সিএমএসএফকে এক কোটি ২৫ লাখ টাকার লভ্যাংশ দিল আইসিবি

ক্যাপিটাল মার্কেট স্টেবিলাইজেশন ফান্ডকে (সিএমএসএফ) এক কোটি পঁচিশ লাখ টাকার লভ্যাংশ দিয়েছে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

সিএমএসএফের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান সিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে ওই টাকার চেক গ্রহণ করেন।

বুধবার (৮ মে) সিএমএসএফ’র থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহমুদা আখতারের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল ‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড’র ২০২৩ সালের লভ্যাংশ ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্টেবিলাইজেশন ফান্ডের (সিএমএসএফ) ব্যবস্থাপনা অফিসে যান। সিএমএসএফ উক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের (৫০ শতাংশ) পৃষ্ঠপোষক হিসাবে চেকটি গ্রহণ করে।

সিএমএসএফ এবং আইসিবি এএমসিএলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চেক গ্রহণ অনুষ্ঠানটি আইসিবি এএমসিএল এবং সিএমএসএফের মধ্যে চলমান অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে সংস্থাটি।




নির্বাচনের পর পুঁজিবাজারে গভর্নেন্স ফেরাতে আ‌রও কঠোর হবে বিএসইসি

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, পুঁজিবাজারে গভর্নেন্সের বিষয়ে চল‌তি মাস থেকেই কঠোর হওয়া শুরু করেছি। নির্বাচনের পর থেকে আরও কঠোর হব।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) ঢাকা ক্লাবে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) এবং ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিনা কারণে সরকারের যে বদনামগুলো হয় তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি। গুটিকয়েক লোকের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট বা মানি মার্কেটের দুর্নাম হবে, সেই দিন শেষ।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, সিএমএসএফ করার সময় চিন্তা করলাম, নতুন একটা প্রোডাক্ট নিয়ে এসেছি। আর আজ সেটা প্রমাণিত হয়েছে। যাদের এটার নেতৃত্বে দেওয়া হয়েছিল, তারা আজ এটা প্রমাণ করেছেন। আসলে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা সবার থাকে না।

তিনি বলেন, ডিআরইউ, ইআরএফ এবং সিএমজেএফের সঙ্গে আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছি। এখানে যেসব সাংবাদিক কাজ করেন তাদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়তই কথা হয়। যেসব সাংবাদিক ফোন দেন, আমরা সবার ফোন ধরি। আজ যে রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো, এবার তিনটা হয়েছে। আগামীতে প্রত্যেক ক্যাটাগরিতে তিনটা করে মোট ৯টা অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার জন্য আমি আয়োজকদের অনুরোধ জানিয়েছি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আরও ভালো রিপোর্ট চাই। আমরা গুজব চাই না। আপনাদের মধ্যে এরপরও কয়েকজন ঢুকে যায়। তারা গুজব ছড়ায়। আপনাদের মধ্যে যদি কেউ চলে আসে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মার্কেট, দেশ ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করে, তাদের আপনারাই থামাবেন। আপনারা অ্যাসোসিয়েশনই তাদের থামাবেন। যারা এবার পুরস্কার পেয়েছেন তাদের জন্য শুভ কামনা রইল। আর বাকি যারা রয়েছেন তারা আগামীতে চেষ্টা করবেন, যেন আরও ভালো রিপোর্টিং করতে পারেন। আপনারা যে কষ্ট করে এত তথ্য বের করে নিয়ে আসেন তা আমাদের খুব কাজে লাগে।

