সিডিবিএল-কে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে ডিবিএ’র চিঠি

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-কে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

ডিবিএ’র সভাপতি সাইফুল ইসলামের সই করা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বরাবর তার কার্যালয়ে দাখিল করা হয়। একই চিঠির কপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যানকেও দেওয়া হয়।

শেয়ারবাজারে ইলেকট্রনিক সিকিউরিটিজ ট্রেডিং, বিতরণ, হস্তান্তর এবং সেটেলমেন্ট প্রক্রিয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছে সিডিবিএল। বিনিয়োগকারীদের বিও হিসেবের সব ধরনের তথ্য সিডিবিএল সংরক্ষণ করে।

চিঠিতে ডিবিএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিডিবিএল ২০০০ সালের ২০ আগষ্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তায় এবং জাতীয়করণকৃত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ (এনসিবি), ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ (পিসিবি), বিদেশি ব্যাংকসমূহ, মার্চেন্ট ব্যাংকসমূহ, পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিসমূহ, বীমা কোম্পানিসমূহ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অর্থায়নে গঠিত হয়। তাই স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো সিডিবিএল এর মালিকানায় রয়েছে।

সিডিবিএল গঠনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল প্রথমত পেপার সিস্টেম থেকে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে রূপান্তরিত করে বাংলাদেশের সিকিউরিটিজ মার্কেটকে আধুনিকীকরণ এবং সুবিন্যস্ত করে এর দক্ষতা বাড়ানো, ঝুঁকি হ্রাস এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাাড়ানো।

দ্বিতীয়ত, কোন ধরনের মুনাফালোভী উদ্দেশ্য ও মনোভাব ব্যতিরেকে স্টেকহোল্ডারদের সুবিধার জন্য কাজ করা এবং তৃতীয়ত, সিডিবিএলকে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করে বৃহত্তর জনসাধারণের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা।

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পার হয়ে গেলেও সিডিবিএল এখন পর্যন্ত স্টক এক্সচেঞ্জের অতালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এটি তার প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা থেকে বিচ্যুৎ। যদিও সিডিবিএল-এর আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে ইস্যুয়ার কোম্পানি, স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার, কাস্টোডিয়ান, বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনদের কাছ থেকে।

এমন অবস্থায়, সিডিবিএল যাতে তার প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারে এবং পুঁজিবাজারের অংশীজনদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মুনাফার অংশ ভাগ করে নিতে পারে, সেজন্য অবিলম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে এর তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটি, বিএসইসি ও ডিএসই’র হস্তক্ষেপ ও নির্দেশনা চেয়েছে ডিবিএ।




সিডিবিএলের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এর ২৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) অনলাইন প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিডিবিএল-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সম্মানীত আজম জে চৌধুরী । অনলাইন প্লাটফর্ম-এ উল্ল্যেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারহোল্ডারের উপস্থিতিতে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।

অনলাইন প্লাটফর্ম-এ অনুষ্ঠিত উক্ত সাধারণ সভায় সিডিবিল-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সৈয়দ মনজুর এলাহী, নাসের এজাজ বিজয়, মোঃ শাকিল রিজভী, একেএম হাবিবুর রহমান, মোঃ হারুন-অর-রশিদ, নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং সিডিবিএল-এর ভারপ্রাপ্ত ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মোতালেব উপস্থিত ছিলেন।




লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা কমাতে কমিটি করবে বিএসইসি

পুঁজিবাজারের বিদ্যমান শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির সময়কে আরও দ্রুত সমাধানে এবং বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টদের কাজ করার প্রক্রিয়াসহ সুবিধা-অসুবিধা ও ফলাফলের বিষয়ে ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি করবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

শনিবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সঙ্গে বিএসইসির এক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ, বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সব সদস্য, ডিএসইর এমডির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল, সিএসইর সিআরওর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ও সিডিবিএলের এমডির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে রাসেদ মাকসুদ বলেন, ‘পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কল্যাণের স্বার্থে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংস্কারের জন্য বিএসইসি কাজ করছে। সবার সঙ্গে সমন্বয় করেই বাজারের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের কল্যাণের কথা ভেবে বিএসইসি বাজারে মূলধনী আয়ের ওপর আরোপিত করহার কমানোর বিষয়ে সরকার ও এনবিআরের সঙ্গে কথা বলছে। বিষয়টি সমাধানে আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই বিষয়টিতে আমরা ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারব বলে আশা করছি।’

