একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত সেই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে একজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিত ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন। তিনি বলেন, মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন। রায়ে সাইফুর রহমানকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া গ্রামের মো. তাহিদ মিয়ার ছেলে।

এ ছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অপর একটি ধারায় তাদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রবিউল হাসান ওরফে ইসলাম, মাহফুজ রহমান মাসুম, মো. আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল এবং মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার আগে বিচারক ৯১ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ পড়ে শোনান।

এর আগে গত ৮ জুলাই আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন নির্যাতিত তরুণী ও তার স্বামী, আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের এক অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববিবাহিত এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে কয়েকজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ডিএনএ পরীক্ষায় ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।




শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা সিলেটে

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সিলেট নগরীতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলবদ্ধতা। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা।

 

আজ শনিবার (৭ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের মতো সিলেটে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তিনদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ৩৫৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। সড়ক উপচে পানি ঢুকেছে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া নগরীর নিচু এলাকার প্রায় সব সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

শুধু শুক্রবার দিবাগত রাতের বৃষ্টিতে বিভাগের সবচেয়ে ব্যস্ততম চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

নগরীর আম্বরখানা-বিমানবন্দর সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া মেজরটিলা এলাকায় বৃষ্টির পানিতে অনেকটাই গৃহবন্দি হয়ে আছেন বাসিন্দারা।

নগরীর খাসদবির, চৌকিদেখি, কাজল শাহ, উপশহর, দরগাহ মহল্লা, বাগবাড়ি, কানিশাইল, লামাপাড়া, লালা দিঘিরপাড়, মাছুদিঘির পাড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকার দোকানপাট ও বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। শুধু এসব এলাকা নয়, নগরীর প্রায় সব এলাকার চিত্রই ছিল একইরকম। জলাবদ্ধ-কর্দমাক্ত সড়কে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথ চলা মানুষদের।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন জানান, আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৩৫৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় যার পরিমাণ ছিল ৫০ দশমিক ৮ মিলিমিটার। আগামীকাল রোববার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।