বাংলাদে‌শিদের জন্য মরিশাসের বন্ধ শ্রমবাজার খুলছে

মরিশাসে বন্ধ থাকা বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন ২০২৬-এর সাইডলাইনে সোমবার (৮ জুন) সকালে জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মরিশাসের শ্রম মন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ক‌রেন।

বৈঠকে মরিশাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা, বন্ধ বাজার পুনরায় চালু এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

মরিশাসে জনবল রপ্তানির বিষয়ে দুই দেশ দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।

​বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মরিশাস সরকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বাংলাদেশ থেকে মরিশাসে জনশক্তি প্রেরণের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক দ্রুত স্বাক্ষরের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে মরিশাস সরকারকে অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সক্ষমতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, টেক্সটাইল শিল্প ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, নার্স এবং অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনশক্তি মরিশাসে পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুত।

তিনি মরিশাসের শ্রম মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

​বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মরিশাসের শ্রম মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ব্যাপারে মরিশাস সরকার অত্যন্ত আগ্রহী, বিশেষ করে দেশটির ওয়ান-স্টপ টেক্সটাইল শিল্পের জন্য প্রচুর দক্ষ কর্মী প্রয়োজন।

পুনরায় শ্রমবাজার চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া শিগ‌গিরই বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে মরিশাস সরকারের বিনিয়োগের গভীর আগ্রহের কথাও তিনি বৈঠকে প্রকাশ করেন।




জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান

জলবায়ু বাস্তুচ্যুতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের চলাফেরায় যে প্রভাব পড়ছে তা মোকাবিলায় পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর সদর দপ্তরে তিন দিনব্যাপী ১১৪তম অধিবেশনে ‘মানব গতিশীলতার ওপর জলবায়ুর প্রভাব: সমাধানের জন্য বৈশ্বিক আহ্বান’ শীর্ষক উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে সম্প্রচারিত একটি ভিডিও বিবৃতিতে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেশিরভাগ জলবায়ু স্থানচ্যুতি জাতীয় সীমানার মধ্যে এবং কিছু ভয়ানক পরিস্থিতিতে সীমান্তের ওপারে ঘটে। এই ধরনের পরিস্থিতি যাতে মানবিক সংকটে পরিণত না হয় সে জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সংহতি প্রয়োজন।’

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যারা বাস্তুচ্যুত বা আটকে পড়েছেন তাদের মৌলিক পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং জীবিকার বিকল্পগুলোতে প্রবেশাধিকার থাকা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের ওপর বিরূপ প্রভাবগুলোও একটি অন্তর্ভূক্তিমূলক পদ্ধতিতে মোকাবিলা করা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি অনুমান করা হয়েছে যে জলবায়ু পরিবর্তন ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২১৬ মিলিয়ন লোককে বাস্তুচ্যুত করতে পারে, এর মধ্যে ৪০ মিলিয়ন এককভাবে দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশে আমাদের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ উপকূলীয় অঞ্চলে বাস করে।’

‘সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, ঘন ঘন বন্যা এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড় তাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এই ধরনের স্থানচ্যুতি আমরা যা ভাবি তার চেয়ে দ্রুত গতিতে ঘটছে,’ সতর্ক করেন তিনি।

বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার এখন মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আগত ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই লোকেদের মধ্যে কিছু লোক পাচার নেটওয়ার্কের শিকার হয় যার সঙ্গে সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। এই ধরনের মিশ্র অভিবাসন প্রবাহ জলবায়ু গতিশীলতার সমস্যাটিকে আরও বেশি সমস্যাযুক্ত করে তোলে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে মানব গতিশীলতার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আন্তর্জাতিক আলোচ্যসূচিতে উচ্চ স্থান দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ বিষয়টির কার্যকর সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে আইওএম এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে একত্রে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত বোধ করছি যে অনেক ছোট দ্বীপের উন্নয়নশীল দেশগুলোও এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমরা সন্তুষ্ট যে কপ-২৮, জিএফএমডি, এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরাম এটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সরকার সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ শুরু করেছে।’

‘আমার অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাস্তুচ্যুত ৪,৪০০ পরিবারকে নিরাপদ আবাসন প্রদানের জন্য আমরা কক্সবাজারে ১৩৯টি বহুতল ভবন নির্মাণ করছি,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিশ্বের বৃহত্তম জলবায়ু পুনর্বাসন প্রকল্পটি স্থানীয় মাছ ধরা, পর্যটন এবং বায়ু শক্তি কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের চলাফেরায় যে প্রভাব পড়ছে তা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন।