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, পুঁজিবাজারের সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমের উন্নয়নে বিএসইসি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমের আধুনিকায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

অনুষ্ঠিত সভায় সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কল্যাণের স্বার্থে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন পলিসি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পুঁজিবাজারের বিদ্যমান করনীতির প্রয়োজনীয় সংস্কার, পুঁজিবাজারের সার্ভেইল্যান্সের মান উন্নয়ন ও সার্ভেইল্যান্সের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনাসহ সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার সংস্কার ও পুঁজিবাজারের বিদ্যমান শেয়ার লেনদেনের সেটলমেন্ট সময়কে আরো দ্রুত করা ও বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য সুবিধাজনক করার বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।

বৈঠকে পুঁজিবাজারের অনিয়ম রোধে এবং কারসাজিকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে সার্ভেইল্যান্স কার্যক্রম আধুনিকায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বাজারদর কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিংসহ অন্যান্য অনিয়ম রোধকল্পে বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই সবার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সার্ভেইল্যান্স কার্যক্রম আরো শক্তিশালীকরণের বিষয়ে মত দেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে আরো গতিশীল করতে ও বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ আগ্রহী করতে বিদ্যমান করনীতির সংস্কার আনতে এবং করহার অধিকতর যৌক্তিকীকরণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত সবাই দেশের পুঁজিবাজারকে সংস্কার ও উন্নয়নের মাধ্যমে আরো ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে আলোচিত বিষয়গুলোয় দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং এটি শিগগিরই দেশের পুঁজিবাজারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




সিডিবিএল থেকে পদত্যাগ করেছেন নুরুল ফজল বুলবুল

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এর থেকে পদত্যাগ করেছেন আলোচিত ব্যবসায়ী নেতা একেএম নুরুল ফজল বুলবুল। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) নুরুল ফজল বুলবুল সিডিবিএলে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।

সিডিবিএল সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুসারে, পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন তিনি। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, গত ছয় মাস ধরে তিনি অসুস্থ। থাইল্যান্ডের সামিতিভেজ ব্যাংক হাসপাতালে তিনি প্রস্টেট ও কিডনির চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই হাসপাতালে সফলভাবে তার হার্টের অস্ত্রোপচারও হয়েছে উল্লেখ করেছেন তিনি।শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিশ্রামের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি আর সিডিবিএলের পরিচালনা পর্ষদে ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে ইচ্ছুক নন।

নুরুল ফজল বুলবুল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এর প্যাডে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি’র মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সিডিবিএলের পর্ষদে ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। টানা ১৩ বছর তিনি সিডিবিএলের পর্ষদে ছিলেন।

সিডিবিএল হচ্ছে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় ১৯৯৯ সালের ডিপোজিটরি অ্যাক্টের আওতায় সিডিবিএল গঠিত হয়।

 




বোনাস লভ্যাংশ বিওতে পাঠিয়েছে আইসিবি

পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রয়াত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশের শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ ২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশের শেয়ার সিডিবিএলের মাধ্যমে ৮ জানুয়ারি বিও হিসাবে পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, আলোচ্য বছরে আইসিবি ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ২.৫০ শতাংশ বোনাস ও ২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।




নভেম্বরে বিও’র সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে ৪ হাজার

চলতি বছরের নভেম্বর মাসে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের তুলনায় নভেম্বরে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ৬১ হাজার ৪৬টি। আর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৪টি। অর্থাৎ নভেম্বর মাসে ৪ হাজার ৫৭৮টি বিও হিসাব বেড়েছে।

গত অক্টোবর মাসের শেষ দিন পুরুষদের বিও হিসাব ছিল ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৮০১টি। নভেম্বর মাসে পুরুষদের বিও ৩ হাজার ৩৯৮টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২১ হাজার ১৯৯টি।

আর অক্টোবর মাসের শেষ দিন নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৫টি। নভেম্বর মাসে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ৯৮০টি বেড়ে ৪ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে।

