ফার্মা লিমিটেডের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং চুক্তি (চুক্তিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন) করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি। এরই মধ্যে চুক্তির বিষয়টি তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পর্ষদে অনুমোদন হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় ইউরো ফার্মার কারখানায় নিজেদের প্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদন করিয়ে নেবে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে বিষয়টি জানিয়েছে ওষুধ খাতের কোম্পানিটি।

এর আগে অ্যারিস্টোফার্মা লিমিটেডের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং চুক্তি করে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এ চুক্তির আওতায় অ্যারিস্টোফার্মা তালিকাভুক্ত কোম্পনিটির জন্য সেফালোস্পোরিন গ্রুপের পাঁচটি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ উৎপাদন করবে। এ বিষয়ে কোম্পানিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তাদের কারখানায় সেফালোস্পোরিনের বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে এ ওষুধের বাড়তি চাহিদাও রয়েছে, যা তাদের বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা দিয়ে মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া ওষুধের চাহিদা একটি পর্যায়ে না গেলে নতুন ইউনিট স্থাপন করাও লাভজনক হবে না। এ কারণে সেফালোস্পোরিন গ্রুপের পাঁচটি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ উৎপাদনের জন্য এ কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং চুক্তি হয়েছে।

 

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সদ্যসমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের নিট আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ হাজার ৩৭২ কোটি ২২ লাখ টাকা। তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৪২১ কোটি ৫ লাখ টাকা। ‌আর চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির নিট আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৮৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪২৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৩৩ পয়সায়।