এগুলো হচ্ছে- প্রথমত, আমাদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসনের জন্য গ্লোবাল কমপ্যাক্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অধিকার-ভিত্তিক পদ্ধতিতে মানব গতিশীলতার ওপর জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অভিবাসীদের অভিঘাত এবং ক্ষতির প্রসঙ্গে-নির্দিষ্ট সমাধান খুঁজে বের করার জন্য জলবায়ু ন্যায্যতার আলোকে আমাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে।

তৃতীয়ত, অভিবাসনকে জলবায়ু অভিযোজন কৌশল হিসাবে দেখার জন্য আমাদের স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রস্তুত হতে হবে যেখানে এটি সর্বোত্তম সম্ভাব্য সমাধান হিসাবে প্রমাণিত হবে।

চতুর্থত, জলবায়ু অভিবাসী, বিশেষ করে নারী, শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সুরক্ষা মান পর্যালোচনা করতে হবে।

পঞ্চমত, সংকীর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে এটির জন্য একটি গঠনমূলক অবস্থান তৈরিতে মানব গতিশীলতার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ে আমাদের উন্নত গবেষণা ডেটা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা উচিত।




সুইস ব্যাংক থেকে ১ বছরে ৯৪ শতাংশ আমানত তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশিরা

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশিরা। গত এক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের অর্থ প্রায় ৮২ কোটি সুইস ফ্রাঁ বা ৯৪ শতাংশ কমেছে বলে সুইজারল্যান্ডের সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জুন) এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ সুইস ফ্রাঁতে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি সুইস ফ্রাঁ’র বিনিময় মূল্য প্রায় ১২১ টাকা। সেই হিসাবে ৫ কোটি ৫৩ লাখ সুইস ফ্রাঁতে দাঁড়ায় প্রায় ৬৬৯ কোটি টাকা।

সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে শুধু যে বাংলাদেশিদের অর্থ কমেছে,তা নয়। ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ জমার পরিমাণও কমেছে। ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮৩ কোটি সুইস ফ্রাঁ। গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪০ কোটি সুইস ফ্রাঁতে।

একইভাবে ২০২১ সালে দেশটিতে পাকিস্তানিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭১ কোটি সুইস ফ্রাঁ। গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি সুইস ফ্রাঁতে। আর সৌদি আরবের জমা অর্থের পরিমাণ অর্ধেক হয়ে গেছে এক বছরের ব্যবধানে। ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডে সৌদি আরবের নাগরিকদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ, যা গত বছর কমে ৫২১ কোটিতে নেমেছে।

হঠাৎ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ার জন্য দেশের চলমান ডলার – সংকট বড় কারণ বলে মনে করছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, দেশে ডলার সংকট দেখা দেওয়ায় হয়তো এসব প্রতিষ্ঠান সেখান থেকে অর্থ তুলে নিয়েছে বা নতুন করে অর্থ জমা রাখতে পারেনি। হয়তো পাচারের কিছু অর্থ দেশটি থেকে সরিয়ে নিয়েছেন কেউ কেউ।

তিনি আরও বলেছেন, ‘সুইজারল্যান্ডে এখন অনেক বাংলাদেশি থাকেন। তারাও বৈধভাবে সেখানকার ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন। যেহেতু বিশ্বজুড়ে একধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তাই হয়তো বৈধভাবে যারা সেখানে অর্থ জমা রাখতেন, তাদের সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমে গেছে।’

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ইউরোপের দেশ ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া রাশিয়ার অর্থও কমেছে সুইজারল্যান্ডে। তবে কমার হার সৌদি আরবের চেয়ে কম, সাড়ে ২৮ শতাংশ। ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডে রুশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৩৭ কোটি সুইস ফ্রাঁ। গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৬ কোটি সুইস ফ্রাঁতে।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এই ২২ বছরে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে কম অর্থ ছিল ২০০৩ সালে। ওই বছর দেশটির ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র আড়াই কোটি সুইস ফ্রাঁ। এরপর দেশটিতে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছিল ২০২১ সালে, ৮৭ কোটি সুইস ফ্রাঁর বেশি।

মোট আমানতের হিসাবে, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সুইস ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি জমা রয়েছে ভারতীয়দের অর্থ। তবে সেটাও ১১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৪০০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ হয়েছে।

সুইস ব্যাংকে মোট আমানতের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এক বছরে আমানত পতনের সর্বোচ্চ রেকর্ডও বাংলাদেশের। এরপর আফগানিস্তানের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ৪৫ শতাংশ কমেছে বার্ষিক আমানত।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সুইস ব্যাংকে নেপাল থেকে আমানতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০২২ সালে যা ৬২ শতাংশ বেড়ে ৪৮২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ’তে উন্নীত হয়েছে।




