অর্থ আত্মসাৎ : ৩ ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৪ জনের কারাদণ্ড

চার কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের মামলায় সোনালী ব্যাংকের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ চার জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সোনালী ব্যাংকের বায়তুল মোকাররম শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার আজহার হোসেন ও জহিরুল হক চৌধুরী, ক্যাশ অফিসার নাজিম উদ্দিন এবং মানিক মিয়া।

বুধবার (৩১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক আবুল কাশেমের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

এদের মধ্যে চার জনকে এক ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাড়ে ৬ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরেক ধারায় নাজিম উদ্দিন, জহিরুল হক ও আজহার হোসেনকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দুই ধারার সাজা একত্রে চলবে বিধায় তাদের পাঁচ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালানের মাধ্যমে জমা দিয়ে ওই কপি আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। ব্যর্থতায় তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থেকে আদায় করতে পারবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে নাজিম উদ্দিন ও মানিক মিয়া রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১৯৯৮ সালের ১ এপ্রিল সোনালী ব্যাংকের বায়তুল মোকাররম শাখার সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক এ এস এম আব্দুল মতিন আনসারী মতিঝিল থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আসামিরা ১৯৯৮ সালের ৩১ মার্চ যেকোনো সময় বা এর আগে আসামিরা চার কোটি ২০ লাখ সাত হাজার ৪২০ টাকা আত্মসাৎ করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০০৯ সালের ২১ জুন দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কাশেম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।




সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বিডিবিএল

অনিচ্ছা স‌ত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে রাষ্ট্র পরিচালিত আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল)।

রোববার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকে দুই ব্যাংকের মধ্যে এমওইউ সই হয়।

চুক্তিতে সই করেন সোনালী ব্যাংকের এমডি আফজাল করিম ও বিডিবিএলের এমডি হাবিবুর রহমান গাজী। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, উপদেষ্টা আবু ফরাহ মো. নাছের, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, বিডিবিএলের চেয়ারম্যান শামীমা নার্গিসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা স্মারক সই শেষে বিডিবিএলের চেয়ারম্যান শামীমা নার্গিস সাংবাদিকদের বলেন, বিডিবিএল ব্যাংকের চার সূচকের মধ্যে শুধু খেলাপি ঋণ আদায়ে দুর্বলতা রয়েছে। সময় পাওয়া গেলে এই সমস্যাও কাটিয়ে ওঠা যেত। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে একীভূত হতে হচ্ছে।

মার্জারে না যেতে বিডিবিএল কর্মীদের খোলা চিঠির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিডিবিএল চেয়ারম্যান বলেন, এখানে দুই ব্যাংকের পর্ষদ একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাজেই তারা অনেক কিছু প্লাস মাইনাস করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেটা বেটার হয় সেটা করা হয়েছে।

পদ্মা ব্যাংকের এমডি আফজাল করিম সাংবাদিকদের বলেন, একীভূতকরণের কারণে বিডিবিএল ব্যাংকের কর্মীদের শঙ্কার কোনো কারণ নেই। বরং ব্যাংকটি আরও সবল হবে। এমওইউ সইয়ের ফলে অডিট ফার্ম নিয়োগ নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, ব্যাংক খাতের দুরবস্থা কাটাতে বেশ কয়েকটি ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পদ্মা, বিডিবিএল, রাকাব, বেসিক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র। একীভূত না হতে এরই মধ্যে বেসিক, ন্যাশনাল ও রাকাব চিঠি দিয়েছে। আবার এ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় আতঙ্কের কারণে আমানত তুলে নিচ্ছেন অনেকে।




সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাসহ ৪ জনের কারাদণ্ড

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় সোনালী ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার নাইমুল ইসলামসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

অপর আসামিরা হলেন সোনালী ব্যাংকের হিসাবধারী রফিকুল ইসলাম, আল আমিন ও লিপি বেগম।

রায়ে আসামি নাইমুলকে দুটি পৃথক ধারায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি ৮১ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। এ ছাড়া অপর ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সাজা দেওয়া হয়। অপর তিন আসামিকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৮১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আসামি নাইমুল ও রফিকুলকে মঙ্গলবার কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। উপস্থিত হন জামিনে থাকা আল আমিনও। এ ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় আসামি লিপির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ২১ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে ১ কোটি ১৯ লাখ ১৯ হাজার ২০৪ টাকা নির্ধারিত হিসাবে জমা না করে চারটি হিসাবে পরস্পর যোগসাজশে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৩ জুন সোনালী ব্যাংকের ওয়াপদা ভবন করপোরেট শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।