নভেম্বর মাসে কোম্পানি বিও হিসাব ছিল ১৬ হাজার ৯৭০টিতে। আর অক্টোবর মাসে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৭৭০টি।

নভেম্বর মাসে দেশে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে। এর মাধ্যমে নভেম্বর মাসের শেষ দিন দেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৯৩ হাজার ১৬৫টিতে, যা অক্টোবর মাসের শেষ দিন ছিল ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ৭৭১টি।

নভেম্বর মাসে বিদেশে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৪৮৯টিতে। অক্টোবর মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৫৫ হাজার ৫০৫টি।




আগস্টে বিও হিসাব বেড়েছে সাড়ে ৪ হাজার

আগস্ট মাসে দেশের পুঁজিবাজারে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বেড়েছে ৪ হাজার ৫৯৬।

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শেয়ার ও বিও হিসাব সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড(সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সিডিবিএলের তথ্য মতে, দেশের পুঁজিবাজারে নারী ও পুরুষ বিনিয়োগকারীদের বর্তমান সংখ্যা ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬২১। যা গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ছিল ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ২৫।

বিনিয়োগকারীদের এক লাখ বিও হিসাব বাতিল

দুই প্রকার বিও হিসাবের মধ্যে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পুরুষ বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৪ হাজার ৩৭২ আর নারী বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৩০১। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা হচ্ছে ১৬ হাজার ৩৫২। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব ছিল ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ২৫।

সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার বেড়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগকারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬২১। এর মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীর বিও সংখ্যা ১৩ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ও নারী বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব ৪ লাখ ২৩ হাজার ২৫২। আর বাকি ১৬ হাজার ৪৬৮ টি হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিও হিসাব।




জুলাইয়ে বিও হিসাব কমেছে সোয়া লাখ

শেয়ারবাজারে অব্যাহত পতন এবং নবায়ন না করার কারণে চলতি বছরের জুলাই মাসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব কমেছে ১ লাখ ১৭ হাজারের বেশি। সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সিডিবিএল জানায়, জুন মাসের শেষ দিন শেয়ারবাজারে বিও হিসাব ছিল ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৪টি। আর বছরের জুলাই মাসের শেষ দিন বিও হিসাব ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ০২৫টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ জুলাই মাসে শেয়ারবাজারে থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৪৯টি বিও হিসাব কমেছে।

তথ্যমতে, জুলাই মাসে পুরুষদের বিও ৮৭ হাজার ০২৫টি কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ০৪ হাজার ৩৭২টিতে। জুন মাসের শেষ দিন পুরুষদের বিও হিসাব ছিল ১৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৭টিতে। আর জুলাই মাসে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ৩০ হাজার ২৩১টি কমে ৪ লাখ ২২ হাজার ৩০১টিতে দাঁড়িয়েছে। জুন মাসের শেষ দিন নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৩২টিতে।

জুন মাসের শেষ দিন কোম্পানি বিও হিসাব ছিল ১৬ হাজার ৮৪৫টিতে। আর জুলাই মাসে কোম্পানি বিও ৪৯৩টি কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩৫২টিতে।

জুলাই মাসে দেশে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারীদের ১ লাখ ১১ হাজার ২৮৩টি বিও হিসাব কমেছে। এর মাধ্যমে জুলাই মাসের শেষ দিন দেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৭১ হাজার ১৯৯টিতে। যা এপ্রিল মাসের শেষ দিন ছিল ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৪৮২টিতে।

জুলাই মাসে বিদেশে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারীদের ৫ হাজার ৯৭৩টি বিও হিসাব কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৪৭৪টিতে। জুন মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৬১ হাজার ৪৪৭টিতে।




বোনাস লভ্যাংশ পাঠিয়েছে ৩ ব্যাংক

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত ৩টি ব্যংকের ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশের শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১০ জুলাই) সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংক ৩টি হলো-ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড।

ব্যাংকগুলো ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশের শেয়ার সিডিবিএলের মাধ্যমে ৪ জুলাই বিও হিসাবে পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, আলোচ্য বছরে ঢাকা ব্যাংক ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ৬ শতাংশ বোনাস। ইউসিবি ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ বোনাস। আর এনআরবিসি ব্যাংক ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৪ শতাংশ বোনাস।