চার দিনের সফরে সুইজারল্যান্ড গেলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৪-১৫ জুন জেনেভায় অনুষ্ঠেয় ‘ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট: সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল’ এ যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় ফ্লাইটটি জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসময় বিমানবন্দরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদের উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্যসচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, বুধবার (১৪ জুন) জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ইউএনএইচসিআর প্রধান ফ্লিপো গ্র্যান্ডি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অবস্থানস্থলে সাক্ষাৎ করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্যালাইস ডি ন্যাশনস-এ সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বারসেটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে সেখানে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে। ওইদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী প্যালাইস ডি ন্যাশনস-এ ‘ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট ২০২৩’ এর প্লেনারিতে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছালে আইএলও’র এডিজি ও আঞ্চলিক পরিচালক তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। গেট থেকে সভাস্থল পর্যন্ত লাল গালিচা বিছানো হবে এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। শেখ হাসিনা মাল্টার প্রেসিডেন্ট ড. জর্জ ভেলার সঙ্গেও বৈঠক করবেন। পরে তিনি আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হাউংবোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় আইএলও এর সদর দফতরে উচ্চ পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য ডিজি কর্তৃক আয়োজিত একটি নৈশভোজে যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ) অফিসে ডাব্লিউইএফ এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ক্লাউস শোয়াবের সাথে একটি বৈঠকের পরে ‘এ টক অ্যাট দ্য ডাব্লিউইএফ’-এ তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘নিউ ইকোনমি অ্যান্ড সোসাইটি ইন স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। ওইদিন সন্ধ্যায় ডাব্লিউটিও মহাপরিচালক ড. ওকোনজো আইওয়ালা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অবস্থানস্থলে সাক্ষাত করবেন। সন্ধ্যায় তিনি একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

শেখ হাসিনা শুক্রবার (১৬ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। ১৭ জুন তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

‘দ্য ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট ২০২৩: সকলের জন্য সামাজিক ন্যায়’ হচ্ছে সামাজিক ন্যায়বিচারের সমর্থনে অধিকতর, সমন্বিত এবং সুসংগত পদক্ষেপের প্রয়োজনে বিশ্বব্যাপী সোচ্চার হওয়ার একটি উচ্চ-পর্যায়ের ফোরাম।

এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য একটি গ্লোবাল কোয়ালিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও অবহিত করার সুযোগ দেবে। আন্তর্জাতিক শ্রম অফিসের ৩৪৭তম অধিবেশনে গভর্নিং বডি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

ফ্রান্সের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ, পানামার সাবেক রাষ্ট্রপতি জুয়ান কার্লোস ভারেলা এবং ২০১৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী এবং নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চ-পর্যায়ের অতিথি সম্মেলনে ভাষণ দেবেন।

দুই দিনের এই শীর্ষ সম্মেলনটি আরও টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব তৈরিতে সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল ভূমিকা তুলে ধরবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নিতে এবং নীতির সুসমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য বর্ধিত ও অধিকতর সঙ্গত যৌথ পদক্ষেপের কৌশল নিয়ে আলোচনা করবে। এ সম্মেলন হচ্ছে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি ফোরাম যেখানে তারা সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারগুলি সম্পর্কে মতবিনিময় করার পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নিতে তাদের পদক্ষেপ ও অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।

আশা করা হচ্ছে এ শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল বৃহত্তর সামাজিক ন্যায়বিচার অর্জনের কৌশলগুলি সম্পর্কে অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরাম যেমন, ২০২৩ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য শীর্ষ সম্মেলন, জি২০ এবং ব্রিকস দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনায় তুলে ধরা হবে। শীর্ষ সম্মেলনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব, আইএলও মহাপরিচালক এবং নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনের উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ভাষণ দেবেন।

বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে পদক্ষেপগুলি চিহ্নিত ও সম্প্রসারিত করতে এবং একটি যৌথ, সুসংগত ও সমন্বিত অঙ্গীকারের লক্ষ্যে সরকার এবং নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের সংগঠন, জাতিসংঘের সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।




সুইজারল্যান্ড থেকে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত

সুইজারল্যান্ড থেকে আরও দুই কার্গো বা ৬৭ লাখ ২০ হাজার এমএমবিটিইউ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে খরচ হবে এক হাজার ১২৬ কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার ১০১ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (১২ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা হয়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বলেন, সুইজারল্যান্ডের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয় ৫৬২ কোটি ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৬০ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সুইজারল্যান্ডের একই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি ৫৬৪ কোটি ২৭ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকায় আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এর আগে ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সুইজারল্যান্ডের এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয় ৬২৪ কোটি ৪০ লাখ ২৪ হাজার ২৬ টাকা।

এছাড়া ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সুইজারল্যান্ডের একই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। সেসময় ব্যয় ধরা হয় ৬১৮ কোটি ২১ লাখ ১৯ হাজার ৪১৯ টাকা। এ এলএনজি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, চলতি বছরের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি এলপি থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৫৭৮ কোটি ৬৫ লাখ ২৫ হাজার ১২২ টাকা।