হজের টাকা ফেরত পেলেন ১০১১৭ প্রাক-নিবন্ধন বাতিলকারী

চলতি বছর হজের প্রাক-নিবন্ধন বাতিল করা ১০ হাজার ১১৭ জন ব্যক্তির টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) ৮৫৮টি হজ এজেন্সির এসব ব্যক্তির টাকা রিফান্ডের অনুরোধ জানিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চলতি বছরের ২৭ জুন (৯ জ্বিলহজ্জ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের খরচ বেশি হওয়ায় কোটা পূরণ করা যায়নি। অনেকেই প্রাক-নিবন্ধন বাতিল করেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্যে ১ থেকে ১৫ মে, ১৬ থেকে ৩১ মে, ১ থেকে ১৫ জুন, ১৬ থেকে ৩০ জুন, ১ থেকে ১৫ জুলাই, ১৬ থেকে ৩১ জুলাই এবং ১ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে প্রাক-নিবন্ধন বাতিল করা ব্যক্তিদের এ মন্ত্রণালয়ের আইসিটি শাখা হতে প্রাপ্ত (অনলাইন এ রিফান্ড অ্যাপ্রুভড প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে) অনুকূলে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, স্থানীয় কার্যালয় শাখা, মতিঝিল, ঢাকার অ্যাকাউন্ট নম্বর ০০০০২৩৩০৯৪৫৮৬ (হজ সার্ভিস চার্জ পেয়বল অব সৌদি গভ) থেকে রিফান্ড দিতে সর্বমোট ৩০ কোটি ১০ লাখ ৯৮৪ টাকার ৮৫৮টি চেক সরবরাহ করা হয়েছে।

ওই চিঠিতে সরবরাহ করা ওই চেকগুলোতে উল্লিখিত অর্থ ছাড়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিলের স্থানীয় কার্যালয় শাখার মহাব্যবস্থাপককে অনুরোধ জানানো হয়।




এপিএ চুক্তি বাস্তবায়নে আবারও সোনালী ব্যাংক প্রথম

২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) বাস্তবায়নে সোনালী ব্যাংক পিএলসি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন সব রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

৩০ আগস্ট ২০২৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব ও এপিএ ফোকাল পয়েন্ট মাকছুমা আক্তার বানুর স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। সকল রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ব্যাংক পিএলসি ১০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৮.৪৫ নম্বর অর্জন করেছে। এপিএ বাস্তবায়নে পরপর তিনবার প্রথম স্থান অধিকার বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আফজাল করিম বলেন, এ অর্জন ব্যাংকের সকল কর্মর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলাফল। ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনা অনুসারে ব্যাংকের সকলস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখ্য, ধারাবাহিকভাবে ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরেও বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) বাস্তবায়নে সোনালী ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন সকল রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।




শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে সোনালী ব্যাংকের গণশুনানি

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে সোনালী ব্যাংক পিএলসির উদ্যোগে অংশীজনের অংশগ্রহণে ২০২২-২৩ অর্থবছরের চতুর্থ সভা (এপ্রিল-জুন) ও গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১০ জুন) কুমিল্লা শহরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সভা ও গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং প্রধান কার্যালয়ের নৈতিকতা কমিটির আহ্বায়ক মো. আফজাল করিম।

জেনারেল ম্যানেজারস অফিস কুমিল্লার জেনারেল ম্যানেজার মো. শরিয়ত উল্লাহ্-এর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মীর মোফাজ্জল হোসেন, জেনারেল ম্যানেজার ও ব্যাংকের শুদ্ধাচার ফোকাল পয়েন্ট মো. সাফায়েত হোসেন পাটওয়ারী, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও বিকল্প শুদ্ধাচার ফোকাল পয়েন্ট বীথি আক্তার, জিএম অফিস কুমিল্লার আওতাধীন সব কার্যালয়ের প্রধান, সব জেলা শাখার প্রধান, পাঁচজন ঋণ সুবিধাভোগী, পাঁচজন আমানতকারী ও তিনজন অন্যান্য সুবিধাভোগীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