সিডিবিএল’র সার্বিক কার্যক্রম তদন্তে বিএসইসির কমিটি গঠন

পুঁজিবাজারের তথ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সার্বিক কার্যক্রম তদন্ত করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তথ্য পাচার করাসহ আরও বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিএসইসিতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসির ইন্সপেকশন, ইনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত তদন্তের আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, উপ-পরিচালক মো. বনি ইয়ামিন খান, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন, সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপক মো. দীন ইসলাম মোল্লা।

বিএসইসির জারি করা তদন্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পর্যবেক্ষণ করেছে যে, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) কর্মকর্তাদের সিকিউরিটিজ ট্রেডিংয়ে জড়িত থাকা, তথ্য পাচার করা এবং জাল একাডেমিক সার্টিফিকেট ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার বিষয়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কমিশন মনে করে যে, বিনিয়োগকারী এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে উল্লিখিত অপরাধগুলোর বিষয়ে সিডিবিএল’র সার্বিক কর্মকাণ্ড তদন্ত করা প্রয়োজন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে ডিপোজিটরি আইন, ১৯৯৯ এর ধারা ১৩ এর প্রদত্ত ক্ষমতা বলে বিএসইসি উপরোক্ত বিষয়গুলির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আর এ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বিএসইসি ও ডিএসইর কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছে। এ তদন্ত কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার। তদন্ত কর্মকর্তারা এই আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেবেন।

অভিযোগ আছে, নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে শেয়ারবাজারের সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান সিডিবিএল। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রয়েছে সার্ভার থেকে তথ্য পাচার ও জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরির অভিযোগ। অনুমতি ছাড়া সার্ভারে ঢোকার কারণে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির এক মহাব্যবস্থাপকসহ দুই কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। জাল সনদের কারণে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন চার কর্মকর্তা। তদন্ত চলছে আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে।

এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছিল। ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু চক্রের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অসাধুদের বিরুদ্ধেও। এসব কারণে বাজারের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গত বছরের ৩১ আগস্ট কোভিড-১৯, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, জ্বালানি–সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জাতীয় সংসদে আনা সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ডিএসইর ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান কাজী ফিরোজ রশীদ সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, শেয়ারবাজারের জিম্মাদার প্রতিষ্ঠান সিডিবিএল। কিন্তু যারা নিজেরাই শেয়ার কেনা-বেচা করে, তাদের কাছে যদি এই জিম্মাদার সিডিবিএল রাখা হয়, তাহলে অবস্থাটা কি দাঁড়াবে? শেয়ালের কাছে মুরগী ধার দিলে যা হয়, তাই দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে আমার কাছে কোন শেয়ার আছে, সেটা যদি ওই লোক (সিডিবিএলে জড়িত শেয়ার ব্যবসায়ী) জানে, তাহলে সে কালকে কোনটা কিনবে এবং কোনটা বেচবে, তার পজিশন নেবে। এজন্য বাজারে উত্থান-পতন হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সিডিবিএলে যারা আছে, তাদেরই শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে কেনা-বেচা হয়। এটা পৃথিবীর কোন দেশে হতে পারে না। এটা অনৈতিক। তাই সিডিবিএল বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে থাকা উচিত। কিন্তু যারা মার্কেটের সবচেয়ে বড় প্লেয়ার, তাদের কাছেই এটা (সিডিবিএল) দেওয়া হয়েছে। অতএব আজকে জবাবদিহিতা নাই।

প্রসঙ্গত, সিডিবিএলে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সার্ভার থেকে তথ্য পাচার ও জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি সংবাদে উল্লেখ করা হয়। এর প্রেক্ষিতেই সিডিবিএলের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।




বিওতে জমা ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের আইপিও’র শেয়ার

ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। গত ৮ মে (সোমবার) কোম্পানিটির আইপিওর শেয়ার সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা করা হয়।