তার আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জাপানের জেরা কোম্পানি থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। সেসময় ব্যয় ধরা হয় ৬৯০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ৩১২ টাকা। মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) সই করা প্রতিষ্ঠান থেকে থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে খরচ ধরা হয় ১৬ দশমিক ৫০ ডলার।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) সই করা প্রতিষ্ঠান থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তারও আগে ২০২১ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি বছরের আগে পেট্রোবাংলা খোলাবাজার থেকে সর্বশেষ এলএনজি কিনেছিল গত বছরের মে মাসে। তখন প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়েছিল ২৬ ডলার ৪ সেন্ট।

জানা গেছে, এলএনজি আমদানির জন্য বেশ কিছু দেশের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। কিন্তু সরকার খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে এলএনজি আমাদিন করতে চাই। এজন্য ২০১৯ সালে খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানির লক্ষ্যে এমএসপিএ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে ২০২১ সালে জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও দুবাইয়ের চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে গত কয়েক বছর বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পেও নতুন সংযোগ বন্ধ রাখছে সরকার। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট বিবেচনায় ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল এলএনজি আমদানি শুরু করে সরকার। সামিট এলএনজি ও যুক্তরাষ্ট্রের এক্সেলারেট এনার্জির স্থাপন করা ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।




৩২৩ কোটি ডলারে ক্রেডিট সুইস কিনে নিচ্ছে ইউবিএস

সুইজারল্যান্ডের ক্রেডিট সুইস ব্যাংক কিনে নিচ্ছে দেশটির আরেক বৃহৎ ব্যাংক ইউবিএস। ৩২৩ কোটি ডলারে ১৬৭ বছরের পুরোনো ব্যাংক ক্রেডিট সুইসকে কিনে নিচ্ছে ইউবিএস। সেই সঙ্গে তারা ব্যাংকটির ৫৪০ কোটি ডলারে ক্ষতির দায়ও নেবে।

গত সপ্তাহে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক ক্রেডিট সুইস তারল্য বাড়াতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ঋণ নেয়। এরপরই জানা যায়, ক্রেডিট সুইসকে ইউবিএস এজির সঙ্গে একীভূত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় ইউবিএস ব্যাংক রোববার ক্রেডিট সুইসকে কেনার প্রস্তাব দেয়।

গত রাতেই জানা যায়, ইউবিএস প্রথমে মাত্র ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে ক্রেডিট সুইসকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিলে তারা রাজি হয়নি। পরে দাম বাড়িয়ে ৩২৩ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়। তাতে ক্রেডিট সুইস রাজি হয়।

এ ঘটনায় আজ সোমবার সকালে এশিয়ার শেয়ারবাজারে কিছুটা চাঙা ভাব দেখা যায়।

এক বিবৃতিতে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক জানিয়েছে, ইউবিএস আজ সোমবার ক্রেডিট সুইস ব্যাংক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে এবং সুইস অর্থনীতি রক্ষা পাবে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, তারা ইউবিএস ও ক্রেডিট সুইসকে ১০৮ বিলিয়ন ডলার বা ১০ হাজার ৮০০ কোটি ডলার তারল্য সুবিধা দেবে।

এ ঘটনায় ক্রেডিট সুইসের বন্ডহোল্ডাররা ক্ষতির মুখে পড়বেন। সুইজারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত, ক্রেডিট সুইসের ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার অভিহিত মূল্যের বন্ডের মূল্য শূন্য গণনা করা হবে। যদিও বন্ডহোল্ডাররা ভেবেছিলেন, শেয়ারহোল্ডারদের চেয়ে তাঁরা বেশি সুরক্ষা পাবেন।

এদিকে ইউবিএসের চেয়ারম্যান কেহেলার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ক্রেডিট সুইসের বিনিয়োগ ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাঁর আশা, ২০২৭ সালের মধ্যে তাঁরা ব্যয় কমাত পারবেন ৭০০ কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় ব্যাংক বন্ধ হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই সুইজারল্যান্ডের ক্রেডিট সুইস ব্যাংকের তারল্যসংকটে পড়ার খবর প্রকাশ পায়। সব মিলিয়ে গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাত আতঙ্কে কাটায়। বিশেষ করে শঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধ হওয়া দুই ব্যাংক ও ক্রেডিট সুসির শেয়ার ছেড়ে দিতে থাকেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরে ব্যাপক পতন ঘটে। এ রকম পরিস্থিতিতে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্যের জোগান দিয়ে ক্রেডিট সুসিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পাওয়ার খবরে ক্রেডিট সুসির শেয়ারদর বাড়লেও শুক্রবার আবার তাদের শেয়ারদর ৮ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৮৬ ফ্রাঁতে নেমে গেছে।