তিনি বলেন, আমরা এই মাস থেকে গভর্নেন্সে কঠোর হওয়া শুরু করেছি। নির্বাচনের পর তা আরও জোরদার করা হবে। বিনা কারণে সরকারের যে বদনামগুলো হয় তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি। গুটিকয়েক লোকের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট বা মানি মার্কেটের দুর্নাম হবে, সেই দিন শেষ।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আজ যারা পুরস্কার পেলেন তাদের প্রতি আবারও শুভেচ্ছা রইল। আর যারা জুরি বোর্ডে কাজ করেছেন, কষ্ট করেছেন তাদের প্রতিও অন্তরের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে সিএমএসএফ চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, আমরা সিএমএসএফ এবং সিএমজেএফের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফল আজকের এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। আজকের দিনটি উদযাপনের দিন। যারা তিনটি পুরস্কার পেলেন, তারা তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টা ও নিজস্ব যোগ্যতায় পেয়েছেন। জুরি বোর্ড অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে রিপোর্টগুলো যাচাই-বাছাই করেছে। আগামীতে ৯টি পুরস্কার দেওয়ার জন্য সিএমএসএফের বোর্ড অব গভর্নেন্সও চিন্তা করেছিল। তবে এবার ৩টি দিয়েই আমরা শুরু করেছি। আগামীতে ৯টি পুরস্কার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সিএমএসএফ সম্প্রতি ইউরোপে একটি ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্ট সেমিনারে গিয়েছিলাম। সেখানে জার্মান ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের উদ্যোক্তারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি বেলজিয়াম থেকে একজন উদ্যোক্তা সিএমএসএফ পরিদর্শনে এসেছিলেন। আমরা আশা করছি আগামীতে আরও অনেক উদ্যোক্তা আসবেন।

এবার ইলেকট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক গোলাম ময়নুল আহসান। অনলাইন মিডিয়া ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল অর্থসংবাদ ডটকমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এসএম জাকির হোসেন। প্রিন্ট মিডিয়া ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম হারুন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিএসইসি কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, স্বাগত বক্তব্য দেন সিএমএসএফের বোর্ড অব গভর্নেন্সের সদস্য ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কী নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন সিএমজেএফ সভাপতি জিয়াউর রহমান। এছাড়া সিএমজেএফের সাধারণ সম্পাদক আবু আলীসহ পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।




সিএমএসএফ’র আকার দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের (সিএমএসএফ) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান বলেছেন, সিএমএসএফ পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি উদ্ভাবন। এর আকার এক হাজার ২৭০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের অবণ্টিত ও দাবিহীন নগদ লভ্যাংশের ৭১০ কোটি টাকা। আর বোনাস ও রাইট শেয়ারের মূল্য প্রায় ৫৬০ কোটি টাকা। গত বছর এ ফান্ডের পরিচালন ব্যয় মিটিয়ে আরও নয় কোটি টাকা যুক্ত করা হয়েছে। এবছর তার চেয়েও বেশি টাকা এ ফান্ডে যুক্ত হতে পারে।
রোববার (৩০ জুলাই) ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর পল্টনে সিএমজেএফ কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু আলী।

নজিবুর রহমান বলেন, সিএমএসএফ পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি উদ্ভাবন। এতদিন নানা কারণে অনেক বিনিয়োগকারীর প্রাপ্য লভ্যাংশ এবং বোনাস ও রাইট শেয়ার আটকে ছিল। সিএমএসএফ গঠিত হওয়ায় তাদের এ টাকা বুঝে পাওয়ার সহজ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সিএমএসএফ এর তহবিলের আকার বাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যেসব কোম্পানি গত ৩০ জুনের মধ্যে অবণ্টিত লভ্যাংশ ও শেয়ার এ ফান্ডে স্থানান্তর করেনি, তাদের দুই শতাংশ হারে সার চার্জ দিতে হবে। এছাড়া আগামীতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ বিতরণের দায়িত্বও সিএমএসএফের ওপর অর্পণ করার পরিকল্পনা করছে বিএসইসি। তাতে সার্ভিস চার্জ বাবদও এ প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়বে।

নজিবুর রহমান বলেন, সিএমএসএফের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১১৭০ জন বিনিয়োগকারীকে তাদের প্রাপ্য লভ্যাংশের টাকা ও শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নগদ অর্থ পেয়েছেন প্রায় ৮০০ জন এবং শেয়ার পেয়েছেন ৩৭০ জন বিনিয়োগকারী।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ ও বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এ ফান্ডটি গঠিত হয়। এ ফান্ড থেকে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার জন্য আইসিবির মাধ্যমে ২৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের যে সম্ভাবনা রয়েছে তা, এখন সফল না হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ আজ খারাপ কাল তো খারাপ নাও থাকতে পারে। আগামী দিনের সুন্দর পুঁজিবাজারের জন্যই আমরা সবাই কাজ করছি, হয়তো তার জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে। আমরা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উন্নয়নে ইটিএফ চালু করতে কাজ করছি। ইতোমধ্যে আমাদের কাছে তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাবনা নিয়ে এসেছে। আমরা আলোচনা করে এটি চালু করতে কাজ করছি। পুঁজিবাজার সংক্রান্ত সাংবাদিকতার উন্নয়নে সিএমজেএফের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সেরা রিপোর্টারদের অ্যাওয়ার্ড দেবে সিএমএসএফ।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আরও ভালো সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সিএমএসএফ একটি আধুনিক সফটওয়্যার তৈরি করছে।

