২৯% বে‌ড়ে‌ছে ডিএসইর লেন‌দেন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে। স্টক এক্সচেঞ্জের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ৬ হাজার ২৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬ হাজার ২৮৫ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ১৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৪০ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস দশমিক ২৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৩৬০ পয়েন্টে। ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪০৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ১২০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২০৫টির। এছাড়া লেনদেন হয়নি ৪১টির।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ২ হাজার ৩৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ১ হাজার ৮১৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক্সচেঞ্জটিতে সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে ২৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৪৬৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৪৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ৮ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিবিধ খাত। মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ১ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল কাগজ খাত। আর প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইর ইতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল, পাট ও সিমেন্ট খাত। এ তিন খাতে যথাক্রমে ১ দশমিক ৯ শতাংশ, দশমিক ৬ ও দশমিক ১ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল সাধারণ বীমা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কাগজ খাত। এ তিন খাতে রিটার্ন কমেছে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, ৩ দশমিক ১ শতাংশ ও ৩ শতাংশ।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১৮ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৮ হাজার ৫৮১ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১১ হাজার ৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ১১ হাজার ১০৮ পয়েন্টে। সিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন হয়েছিল ৮৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ সময়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ৮২টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ১২৯টির।




সূচকের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে

সূচকের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে দেশের শেয়ারবাজারে। এদিন সূচকের উত্থানে লেনদেনের শুরু হয়। পরবর্তীতে সূচকের অস্বাভাবিক উঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়। তবে সূচক উত্থানের তুলনায় পতনের পরিমাণ বেশি ছিল। এর ফলে দিনশেষে সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেন কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩.৭৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০৭.৮১ পয়েন্টে।

অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১.৮১ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩.২৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৩৭২.১১ পয়েন্টে ও দুই হাজার ১৪৩.৪৯ পয়েন্টে।

ডিএসইতে গতকাল ৩২৪ কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫৮টির বা ১৭.৯০ শতাংশের, দর কমেছে ১০২টির বা ৩১.৪৮ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬৪টির বা ৫০.৬২ শতাংশের দর।

এদিন ডিএসইতে ৫৭৭ কোটি ০৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা কম। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল ৬১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার।

এদিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩১.৮৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৩১.৫৮ পয়েন্টে।

এছাড়া সিএসসিএক্স ১৯.২৬ পয়েন্ট, সিএসই-৫০ সূচক ১.১৫ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৭.২৩ পয়েন্ট এবং সিএসআই ১.২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১১ হাজার ১৩৯.৩৮ পয়েন্টে, একহাজার ৩০৮.৫৮ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৩৯৭.৬১ পয়েন্টে এবং একহাজার ১৭৪.৭৭ পয়েন্টে।

সিএসইতে গতকাল ১৪৮টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২টির, কমেছে ৬২টির আর দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টি। সিএসইতে গতকাল ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।