সিডিবিএল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে ১৮ এপ্রিল ইলেক্ট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম (ইএসএস) এর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রো-রাটার ভিত্তিতে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ১০ হাজার টাকা আবেদনের বিপরীতে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা ৩৬টি শেয়ার এবং অনিবাসি বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা ৭২টি শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন। কোম্পানিটি ১ কোটি ৬০ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা উত্তোলন করে। ওই ১৬ কোটি টাকার বিপরীতে ৩০৫ কোটি টাকার আবেদন করেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে প্রতিটি শয়ারের বিপরীতে ১৯.০৭ গুণ আবেদন বেশি পড়ে।

জানা গেছে, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ গত ৩ থেকে ৮ এপ্রিল কোম্পানিটির আইপিও আবেদন গ্রহণ সম্পন্ন করে। এর আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৮৫৩তম কমিশন সভায় কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে ১ কোটি ৬০ হাজার শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা তুলবে। এই জন্য প্রতিটি শেয়ারের অফার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। উত্তোলিত অর্থ সরকারি ট্রেজারি বন্ড, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, এফডিআর বিনিয়োগ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করা হবে।

২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির একচ্যুয়ারাল ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট অনুযায়ী মোট উদ্বৃত্ত ৭৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পূর্বে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।




পুঁজিবাজারে কমছে বিদেশি বিনিয়োগকারী

সার্বিকভাবে দেশের শেয়ারবাজারে মন্দা বিরাজ করলেও চলতি মাসে স্থানীয় বা দেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে। মার্চের ২৬ দিনে পুঁজিবাজারে স্থানীয় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে আড়াই হাজারের ওপরে। তবে স্থানীয় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়লেও উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে। চলতি মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা প্রায় একশ কমে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন দাম) বেঁধে দেওয়ার কারণে শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এমন পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত নন। ফ্লোর প্রাইসের কারণে শেয়ারের দাম এক জায়গায় আটকে থাকছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। এতে বাজারের ওপর থেকে বিদেশিদের আস্থা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমেছে।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি শেষে শেয়ারবাজারে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ছিল ৬৩ হাজার ১২৫টি। সেই সংখ্যা এখন (২৬ মার্চ) কমে ৬৩ হাজার ৪৪টিতে নেমেছে। অর্থাৎ মার্চ মাসে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব কমেছে ৮১টি।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব কমলেও সার্বিকভাবে পুঁজিবাজারে বিও হিসাব বেড়েছে। বর্তমানে বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৪৯৪টি, যা ফেব্রুয়ারি শেষে ছিল ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯০৫টিতে। অর্থাৎ মার্চ মাসের ২৬ দিনে বিও হিসাব বেড়েছে ২ হাজার ৫৮৯টি।

সিডিবিএল-এর তথ্য মতে, গত এক মাসে পুরুষ ও নারী উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে কোম্পানি বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। বর্তমানে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব আছে ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭৪টি। ফেব্রুয়ারি শেষে এই সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৯৫ হাজার ১৬টি। অর্থাৎ মার্চ মাসে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের হিসাব ২ হাজার ৫৮টি বেড়েছে।

অন্যদিকে বর্তমানে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িছেছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭৮১টিতে। ফেব্রুয়ারি শেষে এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৩১৬টি। এ হিসাবে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ৪৬৫টি।

বর্তমানে কোম্পানি বিও হিসাব রয়েছে ১৬ হাজার ৬৩৯টি। ফেব্রুয়ারি শেষে এই সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৫৭৩টি। সে হিসাবে কোম্পানি বিও হিসাব বেড়েছে ৬৬টি।

বর্তমানে দেশি বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৮১১টি। যা ফেব্রুয়ারি শেষে ছিল ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ২০৭টি। অর্থাৎ দেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ২ হাজার ৬০৪টি।

পুঁজিবাজারে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব কমার কারণ হিসেবে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমবে এটা স্বাভাবিক। ফ্লোর প্রাইসের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমছে। ফ্লোর প্রাইস তুলে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

 

তিনি বলেন, ফ্লোর প্রাইস দিয়ে শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। বিদেশিরা এমন পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত নন। ফ্লোর প্রাইসের কারণে তারা এক্সিট নিতে পারছেন না। শেয়ার বিক্রি করতে না পারলে তারা কেন বিনিয়োগ করবে? এই অবস্থা চলতে থাকলে সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।