ব্যাংক কোম্পানির অবণ্টিত লভ্যাংশ সিএমএসএফে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক আপত্তি তুলেছিল। বিষয়টি এখন কি পর্যায়ে আছে? সাংবাদিকদের এমন আর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এ মুখ্য সচিব বলেন, আমি সচিব মহোদয়কে চিঠি দিয়েছিলাম, আপনার মন্ত্রণালয়ের এ প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আছে। তাদের কাছে সিএমএসএফ’র এ টাকাগুলো বা শেয়ারগুলো আছে ফেরত দেন। তার পরেই তারা কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেন। কোম্পানিগুলো সরাসরি এসে প্রত্যেকেই সেই শেয়ার ও টাকা ফেরত দেন।

তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলেছে- সিএমএসএফ’র রুলস ও নিয়মানুযায়ী তাদের হাতে শেয়ার এবং ক্যাশ দেন। রূপালী ব্যাংক এবং আইসিবিকে তারা নির্দেশ দেন। এটা হচ্ছে সিএমএসএফ’র কার্যকারিতা এবং বাস্তবতার প্রতি সরকারের সমর্থন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটা অবস্থান নিয়ে ছিল, এটা আমরা সবাই জানি। বাংলাদেশ ব্যাংক মানি মার্কেটের রেগুলেটর এবং বিএসইসি ক্যাপিটাল মার্কেটের রেগুলেটর। তারা এ বিষয়ে নিরন্তর আলাপ-আলোচনা করছে। আমার ধারণা দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কনসার্ন (সচেতন) ছিল যেন আমানতকারীদের কোনো ফান্ড এদিকে না আসে এবং বিএসইসির কনসার্ন ছিল বিনিয়োগকারীদের কোনো ফান্ড যাতে ঝুলন্ত অবস্থায় না থাকে। বিষয়টি নিয়ে অগ্রগতি হচ্ছে।

নজিবুর রহমান বলেন, সিএমএসএফ’র বর্তমান যে আইনি কাঠামো আছে, তার আলোকে আমরা কাজ করছি। সেই কাজে কেউ বাধা দিচ্ছে না। সবাই বলছেন- এ ফান্ডটা খুবই দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিএসইসির মধ্যে নিয়মিতভাবে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, পুরো পুঁজিবাজারের মঙ্গলের জন্য। নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর তার যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তার দ্বারা আমরা অনুপ্রাণিত হচ্ছি।




বিনিয়োগকারীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেবে সিএমএসএফ

পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দূর করতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন তহবিল (সিএমএসএফ) থেকে বিনিয়োগকারীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিএমএসএফ থেকে বড় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে সংস্থাটি।

বিএসইসির সর্বশেষ কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এই সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের জন্য সুখবর বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, পুঁজিবাজারে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা আস্থার সংকট রয়েছে। আস্থার ও তারল্য সংকট কাটাতে সিএমএসএফের অলস অর্থকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এখান থেকে বড় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে ঋণ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সিএমএসএফের তহবিলে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। সেখান থেকে সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মাধ্যমে বাজারে কিছুটা বিনিয়োগ হয়েছে। বাকি প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যাংকে এফডিআর করা আছে।

পুঁজিবাজারে তারল্য দূর করতে বাকি ৩০০ কোটি টাকা স্বল্প সুদে ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে যেসব ব্রোকারেজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তারাই কেবল ঋণ পাবে। এই ঋণে ৬ মাস থেকে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড (এই সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে হবে না) ধরা হতে পারে। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকার মতো পাবে।

হাউজগুলোকে নিজস্ব তহবিল থেকে আরো ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তবে ঋণ পাওয়ার জন্য যেসব ব্রোকারেজ হাউজের মালিকপক্ষের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েছে, ওইসব কোম্পানি থেকে গ্যারান্টি দিতে হবে। এছাড়াও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল প্রতিষ্ঠান থেকে গ্যারান্টি দিতে হবে। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান ঋণ নেবে, তাদের ঋণের টাকা অবশ্যই ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে হবে। অর্থাৎ শক্তিশালী মৌলভিত্তির বাইরে দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যাবে না।