সোনালী ব্যাংকে অভিযোগ প্রতিকার বিষয়ক কর্মশালা

সোনালী ব্যাংক পিএলসির উদ্যোগে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা ও জিআরএস সফটওয়্যার বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জুন) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আফজাল করিম।

ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্চিয়া বিনতে আলীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মো. জাহিদ হোসেন।

কর্মশালায় প্রধান কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার আশরাফুল হায়দার চৌধুরী, ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. খায়রুল আলমসহ ডিভিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা সরাসরি এবং জেনারেল ম্যানেজার’স অফিস ময়মনসিংহ, রংপুর ও দিনাজপুরের জেনারেল ম্যানেজাররা এবং এসব জিএম অফিসের আওতাধীন প্রিন্সিপাল অফিস ও করপোরেট শাখার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।




রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম বাড়লো

রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম এক টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে রপ্তানিকারকরা প্রতি ডলারের বিপরীতে ১০৫ টাকা পাবেন। এতদিন রপ্তানিকারকরা পেতো ১০৪ টাকা। পুন:নির্ধারণ করা ডলারের নতুন দাম ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাফেদার চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো. আফজাল করিম, এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা।

সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. আফজাল করিম বলেন, যৌথ সভায় রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম ১ টাকা বাড়িয়ে পুন:নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে প্রতি ডলারে ১০৫ টাকা দেওয়া হবে আর রেমিট্যান্সে আগের মতো ১০৭ টাকা পাবেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশে ডলার-সংকট শুরু হয়। সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তাতে ডলারের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে গত বছর সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব দেয় এবিবি ও বাফেদার ওপর। এরপর থেকে আলোচ্য সংগঠন দুটি যৌথভাবে ডলারের দাম নির্ধারণ করে।




সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডির বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

প্রায় ৫০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে হলমার্ক কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলাটি অনুমোদন দেওয়া হয়। শিগগিরই দুদক উপ-পরিচালক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করবেন।

সংস্থাটির (জনসংযোগ) কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফ সাদেক ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবীরের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিজ নামে ৫৪ লাখ ৫১ হাজার ৬৯২ টাকার স্থাবর সম্পদ ও নগদ স্থিতিসহ ৬০ লাখ ২৬ হাজার ৭৭০ টাকার অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ১ কোটি ১৭ লাখ ৭৮ হাজার ৪৬২ টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়।

সম্পদ বিবরণীতে গৃহ নির্মাণ ঋণ হিসাবে ৭ লাখ ২১ হাজার ৮৭৪ টাকা দায় দেনা আছে। আর হুমায়ুন কবীরের ২ কোটি ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৭ টাকার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ১১ হাজার ১২৫ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধানে হুমায়ুন কবীরের গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫৬ টাকা। এক্ষেত্রে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের চেয়ে ৪৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৯ টাকা বেশি পাওয়া যায়। যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সোনালী ব্যাংকের শেরাটন শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে হলমার্ক গ্রুপ ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মে পর্যন্ত জালিয়াতির মাধ্যমে ২ হাজার ৯৬৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুদক।

অনুসন্ধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৪ সালে ফান্ডেড মোট ১ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৩ টাকা আত্মসাতের দায়ে ৩৮ মামলার চার্জশিট দেয় দুদক। তবে নন-ফান্ডেড প্রায় ১ হাজার ৭১০ কোটি টাকার দুর্নীতি অনুসন্ধান এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি সংস্থাটি।

২০১২ সালের ৪ অক্টোবর ফান্ডেড (সোনালী ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ) ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৭ জনকে আসামি করে ১১ মামলা এবং ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ফান্ডেড প্রায় ৩৭২ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আরও ২৭ মামলা দায়ের করে দুদক। পরে ফান্ডেড মোট ১ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৪ সালের বিভিন্ন সময়ে ৩৮ মামলার চার্জশিট দেয় সংস্থাটি। মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

যেখানে হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, তানভীরের ভায়রা ও গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ এবং হলমার্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্তাদের আসামি করা হয়।